সিলেট: কলগার্লসহ জনতার হাতে আটক হয়েছেন সিলেটের গোয়াইনঘাট থানার ওসি। এসময় জনতার রুদ্ররোষ থেকে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যান থানার একজন উপ-পরিদর্শক। এ ঘটনায় পরবর্তীতে ওই ওসিকে ক্লোজড করেছে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ।
গোয়াইঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইফতেখার আহমদ চৌধুরী বাংলানিউজকে এ খবর নিশ্চিত করে জানান, সন্ধ্যায় কলগার্লসহ ওসি মোকসেদুলমোমীনকে আলীরগাঁও ইউনিয়নের লামাকোঠা পাড়ায় জনতা একটি সিএনজি অটোরিক্সা থেকে আটক করেন। এসময় প্রায় এক ঘণ্টা জনতার হাতে আটক ছিলেন ওসি।
রাত ১১ টায় বাংলানিউজকে এ খবরটি জানানোর সময় তিনিও থানায় অবস্থান করছেন বলে জানান তিনি।
গোয়াইঘাট উপজেলা চেয়ারমান আব্দুল হাকিম চৌধুরী বাংলানিউজকে বলেন, ওসিকে কলগার্লসহ আটক করে তাকে খবরটি জানান আটককারীরা। বিষয়টি পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও জানানো হয়।
থানা পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র বাংলানিউজকে জানায়, প্রায়ই কলগার্ল সহ রাত যাপন করেন ওসি মোকসেদুল। বিষয়টি জানতে পারে ঢাকায় অবস্থানরত তার স্ত্রী। প্রমাণস্বরুপ নিজে বিষয়টি সরাসরি দেখার জন্য ঢাকা থেকে না জানিয়ে বিকেলে গোয়াইনঘাট থানা সংলগ্ন ওসির বাসায় গিয়ে হাজির হন তার স্ত্রী। সেখানে তিনি তার স্বামীকে কলগার্লসহ দেখতে পান ।
স্বামীর এ অবস্থা দেখে এ সময় ঢাকা থেকে আসা তার স্ত্রী কান্নাকাটি শুরু করেন। বিষয়টি থানা পুলিশ ছাড়াও স্থানীয়রা জানতে পারেন। এরপরই সিএনজি অটোরিক্সা যোগে থানা ত্যাগ করে গোপনে সিলেট শহরে আসার পথে জনগণ তাকে আটক করে।
এ ঘটনায় সম্পর্কে জানাতে চাইলে সিলেট জেলা পুলিশ সুপার শাখাওয়াত হোসেন বাংলানিউজকে জানান, বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত হওয়ায় ওসি মোকসেদুলকে ক্লোজড করা হয়েছে। তার স্থলে এখন গোয়াইনঘাট থানায় দায়িত্ব পালন করছেন পরিদর্শক কামরুল ইসলাম।
তিনি আরও জানান, তার বিরুদ্ধে শিগগিরই বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে রাত ১১ টায় মোবাইলফোনে ওসি মোকসেদুলকে ঘটনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি এ ঘটনা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। বিষয়টি নিয়ে তিনি কিছুই জানেন না বলেও জানান বাংলানিউজকে।
গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, ওসির স্ত্রী নিজেই বিষয়টি সনাক্ত করেছেন।
বাংলাদেশ সময়: ০১০৮ ঘণ্টা, মে ২৮, ২০১২
সম্পাদনা: রাইসুল ইসলাম, নিউজরুম এডিটর