 |
| ছবি: রাজীব/বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
ঢাকা: বাবা-মায়ের হাত ধরে ছোট্ট শিশু অমিত এসেছে ঢাকা শিশু পার্কে। চারটি রাইডে ওঠার পর তার বিনোদনে আঘাত হানল ঈদের আনন্দকে ম্লান করে দেওয়া বৃষ্টি। তারপরও সে বাকি রাইডগুলোতে চড়ার বায়না ধরেছিল। কিন্তু বাবা-মায়ের না। কারণ, ঠাণ্ডা লেগে যাবে।
সোমবার বিকেলে এ রকমই অবস্থা ঈদে খোলা থাকা প্রায় প্র্রতিটি বিনোদন কেন্দ্রে। ফাঁকা নগরীতে ঈদের দিনে বিনোদনের জন্য যারা বের হয়েছেন, তারা পড়ছেন চরম ভোগান্তিতে। ঈদের সকাল থেকেই রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে উপচেপড়া ভিড়। কিন্তু বৃষ্টি ও যানবাহন না পাওয়ার কারণে বিনোদন পিপাসু মানুষেরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।
সারা বছর যানজটে নাকাল ঢাকা এখন ভীষণ ফাঁকা। যারা রাজধানীতে আছেন, তাদের অনেকেই বের হচ্ছেন ঈদ বিনোদনের আশায়। কিন্তু দুপুর পর্যন্ত ফার্মগেট, বাংলামোটর, কারওয়ানবাজার, মগবাজার, মৌচাক মোড়ে পর্যাপ্ত গাড়ি দেখা গেলেও বিকালে বৃষ্টি নামায় এ সংখ্যা কমিয়ে দেয়। ফলে রাস্তায় বের হওয়া মানুষ নানা বিড়ম্বনায় পড়ছেন।
খোলা আকাশের নিচের বিনোদন কেন্দ্রগুলোতেই সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে দর্শনার্থীদের। চরম ভোগান্তি ছিল চিড়িয়াখানায়। বৃষ্টির বেহালদশা দেখে অনেকেই এখানে প্রবেশ না করেই চলে যায় শাহবাগের জাতীয় জাদুঘর আর ভাসানী নভোথিটারে। কারণ একটাই, ভিজতে হবে না। কিন্তু সেগুলো বন্ধ থাকায় তাদের আনন্দে আরো ভাটা পড়েছে।
অন্যদিকে বাসা থেকে বের হয়ে যানবাহনের চরম সংকটে পড়েন ভ্রমণপিয়াসী অনেক মানুষ। রাস্তায় পাবলিক পরিবহন বাস নেই বললেই চলে। সিএনজি, অটোরিকশা কিংবা রিকশা যেগুলো চলছে, সেগুলো নিয়ে চলছে রীতিমতো কাড়াকাড়ি। এ সুযোগে চালকরা আদায় করছেন মাত্রাতিরিক্ত ভাড়া।
তবে বৃষ্টি মাথায় নিয়েই অনেকে পরিবার পরিজন নিয়ে ঘুরতে বেরিয়েছেন বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে। দল বেঁধে শহরের মধ্যেই নানা জায়গায় ঘুরছেন তারা। বৃষ্টির মধ্যেও সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা, চন্দ্রিমা উদ্যান, ক্রিসেন্ট লেক ও ধানমণ্ডি লেক ছিল ভ্রমণপিয়াসী মানুষের পদচারণায় মুখরিত।
ঈদের আনন্দে মেঘ বৃষ্টিতেও গা ভাসিয়ে চারদিকে ঘুরে বেড়াচ্ছেন অনেকে। ফাঁকা নগরীতে মনের আনন্দে ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ যেন হাতছাড়া করতে চাইছেন না তারা। তাদের মধ্যে তরুণদের উৎসাহই বেশি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও ছিল ভিন্ন চিত্র। তরুণ-তরুণীরা হাতে হাত রেখে প্রাচ্যের অক্সফোর্ডে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিচ্ছেন। টিএসসি, কলা ভবন, ব্রিটিশ কাউন্সিল, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বসেও প্রিয় মানুষটির সঙ্গে ঈদের আনন্দকে ভাগ করে নিচ্ছেন অনেকে।
চিড়িয়াখানায় সূত্র জানায়, প্রতি বছর ঈদে ১০ হাজার দর্শনার্থী এখানে বেড়াতে আসেন। কিন্তু বৃষ্টির কারণে সোমবার দর্শনার্থীর সংখ্যা একটু কম। একজন কর্মী বলেন, ‘‘অন্যান্য বছর যেখানে লোকজনকে সামাল দিতে আমাদের হিমশিম খেতে হয়, সেখানে অনেকটা অলস সময় কাটাচ্ছি আমরা।’’
রাজধানীর লোকজনের পাশাপাশির বাইরে থেকেও ঘুরতে এসেছেন অনেকেই। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ, সাভার, টাঙ্গাইলসহ ঢাকার আশপাশের এলাকার লোকজন। তারা জানান, বছরের অন্যান্য দিনের কর্মব্যস্ততা এবং যানজটের কারণে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঢাকায় আসার কষ্টের যেন শেষ নেই। তাই ঈদের ছুটির এই কটি দিনে ফাঁকা ঢাকায় ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ হাতছাড়া করতে চান না তারা।
তবে তরুণ ও শিক্ষার্থীদের মতে, ঈদে কিছু বিনোদনকেন্দ্র বন্ধ থাকায় তারা বিনোদনের সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষামূলক জানা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। তারা জানান, বছরের অন্যান্য দিনে পড়ালেখার চাপ আর ব্যস্ততার কারণে এসব জায়গা ঘুরে দেখার সুযোগ হয় না। তাই ঈদের ছুটিটাকে কাজে লাগাতে এসব শিক্ষামূলক প্রতিষ্ঠান খোলা রাখা প্রয়োজন।
বৃষ্টি যখন বিনোদনে বাধা দিচ্ছে, তখন হারিয়ে যাওয়া সিনেমা হলগুলোকে পূনরুজ্জীবিত করার একটা প্রয়াস লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রাজধানীর বিভিন্ন সিনেমা হলে ছিল প্রচুর ভিড়। সিনেমা দেখতে আসা অনেকেই বলেন, ‘‘সিনেমার মান দেখে নয়, শুধু ঈদের আনন্দকে উপভোগ করতেই এসেছি।’’
তবে মঙ্গলবারও ঈদের ছুটি থাকায় যদি আকাশের অবস্থা ভালো থাকে, তবে সব বিনোদনকেন্দ্রে প্রচণ্ড ভিড় হবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
বাংলাদেশ সময়: ১৮৪৪ ঘণ্টা, আগস্ট ২০, ২০১২
এনএম/ সম্পাদনা: অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর