 |
| ছবি: দেলোয়ার হোসেন বাদল /বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
ঢাকা: বর্তমান সরকারের চতুর্থ বাজেটে (২০১২-২০১৩) পুঁজিবাজারের বিষয়ে যে ঘোষণা আছে তা পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে দেশের শিল্পায়নে গতি আনবে বলে মনে করেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ’র (ডিএসই) প্রেসিডেন্ট মো. রকিবুর রহমান।
শনিবার ডিএসই’র কার্যালয়ে ২০১২-২০১৩ অর্থবছরের ডিএসই’র জন্য প্রস্তাবিত বাজেটের প্রতি আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় ডিএসই’র জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আহমেদ রশিদ লালী, পরিচালক আহসানুল ইসলাম, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. এম মোশাররফ হোসেন ও প্রধান অর্থ কর্মকর্তা শুভ্রকান্তি চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
ডিএসই’র প্রেসিডেন্ট বলেন, “নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন, মন্দার প্রভাব মোকাবেলায় দেশের অর্থনীতিতে চাহিদা বৃদ্ধি, শিল্পনোন্নয়ন এবং সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দিন বদলের সনদ ও ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার জন্য প্রস্তাবিত বজেটকে ডিএসই অভিনন্দন জানাচ্ছে।”
লিখিত বক্তব্যে রকিবুর রহমান বলেন, “বাজেটে পুঁজিবাজার সম্পর্কিত ঘোষণার ফলে পুঁজিবাজার শক্তিশালী হওয়ার মাধ্যমে দেশের শিল্প উন্নয়নে গতি ত্বরান্বিত হবে”।
পুঁজিবাজারের উন্নয়নে বাজেটের প্রস্তাবগুলো ক্রমবিকাশমান পুঁজিবাজার আরও এগিয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন রকিবুর রহমান। এছাড়া বাজেটকে পুঁজিবাজারবান্ধব বলেও অভিহিত করেন তিনি।
রকিবুর রহমান তাঁর বক্তব্যে বলেন, “পুঁজিবাজারে পূর্ববর্তী বছরের প্রদত্ত প্রণোদনা বর্তমান বছরেও অব্যাহত রাখার পাশাপাশি নতুন কিছু প্রণোদনা প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০১২-১৩ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে পুঁজিবাজারের জন্য বেশ কিছু প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো- কোম্পানি তার পরিশোধিত মূলধনের ন্যূনতম ২০ শতাংশ শেয়ার আইপিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজারে হস্তান্তর করলে সংশ্লিষ্ট বছরে ১০ শতাংশ কর রেয়াত সুবিধা প্রদান, বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ আয় ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত করমুক্ত রাখার প্রস্তাব, মার্চেন্ট ব্যাংকের আয়করের হার ৪২.৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩৭.৫০ শতাংশ করার প্রস্তাব।”
এগুলো বাজারের জন্য ইতিবাচক বলে মনে করছেন তিনি।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশ ইনফ্রাচট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড নামে একটি বিনিয়োগ তহবিল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। সরকার, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত করার জন্য সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারিত্ব বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অর্থের একটি অংশ পুঁজিবাজার থেকে উত্তোলনের অনুরোধ করেছেন।”
ডিএসই’র প্রেসিডেন্ট বলেন, “২০১১ সাল নগাদ দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার জন্য সরকার যে ২০১৬ সাল নগাদ ২ হাজার ৯৩৮ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন কয়লাভিত্তিক বিদুৎ উৎপাদন করার যে পরিকল্পনা করেছে, তাতে যে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে, তার একটা অংশ দেশের পুঁজিবাজার থেকে সংগ্রহ করার অনুরোধ জানাচ্ছি।”
তিনি বলেন, সোনাদিয়া গভীর সমুদ্র বন্দর স্থাপনের জন্য বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে বলে ২০১২-২০১৩ অর্থবছরের বাজেটে বলা হয়েছে। সরকার দেশের পুঁজিবাজার থেকে প্রয়োজনীয় অর্থের একটি অংশ সংগ্রহ করলে দেশের পুঁজিবাজার ও সাধারণ বিনিয়োগকারীরা উপকৃত হবে।
পুঁজিবাজারের বিশেষ সংস্কারের জন্য আগামী অর্থবছরের স্টক এক্সচেঞ্জ’র ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন কার্যক্রম চালু করার উদ্যোগ সরকার হাতে নিয়েছে।
পুজিবাজারের লেনদেনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে উন্নত সার্ভেলেন্স সফটওয়ার স্থাপনের মাধ্যমে বাজার মনিটরিং আরও জোরদার করা হচ্ছে এবং স্বল্পতম সময়ের মধ্যে লেনদেন নিষ্পত্তির জন্য পৃথক কিলিয়ারিং অ্যান্ড সেটেলমেন্ট কোম্পানি স্থাপনের উদ্যোগ সরকার হাতে নিয়েছে।
রকিবুর রহমান বলেন, পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট মামলা-মোকদ্দমাসমূগ দ্রুত নিষ্পতি করার জন্য বিশেষ আদালত প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতা রক্ষায় ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং অ্যাক্ট এর ড্রাফট করা হয়েছে এবং ২০১২-২০১৩ অর্থবছরে সমাপ্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ সময়: ১৬৩৩ ঘণ্টা, জুন ০৯, ২০১২
এসএনএইচ/এসএমএকে/সম্পাদনা : আবু হাসান শাহীন, নিউজরুম এডিটর