 |
ঢাকা: সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নিতে যাচ্ছেন মিসরের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রথম প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি । শনিবার শপথ নেওয়ার পরপরই কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের অভিষেক ভাষণ দেবেন মুরসি।
মাত্র একদিন আগেই তাহরির স্কয়ারের সমাবেশে দেওয়া ঐতিহাসিক বক্তৃতায় তিনি মিসরের সামরিক বাহিনীর জেনারেলদের সর্তক করে বলেন তার ক্ষমতায় হস্তক্ষেপের কোনো চেষ্টা বরদাস্ত করবেন না তিনি।
আনুষ্ঠানিক শপথ নিতে যাওয়ার আগে এক বিবৃতিতে মুরসি দেশের মুসলিম ও খ্রিস্টানসহ সব নাগরিকদের মোবারক বিরোধী গণতান্ত্রিক বিপ্লবে অংশ নেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান।
এর আগে শুক্রবার তাহরির স্কয়ারে দেওয়া ভাষণে মুরসি মিসরে সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেন। পাশাপাশি তিনি সংবিধানের গণতান্ত্রিক চরিত্রকে বজায় রাখারও অঙ্গীকার করেন। এসময় মুরসি বলেন, ‘কোনো প্রতিষ্ঠানই জনগণের জবাবদিহিতার উর্দ্ধে নয়।’ ধারণা করা হচ্ছে বেসামরিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগির লড়াইয়ে লিপ্ত দেশটির সেনাবাহিনীকে উদ্দেশ্য করেই মুরসি একথা বলেন।
এছাড়া বিপ্লবের সময় আটক বেসামরিক নাগরিকদের মুক্তির জন্যও কাজ করে যাওয়ার আশ্বাস দেন মুরসি। মিসরের মানবাধিকার সংগঠনগুলোর ধারণা আন্দোলনের সময় আটক প্রায় ১২ হাজার বেসামরিক নাগরিককে সামরিক আদালতে বিচারের সম্মুখীন করার প্রক্রিয়া চলছে।
তাহরির স্কয়ারে শনিবারের ভাষণের এক পর্যায়ে প্রেসিডেন্ট মুরসি ভাষণ মঞ্চ থেকে বেরিয়ে জনতার কাছাকাছি চলে আসেন। এ সময় তিনি তার পরিহিত জ্যাকেট খুলে ফেলে উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে বলেন, তার শরীরে কোনো বুলেট প্রুফ জ্যাকেট নেই। তিনি বলেন, ‘আমি আমার জনগণকে ভয় করিনা। সৃষ্টিকর্তা ছাড়া আমি আর কাউকেই ভয় করি না।’
শনিবারের ভাষণে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ব্যাপারেও কথা বলেন মুরসি। প্রতিবেশী আফ্রিকান এবং মধ্যপ্রাচ্যের রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের অঙ্গীকার করে এ অঞ্চলে শান্তি বজায় রাখারও চেষ্টা করবেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। তবে এখন থেকে মিসরের পররাষ্ট্রনীতিতে জনগণের ইচ্ছাই প্রতিফলিত হবে বলে ঘোষণা করেন তিনি।
বাংলাদেশ সময়: ১৬৪৭ ঘণ্টা, জুন ৩০, ২০১২
সম্পাদনা:রাইসুল ইসলাম, নিউজরুম এডিটর