 |
| ছবি: জীবন আমীর / বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
গণজাগরণ চত্বর থেকে: শহীদ জননী জাহানারা ইমাম ২০ বছর আগে যে আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন, আজ নতুন প্রজন্ম সেই আন্দোলনকে করেছে বেগবান। এ প্রজন্মকে উজ্জীবিত করতে শহীদ জননীর আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাসচিত্র নিয়ে গণজাগরণ চত্বরে আয়োজন করা হয়েছে বিশেষ সংবাদচিত্র প্রদর্শনী।
‘গণআদালত থেকে প্রজন্ম চত্বর’ শীর্ষক এ প্রদর্শনীর আয়োজন করেছেন জ্যেষ্ঠ ফটোসাংবাদিক ইয়াসিন কবীর জয়। তিনি কর্মরত আছেন ফোকাস বাংলার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ ফটো সাংবাদিক হিসেবে।
দীর্ঘ কর্মজীবনে ইয়াসিন কবীর জয় যেসব ছবি তুলেছিলেন, তা এখন ইতিহাসের জ্বলজ্বলে সাক্ষ্য হয়ে ধরা দিয়েছে শাহবাগের গণজাগরণ চত্বরে।
জাহানারা ইমাম, মাদার তেরেসা ও বেগম সুফিয়া কামালের সংগ্রামী জীবন নিয়ে প্রকাশিতব্য গ্রন্থ ‘তিন নারী’ থেকে জাহানারা ইমামের অংশ নিয়ে এই প্রদর্শনী।
প্রদর্শনীতে ১৯৯১ সাল থেকে শহীদ জননী জাহানারা ইমাম যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে জনমত সৃষ্টির জন্য যেসব কর্মসূচি পালন করেছেন, তার সচিত্র ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। ফুটিয়ে তোলা হয়েছে আন্দোলন-সংগ্রাম করার বিভিন্ন পর্যায়ে তৎকালীন বিএনপি সরকারের বিভিন্ন নির্যাতনের ছবিও।
১৯৯২ সালের ২৬ মার্চ ‘গণআদালত’ গঠন করে এক ঐতিহাসিক রায়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াত নেতা গোলাম আযমের ফাঁসির রায় দেন শহীদ জননী। ঐতিহাসিক এ রায়ের চিত্রটিও ক্যামেরাবন্দি করেছিলেন ইয়াসিন কবীর জয়। ২৭ মার্চ জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় সমন্বয় কমিটির সমাবেশে হামলায় জাহানারা ইমাম আহত হওয়া ও তাকে রিকশায় করে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (তৎকালীন পিজি হাসপাতাল) নিয়ে আসার দৃশ্য শোভা পাচ্ছে প্রদর্শনীতে। এরপর পিজি হাসপাতালে জাহানারা ইমামকে শ্রদ্ধাবনত অবস্থায় তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার আসার ছবিও দৃষ্টি আকৃষ্ট করছে প্রদর্শনীর দর্নার্থীদের।
পরবর্তীতে জাহানারা ইমামের বিভিন্ন কর্মময় জীবনের ইতিহাসও তুলে ধরা হয়েছে প্রদর্শনীর মাধ্যমে। এছাড়া জাহানারা ইমামের মৃত্যুর পর তার জানাজাসহ দাফন করার ছবি শোভা পেয়েছে প্রদর্শনীতে।
শাহবাগের গণজাগরণ চত্বরের পূর্ব পাশে মৎস্য ভবনগামী সড়কের ডিভাইডারে এ প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে ইয়াসিন কবীর জয়ের তোলা ৬৯টি ছবি।
জ্যেষ্ঠ এই ফটোসাংবাদিক ১৯৯১ সালে দৈনিক রূপালী পত্রিকার মাধ্যমে সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেন। পরের বছর নভেম্বর মাসে যোগ দেন দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকায়। দীর্ঘ ১৭ বছর কাজ করেছেন এ পত্রিকায়। এরই মধ্যে ২০০৫ সালে সংবাদ ও ছবিভিত্তিক সংবাদ সংস্থা ফোকাস বাংলা প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা রাখেন।
সাংবাদিকতা জগতে প্রবেশের পরপরই মুক্তিযুদ্ধে শহীদ রুমির মা শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ঐতিহাসিক জাগরণের সাক্ষী হয়ে উঠেন জয়। তার এই ক্যামেরাবন্দি ছবিগুলো এখন উৎসাহ যোগাচ্ছে তরুণদের।
তিন দিন ধরে তার এই প্রদর্শনীতে সাড়াও পড়েছে অনেক। তরুণ প্রজন্ম থেকে শুরু করে শাহবাগের গণজাগরণ চত্বরে আসা দর্শনার্থীরা ঘুরে ঘরে দেখছেন জাহানারা ইমামের এই আলোকচিত্রগুলো।
ইয়াসিন কবীর জয় বাংলানিউজকে বলেন, “মহিয়সী তিন নারীর মধ্যে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের গড়া যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আন্দোলন ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গণআদালতের অগ্নিঝরা দিনগুলোর সংবাদচিত্র নিয়েই এ প্রদর্শনী।”
“জাহানারা ইমামের কর্মগুলোর চিত্র তরুণদের উজ্জীবিত করবে” বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
খুব শিগগিরই ‘তিন নারী’ গ্রন্থটি প্রকাশিত হবে বলেও জানান ইয়াসিন কবীর জয়।
কাদের মোল্লাসহ যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে শাহবাগের গণজাগরণ চত্বরের গণআন্দোলনের সোমবার ১৪তম দিন। এ আন্দোলনের ঢেউ দেশের সীমানা ছাড়িয়ে পৌঁছে গেছে প্রবাসেও। নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ এ দাবির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করছেন। প্রতিদিনই বাড়ছে এ গণজোয়ারে আসা মানুষের সংখ্যা।
কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন সাজার রায় প্রত্যাখ্যান করে গত ৫ ফেব্রুয়ারি বিকেলে শাহবাগ মোড়ে এ বিক্ষোভের সূচনা করে ব্লগার ও অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট ফোরাম। এরপর বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা এ গণআন্দোলনে যোগ দেন। গত ৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় মহাসমাবেশ। ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় জাগরণ সমাবেশ। উভয় সমাবেশেই যোগ দেয় লাখো জনতা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ লড়াই চলবে বলেও ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
বাংলাদেশ সময়: ২০৩৯ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০১৩
এমআইএইচ/ সম্পাদনা: অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর- eic@banglanews24.com