 |
ঢাকা: সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে নিরাপদে ক্ষমতা থেকে সরে যেতে দিতে এবং তার প্রতি ক্ষমা প্রদর্শনে ইচ্ছুক ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্র। তবে এর জন্য ক্ষমতা হস্তান্তরের ব্যাপারে শান্তি আলোচনায় বসতে রাজি হওয়ার জন্য আসাদকে শর্ত দিয়েছে তারা।
সিরিয়ার রাজনৈতিক সঙ্কট উত্তরণ নিয়ে জাতিসংঘের উদ্যোগে জেনেভায় সম্মেলন আয়োজনের লক্ষ্যে উৎসাহ দিতে একে পশ্চিমাদের কূটনৈতিক উদ্যোগ বলে মনে করা হচ্ছে।
সম্প্রতি মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত জি-২০ সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লদাদিমির পুতিনের পক্ষ থেকে উৎসাহব্যঞ্জক সাড়া পাওয়ার পরই ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এমন উদ্যোগের কথা জানালেন।
ব্রিটেনের শীর্ষ পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যতোখানি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়েছে তা সিরিয়ার ক্ষমতা হস্তান্তরের বিষয়ে আলোচনা শুরু করার জন্য যথেষ্ট।
তিনি জানান, সিরিয়াতে প্রতিদিনই যেভাবে সহিংসতা ও বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির খবর আসছে তা স্পষ্টত গোষ্ঠীগত দাঙ্গার দিকেই যাচ্ছে। এ অবস্থায় যদি আসাদ জেনেভাতে সিরিয়ার ক্ষমতা হস্তান্তর বিষয়ক সম্মেলন আয়োজনে সম্মত হয় তাহলে তার প্রতি নমনীয়তা দেখানো হবে। এমনকি সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য তাকে একটি নিরাপদ পথও বাতলে দেওয়া হতে পারে।
উল্লেখ্য, জি-২০ সম্মেলনে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে পুতিন স্বীকার করেন বাশার আল আসাদ অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্ষমতায় থাকতে পারেন না।
বৈঠকে সিরিয়ার আসাদ সরকারের বড় মিত্র রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন দেশটির বর্তমান সহিংসতা নিরসনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে দেশটি ক্রমশ গৃহযুদ্ধের দিকে ধাবিত হচ্ছে বলে পশ্চিমা উদ্বেগের সঙ্গে সহমত প্রকাশ করেন তিনি।
তবে সম্মেলন থেকে মস্কোতে ফিরে একটু ভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন তিনি। সিরিয়ার ক্ষমতায় কে থাকবে আর কে থাকবে না তা বাইরের কেউ নির্ধারণ করে দিতে পারে না বলে মন্তব্য করেন পুতিন। সেই সঙ্গে সিরিয়াতে কোনো ধরনের বাইরের হন্তক্ষেপের বিরোধিতা করেন।
এ পরিস্থিতিতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন সিরিয়া বিষয়ে জাতিসংঘ ও আরব লিগের বিশেষ দূত কফি আনানকে তার শান্তি পরিকল্পনা পরিবর্তনের কথা বলবেন বলে মনে করা হচ্ছে। সিরিয়াতে কোনো মধ্যস্থতাকারী গ্রুপ নিয়োগের পরিবর্তে ইয়েমেন স্টাইলে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য একটা সম্মেলন ডাকার জন্য কফি আনানকে উৎসাহিত করবেন বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
উল্লেখ্য, ইয়েমেনে সরকার বিরোধী বিক্ষোভ শুরু হলে গত ফেব্রুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহ বেসামরিক মানুষ হত্যার দায়মুক্তির ভিত্তিতে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। তার ডেপুটি প্রেসিডেন্ট পরে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন।
একই ধরনের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী মাসের শেষ নাগাদ জেনেভাতে সম্মেলন অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সম্মেলনে সিরীয় সরকারের প্রতিনিধি, বিরোধীদের নেতৃস্থানীয়রা, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য এবং তুরস্ক ও সৌদি আরবের মতো আঞ্চলিক গুরুত্বপূর্ণ পক্ষ উপস্থিত থাকবে।
এদিকে সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য রাশিয়া ইরানকেও চাপ দিচ্ছে বলে জানা গেছে।
ওই সম্মেলনে সভাপতিত্ব করবেন কফি আনান। ক্ষমতা হস্তান্তরের পরবর্তী ১৮ মাসের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানে মাধ্যমে সরকার গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হবে সম্মেলনে।
বাশার আল আসাদ রাজি হলে সিরিয়াতে রক্তপাত ও সংঘাতের সমাপ্তি ঘটবে এবং একটি নির্বাচিত সরকার স্থিতিশীল সিরিয়া নিশ্চিত করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ সময়: ১৪৪২ ঘণ্টা, জুন ২১, ২০১২
সম্পাদনা: জাহাঙ্গীর আলম, নিউজরুম এডিটর