 |
| ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
চট্টগ্রাম: ‘যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে তরুণদের প্রতিবাদের বহ্নিশিখা আজ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এ প্রজন্ম বিএনপিকে যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গ ত্যাগ করার আহবান জানিয়েছিল। কিন্তু বিএনপি এ আহবানে সাড়া না দিয়ে বরং একাত্তরের ঘাতক জামায়াতের সঙ্গে কথিত ঐক্য সুদৃঢ় করেছে। এতে বিএনপি জাতির কাছে গণদুশমনে পরিণত হয়েছে।’
চট্টগ্রাম ১৪ দল আয়োজিত পদযাত্রাপূর্ব সমাবেশে এসব কথা বলেছেন বক্তারা। শনিবার বিকেলে নগরীর দারুল ফজল মার্কেট চত্বরে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী। সমাবেশ শেষে চত্বর থেকে শুরু হওয়া পদযাত্রা নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহীদ মিনারে এসে শেষ হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথি বন ও পরিবেশ মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, `বিএনপি তরুণ সমাজ ও জনতার দাবি উপেক্ষা করে যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষ অবলম্বন করেছে। বেগম খালেদা জিয়া একাত্তরের চিহ্নিত রাজাকার-ঘাতক গোলাম আজম-নিজামী-সাঈদী-সালাহউদ্দিনকাদের চৌধুরী-কাদের মোল্লার মুক্তি দাবি করেছেন। যুদ্ধাপরাধীদের জন্য গঠিত বিশেষ ট্রাইব্যুনাল ভেঙ্গে দেওয়ারও দাবি জানান উনি। খালেদা জিয়া জাতির প্রাণের দাবির বিরুদ্ধে কথা বলছেন।
তিনি বলেন, `খালেদা জিয়া যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ঘোষনা দিয়েছেন। আবার তার দলের মওদুদ আহমদ ও মাহবুব উদ্দিন যুদ্ধাপরাধীদের আইন সহয়তা দিয়েছেন। এ তামাশা বন্ধ করুন। জনগণ এর দাঁতভাঙা জবাব দিবে।`
কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, `যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে ছাত্র-শ্রমিক-জনতা আজ ঐক্যবদ্ধ। আওয়ামী লীগের মহাজোট সরকারও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ব্যাপারে বদ্ধপরিকর। এদেশের মাটিতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবেই হবে।`
শাহবাগ আন্দোলনের সক্রিয় অংশগ্রহণকারী ব্লগার রাজীব হত্যা প্রসঙ্গে বলেন, `চোরাগোপ্তা হামলা চালিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে আন্দোলনরত তরুণ ব্লগার রাজীবকে হত্যা করেছে জামায়াতের দুষ্কৃতিকারীরা। এই দুষ্কৃতিকারীরা নির্বিচারে গাড়ি ভাংচুর করছে। গাড়িতে আগুন দিয়ে মানুষকে পুড়িয়ে মারছে। পুলিশের ওপর চোরাগোপ্তা হামলা করছে।`
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন,` শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেসব শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মগজধোলাই করছেন, তাদেরকে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে আমাদের সন্তানেরা আজ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। তারা কোনো অপশক্তির কাছে মাথা নত করবে না। কোনো চক্রান্ত তরুণ সমাজের ঐক্য ভাঙতে পারবে না। আমাদের সন্তানেরা এগিয়ে যাবে।`
তিনি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সংগঠনের কার্যক্রম শক্তিশালী করার আহবান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি জেলা পরিষদের প্রশাসক ও উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক এম এ সালাম বলেন, `স্বাধীনতার দীর্ঘদিন পর আমাদের তরুণ সমাজ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে জেগে উঠেছে। তরুণ সমাজের এ ডাকে সাড়া দিয়েছে সারা জাতি। তারা ত্রিশ লক্ষ শহীদ ও দুই লক্ষ মা-বোনের ইজ্জত লুন্ঠনকারীদের ফাঁসি চাই।`
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য বেদারুল আলম বেদার, মহানগর যুবলীগের সভাপতি চন্দন ধর, শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল হক, ওয়ার্কাস পার্টির অ্যাডভোকেট আবু হানিফ, জাসদের জসিম উদ্দিন বাবুল, ওয়ার্ড কাউন্সিলর গিয়াসউদ্দিন, কোতেয়ালি থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল মনসুর, গণতন্ত্রী পার্টির সহ সভাপতি স্বপন সেন প্রমুখ।
বাংলাদেশ সময়: ১৮২৯ঘণ্টা ফেব্রুয়ারি ১৬ ২০১৩
এসজি/টিসি