 |
ঢাকা: মা’য়ের অজান্তে জুতো জোড়া নিয়ে বেরিয়ে যেতেন এরিক ব্যারেন্ডো। খুব সাবধানে প্র্যাকটিস করে সযত্নে আগের জায়গায় রেখে দিতেন, যাতে মা বুঝতে না পারেন তার জুতো পড়েছিলেন ছেলে। এভাবে চলেছে বছরের পর বছর।
লেটিসিয়া বুঝতেও পারেননি তার জুতোর কি অসাধারণ ক্ষমতা। তার ছেলে ব্যারেন্ডোকে কি সুন্দর তৈরি করে দিয়েছে অলিম্পিক গেমসের জন্য। ব্যারেন্ডো এখন গুয়েতেমালার জাতীয় বীর। দেশে তার জন্য রাজস্বিক সম্বোর্ধনা অপেক্ষা করছে। গুয়েতেমালার প্রথম ক্রীড়াবিদ হিসেবে অলিম্পিক গেমসে পদক জিতেছেন ব্যারেন্ডো। তাও রৌপ্য পদক।
বড় হতে মানুষের অনেক কিছু লাগে না। অনেক অর্থবিত্তের প্রয়োজন হয় না। একাগ্রতার সঙ্গে একটু শ্রম-ঘাম ঝরালে কোনো বিশেষ মুহূর্তে জীবন বদলে যেতে পারে। যেমন ভাগ্য বদলালেন গুয়েতেমালার ব্যারেন্ডো।
অ্যাকাউন্টিংয়ের ছাত্র ২১ বছরের ব্যারেন্ডো রৌপ্য জিতেছেন ২০ কিলোমিটার হাঁটায়। লন্ডন অলিম্পিক গেমসে আসার আগে বাবা-মাকে একটি টিভি কিনে দিয়ে এসেছিলেন তিনি। ওটি তার পরিবারের প্রথম টিভি সেট।
ব্যারেন্ডো স্বপ্ন দেখেন একদিন আমূল বদলে যাবে তার দেশ। বলছিলেন, ‘আমার দেশে যদি কেউ বন্ধুক বা চাকু রেখে এক জোড়া জুতো নিয়ে স্পোর্টসে আসে তাহলে আমি হবো পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ।’
মধ্য-আমেরিকার দেশ গুয়েতেমালার রাষ্ট্রপতি অটো পেরেস বলেছেন, ‘এই অর্জন আমাদের দেখিয়েছে চেষ্টা করলে আমরা কি করতে পারি।’
ব্যারেন্ডোর বাবা-মাকে লন্ডনে পাঠাতে চেষ্টা করছেন দেশটির সরকার। তার বাবা-মাও অ্যাথলেট, মিডল-ডিসটেন্স রানার।
বাংলাদেশ সময়: ১৯৩০ ঘণ্টা, আগস্ট ০৭, ২০১২
এসএ
সম্পাদনা: চঞ্চল ঘোষ, নিউজরুম এডিটর