ঢাকা: আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোনে চলছে লাগামহীন ছাঁটাই। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নেই তাদের। কর্তাব্যক্তিদের খেয়াল খুশিমতো যখন যাকে খুশি তাকেই চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে গ্রামীণফোন বলছে, আন্তর্জাতিক নীতিমালা মেনেই তারা কর্মী ছাঁটাই করছে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) মতে, দেশের আইন অনুযায়ী গ্রামীণফোনকে সবকিছু করতে হবে।
বিটিআরসি গ্রামীণফোনের এই লাগামহীন কর্মী ছাঁটাইয়ের কারণ জানতে চেয়ে গেল মাসে চিঠি দেয়। কিন্তু কতো সংখ্যক কর্মী ছাঁটাই করেছে এবং আরও কত ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা রয়েছে গ্রামীণফোন এ সংক্রান্ত প্রশ্নের কোনো জবাব দেয়নি।
গ্রামীণফোনের প্রধান যোগাযোগ কর্মকর্তা (সিসিও) কাজী মনিরুল কবিরও বাংলানিউজের কাছে সুনির্দিষ্ট টার্গেট ছাড়া কর্মী ছাঁটাইয়ের কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা একটি একটি সংখ্যা নির্ধারণ করে কাউকে চাকরিচ্যুত করছি না।’
প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) টরে জনসেন সংস্থার সব কর্মীকে সম্প্রতি একটি ই-মেইল বার্তা পাঠিয়েছিলেন। ওই বার্তায় বলা হয়েছিল, ‘গতানুগতিক ছাঁটাইয়ে বড় সংখ্যায় লোক চাকরিচ্যুত হয়ে থাকে। কিন্তু গ্রামীণফোনে এ ধরনের ছাঁটাই হচ্ছে না। প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তি, অর্থ কিংবা করপোরেট অ্যাফেয়ার্সের কারও সঙ্গে আমার (সিইও) এ ধরনের ছাঁটাইয়ের বিষয়ে আলোচনা হয়নি। এমনকি আমিও তাদের এ ধরনের কিছু করতে বলিনি। সুতরাং এ ধরনের প্রচার পুরোটাই মিথ্যা, যা কিনা পুরো প্রতিষ্ঠানে আতঙ্ক তৈরি করেছে।’
কিন্তু বাংলানিউজের এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এ পর্যন্ত গ্রামীণফোন তিন শতাধিক লোককে চাকরিচ্যুত করেছে। গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ এই সংখ্যা ১২০ জন বলে স্বীকার করেছে। গ্রামীণফোনে কর্মরত এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এই পরিমাণ লোক ছাঁটাইয়ের পরেও যদি সিইও বলেন, এটি গণছাঁটাই নয়, তবে তা হাস্যকর ছাড়া আর কিছু নয়।’
এ বিষয়ে বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) জিয়া আহমেদ বাংলানিউজকে বলেন, ``এ ধরনের চাকরিচ্যুতি গ্রহণযোগ্য নয়। এটি টেলিযোগাযোগ খাতের জন্য নেতিবাচক বার্তা। তাই এই খাতের শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বিটিআরসি মোবাইল অপারেটরদের কাছে যেকোনো তথ্য চাইতে পারে।``
এ বিষয়ে বিটিআরসির এক কর্মকর্তা জানান, টেলিযোগাযোগ আইনের ৩১ (ণ) ধারা অনুযায়ী এ খাতের উন্নয়ন, সুশৃঙ্খল ও সুদক্ষ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে পারে বিটিআরসি।
ওই কর্মকর্তা বলেন, ``আন্তর্জাতিক আইনে কী আছে তা আমাদের জানার বিষয় নয়, বাংলাদেশের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী মোবাইল অপারেটরদের চলতে হবে।``
প্রসঙ্গত, টরে জনসেন ২০১১ সালের মার্চে গ্রামীণফোনের নতুন সিইও হয়ে আসার পর থেকেই কর্মী ছাঁটাই প্রক্রিয়া শুরু হয়। টরে জনসেনের ব্যয় সংকোচনের জন্য বিশেষ পরিচিতি রয়েছে। এর আগে তিনি যখন মালয়েশিয়াতে ছিলেন তখন এই কাজে নাম কুড়িয়েছিলেন। জনসেন মালয়েশিয়ার প্রতিষ্ঠানের তার ঘনিষ্ঠ দু’একজনকেও গ্রামীণফোনে নিয়ে আসেন। তার মধ্যে অন্যতম মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান পাকিস্তানি বশোদ্ভূত কানাডীয় নাগরিক হারুণ ভাট্টি। আর হারুণ ভাট্টিই কর্মী ছাঁটাইয়ে প্রধান ভূমিকাটি পালন করছেন।
বাংলাদেশ সময়: ১১১৭ ঘণ্টা, জুলাই ০৯, ২০১২
আইএইচ/সম্পাদনা: রানা রায়হান, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর;জুয়েল মাজহার, কনসালট্যান্ট এডিটর jewel_mazhar@yahoo.com