 |
বিমূর্ত ক্যানভাসে আঁকা আবছায়া অন্ধকার মলাটে মোড়া কথাকার আনোয়ারা সৈয়দ হকের উপন্যাস ‘ব্যবহৃতা’। বইটির বিষয় আগেই জানতাম কিন্তু বিষয়বস্তু জানতাম না তাই উপন্যাসের ভিতরে প্রবেশ করার আগে ভেবেছিলাম লিও তলস্তয়ের ‘রিজারেকশন’ ফ্লবেয়ারের ‘মাদাম বোভারি’ বুদ্ধদেব বসুর কাব্যনাট্য ‘তপস্বী ও তরঙ্গিনী’ কিংবা আমাদের জনপ্রিয় ধারার ঔপন্যাসিক হুমায়ুন আহমেদের ‘নিরন্তর’এর মতো মানুষের এক সত্তা থেকে আরেক সত্তায় উত্তরণের কোনো চমকপ্রদ দর্শন, বিশ্ববিজিত ভাবের ঊন্মেষ, নারীজীবনের অন্তহীন ক্লেদাত্মক অনুরণন কিংবা সমাজের দলিত নারীর হিস্যা আদায়ের কোনো স্মারক হয়তো পাব। কিন্তু বইটির পাতা উল্টাতেই চোখে পড়ল তিন লাইনের একটি ভূমিকা, যেখানে লেখিকা উল্লেখ করেছেন ‘ব্যবহৃতা’ মূলত একটি সমীক্ষা উপন্যাস।’ যদিও জীবনের মতো উপন্যাসের নির্দিষ্ট কোনো রূপকল্প নেই তবুও উপন্যাসে মানুষ পেতে চায় জীবনের পূর্ণাঙ্গ রূপ। ব্যবহৃতার রূপকল্প প্রথাগত উপন্যাসের নয়। একটু স্বতন্ত্র। হয়তো উপন্যাস বলে কেউ ভুল করতে পারেন সেজন্য লেখিকা প্রথমেই উল্লেখ করে দিয়েছেন এর প্রকার।
২৫টি পরিচ্ছেদে বিভক্ত উপন্যাসটি কতগুলো টুকরো গল্পের একত্রীকরণ বললে ভুল হয় না। গল্পগুলো দেহজীবী, দেহব্যবসায়ী, বারবনিতা, যৌনকর্মী, পতিতা, আদিম শ্রমজীবী কিংবা ব্যবহৃতাদের। লেখিকা ব্যবহৃতা শব্দটি দুবার ব্যবহার করেছেন উপন্যাসের শেষে। কিছুটা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেছেন যৌনকর্মী বলতে। কিন্তু ফুলকে যে নামেই ডাকি ফুল সুন্দর। নারীও ফুল। নারীফুল। সেও সুন্দর। অন্তত পুরুষের কাছে। ফুলের মতো তার আছে মধুলোভী মৌমাছি কিংবা ভ্রমরকে আকর্ষণ করার রংবেরঙের রং-ঢং-জবড়জং। কিন্তু নারী- যারা লেখিকার ভাষায় ব্যবহৃতা তাদের যে নামেই বিশেষায়িত করি তারা নারী নয়; সমাজের সবচেয়ে ঘৃণা, অবজ্ঞার পাত্রী- তারা বেশ্যা। এই শব্দটি ব্যবহার না করলে পুরুষতান্ত্রিক সমাজ বোধ হয় স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে না। আমরা যখন বেশ্যা বলি তখন তার মাঝ থেকে ‘মা’, ‘বোন’ ‘নারী’ হারিয়ে যায়। এটিই বোধ হয় সবচেয়ে নিকৃষ্টভাবে নারীকে প্রকাশ করার শব্দ। লেখিকা শব্দটি একবারও ব্যবহার করতে কুণ্ঠিতবোধ করেছেন। কিন্তু যে নামটি অনেকবার ব্যবহার করতে পারতেন সেটি ব্যবহৃতা। যদিও তাতে নারীর সম্মান বহুলাংশে বাড়ত না। ঈশ্বর যদি থেকে থাকেন তবে তিনি পুরুষের জন্য সৃষ্টি করেছেন পৃথিবী; নারীর জন্য পৃথিবী-স্বতন্ত্ররা। যেখানে ‘মা’ ছাড়া ভালো কিছু পাই না। ঈশ্বর নিয়ন্ত্রিত পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীর হিস্যা আদায় কঠিন। কারণ সৃষ্টির শুরুর গল্প নারীর অবস্থান নির্দেশ করে দিয়েছে অনেকটাই। আলোচ্য উপন্যাসটি এসব অনেক প্রশ্নের উত্তর।
সৈয়দ হক নিজেই উপন্যাসটির কথক। অগ্রসরমান পথের সারথিও তিনি। রাজধানীর উত্তরাঞ্চলের একটি হোটেলের আটতলায় কাচঘেরা ঘরে বসে বর্ণহীন কাচের মাঝে অন্যরকম রঙিন জীবন দেখছেন। বারো বছর বয়সী মেয়ে নদীর সঙ্গে তাঁর প্রথম কথা। প্রসঙ্গ তুমি এখানে এই পেশায় কেন এসেছ? কীভাবে এসেছ? তোমার কীভাবে চলে? কোথায় থাক? ইত্যাদি ইত্যাদি। এরপর পাপিয়া, উর্মি, শিউলি, বকুল, শুক্লা, সূর্যমুখীদের প্রায় একইরকম টুকরো কাহিনী লেখিকা বর্ণনা করেছেন। সঙ্গে তাদের অভিযোগ, পাওয়া না পাওয়ার আকুতি, কিছু মৌলিক প্রশ্ন এবং মতামত উত্থাপন করেছেন। যেমন, বেশ্যা নামের চেয়ে যৌনকর্মী কি ভালা নাম না? একজন যৌনকর্মী লেখিকাকে এই প্রশ্ন করলে জবাবে তিনি বলেছেন
“...বরং আমি তোমাদের ডাকব আদিম শ্রমজীবী বলে। বস্তুত যৌন জীবিকাই নারীর আদিম শ্রম। এবং এই শ্রমের মাধ্যমে যে পেশার সৃষ্টি তার সফলতা আসে পুরুষের মনোরঞ্জন দিয়ে। নারীর যতটুকু ক্ষমতার স্বাদ, তা হলো নিজের যৌনতা দিয়ে পুরুষকে বশীভূত করে রাখা। এবং একই ভাবে নিজের জীবন এবং অস্তিত্ব বাঁচিয়ে রাখা। নারী খুব দুঃখের সঙ্গে হলেও, এখন স্বীকার করতে বাধ্য যে পুরুষের আগ্রাসী মনোভাবের সাথে তার আপস করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।”
আর পুরুষ সম্পর্কে বহুকথিত কথাটিই আবার বলেছেন যে, “পুরুষ নিজ ঘরের নারীর সতীত্ব সম্পর্কে একশ ভাগ সচেতন, কিন্তু নিজের সতীত্ব নিয়ে তার মাথাব্যথা নেই।”
এই বক্তব্যের সত্যতা লেখিকা অনেকবার প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন টুকরো সমীক্ষাগুলোর মাধ্যমে।
অষ্টম পরিচ্ছেদ পর্যন্ত লেখিকা ব্রথেল, বিদেশী সংস্থার খোলা হেলথ সেন্টার প্রভৃতি স্থানে নিজে গিয়েছেন, সরাসরি কথা বলেছেন যৌনকর্মীদের সঙ্গে, অন্তরঙ্গ আলাপে তুলে এনেছেন তাদের অনেক অজানা ক্ষোভ, অভাব-অভিযোগ, দুঃখ-কষ্ট-যন্ত্রণার কথা। নবম পরিচ্ছেদ থেকে প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে নারীর উত্থান-পতনের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস বর্ণনা করেছেন। তারপর বিস্তর অংশ জুড়ে আছে ব্রথেল নিয়ে কাজ করা এক নারীর কেসহিস্ট্রির কথা। যেগুলো লেখিকা আবার সরাসরি তুলে ধরেছেন পাঠকের সামনে। লেখিকা বলছেন-
“সত্যিকথা বলতে এই মহিলার লেখা কেসহিস্ট্রিগুলো পড়েই আমি আরও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা অর্জনের আশায় এইসব মেয়ের জীবন সম্পর্কে উৎসাহিত হই। ....পতিতা এই মেয়েগুলোর সাথে মিশে আমি দেখার চেষ্টা করেছি তাদের জীবন এবং আদতেই তারা কোনো সামাজিক ব্যধিতে ভোগে কি না। নতুবা কী সেই কারণ যা তাকে পতিতাবৃত্তিতে সারাজীবন নিয়োজিত রাখে?”
এখানেই লেখিকার প্রকৃত উদ্দেশ্য স্পষ্ট। যে উদ্দেশ্য নিয়ে লেখিকা কাজ শুরু করেছিলেন তা অনেকটাই সফল বলা যায়। তাঁর নিজের সমীক্ষা এবং কবিতা ইসলাম নামক আরেক গবেষকের কেসহিস্ট্রি থেকে কতকগুলো বিষয় স্পষ্ট। বিষয়গুলি হলো কোন শ্রেণীর নারীরা এই পেশায় আসে, কেন আসে, কীভাবে আসে, আসার পরে তাদের অনুভূতি, কোন শ্রেণীর পুরুষ সেখানে যায়, সেইসব পুরুষদের আচরণ, কারা এইসব ব্যবসা চালায়, আমাদের প্রশাসনের ভূমিকা সেখানে কী, যৌনকর্মীদের বাসস্থান, তাদের ভবিষ্যৎ ভাবনা, চিকিৎসাব্যবস্থা, তারা কী ধরনের রোগে ভোগে, তাদের খাবার সাজ-পোশাকের তালিকা, বিদেশের প্রেক্ষাপটে তাদের অবস্থান ইত্যাদি। তবে এসব প্রশ্নের অনেক ভয়াবহ উত্তর বেরিয়ে এসেছে। যেগুলো জানলে আমাদের অনেকে সম্মুখীন হতে পারে বিব্রতকর পরিস্থিতির। শুধু ঢাকা নয়, দক্ষিণাঞ্চলেও লেখিকা পাড়ি জমিয়েছেন এসব জানার জন্য। কিন্তু আমরা সেখানকার যৌনকর্মীদের স্বতন্ত্র সাক্ষাৎকার পাই না। তবে সে অঞ্চলের সার্বিক একটি অবস্থাও জানা যায়।
পতিতদের জীবন নিয়ে ঘাটাঘাটি করতে গিয়ে সৈয়দ হক অনেক সাহসী প্রশ্ন তুলেছেন, বলেছেন অনেকের জন্য অস্বস্তিকর অনেক কথা। বইটির প্রান্তসীমায় পৌঁছে লেখিকা সেই কেসস্টাডিকারী কবিতা ইসলামের সঙ্গে কথোপকথনের এক পর্যায়ে কবিতা বলেন-
“বিয়ের রাতে আমার স্বামীর ভেতরে আমি সেই জড়তা দেখিনি। কেন দেখিনি ? তাহলে কি তিনি এইসব আদিম শ্রমজীবীদের ঘর ঘুরে আসা একজন পুরুষ? সমাজের এইসব ব্যবহৃতা নারী কি আমি তার জীবনে আসার আগেই তাকে সঙ্গ দিয়েছিল? অন্য অর্থে আমি নিজেও কি একজন পুরুষের দ্বারা ব্যবহৃতা, যে পুরুষটি ভাগ্যচক্রে আমার স্বামী?”
এরকম আরো অনেক তথ্য যেমন আমাদের অস্বস্তিকর অবস্থায় ফেলতে পারে তেমন অনেকে অপ্রস্তুত হয়ে যাবেন অনেক তথ্যে। তথাকথিত সুশীল বা সভ্য সমাজ বসতে পারেন নড়েচড়ে। অবাক করার মতো আরো কয়েকটি তথ্য হলো লেখিকা যেসব কেসস্টাডির উল্লেখ করেছেন সেগুলো থেকে জানা যায় ইদানীং মেয়েদের এই পেশাতেও নাকি ভাগ বসিয়েছে উঠতি বয়সী ছেলেরা। ছেলেগুলি আবার অধিকাংশ তাদেরই। অনেক কাস্টমার নাকি এখন ছেলে খোঁজে। কেউ কেউ আবার চায় গর্ভবতী নারী। এসব কাস্টমারদের কাছ থেকে অধিক পারিশ্রমিক বা কাস্টমার বেশি পাওয়ার জন্য নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গর্ভবতী অবস্থায় অনেক মেয়ে কাজ চালায়। শহরের অনেক অভিজাত এলাকার কাস্টমার নাকি বেশ আছে বলে জানা যায়। তাদের কেউ কেউ নাকি বিদেশ যাত্রার সফরসঙ্গী করে যৌনকর্মীদের। আরো জানা যায় এই অভিজাতশ্রেণীর অনেক নারী বোরকা পরে গাড়ি নিয়ে এসে পতিতাপল্লীর নারীদের সঙ্গে মিশে গিয়ে কাজ মিটিয়ে পারিশ্রমিক না নিয়ে চলে যায়। তাদের উদ্দেশ্যটা নিশ্চয় বলার দরকার নেই। আর্মি অফিসার, পুলিশ, হুজুর, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সবাই এখানে আসে বলে লেখিকা তাঁর নিজের সমীক্ষা এবং কবিতা ইসলামের কাছ থেকে পাওয়া কেসস্টাডিগুলোর বরাতে জানা যায়। কিছু ব্যতিক্রমী কর্মীর সঙ্গেও লেখিকা পরিচয় করে দিয়েছেন। যেমন একজন স্বসচেতন মেয়ে পারভিন। সে সচেতনভাবেই পর্দা করে আবার রুজিরোজগারের তাগিদে কাজ করে যৌনকর্মী হিশেবে। তার যুক্তি হলো :
“আপা পর্দা হলো ফরজ। আর রুটি রুজির জন্য পরিশ্রম করাও ফরজ। আমি দুটোই করি। আর আল্লাহ তো অনেক ক্ষমাশীল। তিনি নিশ্চয় আমারে শাস্তি দিবার আগে আমার কাস্টমারদের শাস্তি দিবেন।”
অনেক অজানা তথ্য হয়তো আমরা বইটি থেকে জানতে পারবো, কিন্তু দু একটি বিষয় নিয়ে আমার মতো অন্যান্য পাঠকেরও হয়তো ভাবনার উদ্রেক হতে পারে। প্রথমত এটিকে উপন্যাস বলা যাবে কি না? অনেকগুলি সমীক্ষা, যেগুলোকে খ- গল্প বা ঘটনাও বলা যায় সেগুলোর একত্রীকরণ কী উপন্যাস হতে পারে? আমার এ বিষয়ে একটু দ্বিধা আছে। আর যদি ভবিষ্যতে এটি উপন্যাসের স্বীকৃতি পায় তবে নিঃসন্দেহে ব্যবহৃতা হবে তার পথিকৃৎ।
ভাষা উপন্যাসের একটা গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। লেখিকা যে বিষয় নিয়ে কাজ করেছেন এই সমাজের ভাষা হতে পারতো গবেষণা কিংবা সমীক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। হয়তো ভবিষ্যতে এ বিষয় নিয়ে বড়ো কোনো কাজ ভবিষ্যতে হবে। কিন্তু উপন্যাসের পাত্রীদের ভাষার মধ্যে অনেক অসঙ্গতি আছে বলে আমার মনে হয়েছে। দুএকটি উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি স্পষ্ট করা ভালো। যেমন, বারো বছরের মেয়ে নদীর সঙ্গে লেখিকা যখন প্রথম কথা বলছেন তখন মেয়েটি কথা বলছে প্রমিত উচ্চারণে। তার প্রথম কথা, এখানে আপনি কেন এসেছেন? তারপর সে আরো বলছে-
“আমি তো আসিনি প্রথমে। আমাকে একটা লোক নিয়ে এসেছে। সে আমার গ্রামে গিয়ে আমার বাবা-মাকে বলে যে শহরে নিয়ে এসে আমাকে সে বাসাবাড়িতে চাকরি দেবে। তারপর চাকরি দেওয়ার নাম করে আমাকে এইসব কাজ করতে বলে। আমি তো রাজি হইনি প্রথমে, তো তাতে কী! যা করতে হবে তা তো করতে হবেই।”
ব্রথেলে কাজ করা গ্রামের একটি মেয়ে কী এই ভাষায়, এতো গোছালোভাবে কথা বলতে পারে? একটা প্রশ্ন থেকেই যায়। আবার বিএ পাস মেয়ে রোজী বলছে-
“যাইতেছি ওই কুত্তাগো ওইহানে। আল্লা তো ওগো কাছে সব ট্যাকা-পয়সা জিম্মা দিয়া রাখছে। তাই তাগো থনে ট্যাকা উদ্ধারে যাই।”
বিএ পাস হলেও এই মেয়েটির ভাষা স্বাভাবিক বলে ধারণা করি। কারণ সে ব্রথেলে কাজ করে। যদিও লেখিকা তাদের ভাষা সম্পর্কে গ্রন্থের একস্থানে বলেছেন তারা সাধু ও চলিত ভাষা মিশিয়ে কথা বলে। সেটা হতে পারে। তবে এখানে বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়। এছাড়া যৌনকর্মীদের মুখে অরগানাইজেশন, রিনিউ, সিকিউরিটি, স্ট্রিপল্যান্ড, আইডেনটিটি প্রভৃতি শব্দ সঠিক উচ্চারণে সম্ভব কিনা আমার জানা নেই।
বইটি অনেক তথ্যবহুল তাতে সন্দেহ নেই। লেখিকা পরিশ্রম করেছেন অনেক। পাঠক নিঃসন্দেহে জানতে পারবেন অনেক অজানা চাঞ্চল্যকর তথ্য। অনেক সময় হয়তো চোখ ভিজে যাবে; আবার মাঝে মাঝে ঘৃণায়, ক্লেদে, ক্ষোভে, লজ্জায় ক্ষুব্ধ হবেন। সমাজের কাছে অবনত হবে মাথা। ভাবনার জগতকে প্রসারিত করবে। মানুষ, মানবতা, মানবধর্ম- মননে উৎসারিত করবে নবচেতনা। রাতের মানুষ দিনের মানুষ, আলো-আঁধারির মানুষের স্বাতন্ত্র্য ছেঁকে নিতে পারবেন অনেকে। তবে বইটিতে এমন অনেক গল্প ছিলো যেগুলোর যেকোনো একটি হয়ে উঠতে পারে কিংবা পারতো একটি বৃহৎ উপন্যাস। উপন্যাসটির মানুষগুলো একই, প্রচ্ছদগুলো আলাদা। ভিতরের কাহিনীগুলো একে অন্যকে পাশ কাটিয়ে, কখনো গাঘেঁষে চলে গেছে। কতকগুলোকে অবলীলায় এড়িয়ে যাওয়া যেত। যাই হোক লেখিকা প্রয়োজন মনে করেছেন বলেই রেখেছেন। পাঠক বইটি পড়বেন।
শিবু কুমার শীল-এর নান্দনিক প্রচ্ছদে বইটি প্রকাশ করেছে ‘শুদ্ধস্বর’ প্রকাশনী। বিনিময় মূল্য : ২২৫ টাকা।
বাংলাদেশ সময় : ১৫১২ ঘণ্টা, ২০ ডিসেম্বর ২০১২
এমজেএফ-pageeditor@banglanews24.com