 |
| ছবি : জাহিদ সায়মন /বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
নিশ্চিন্তপুর থেকে: তাজরিন গার্মেন্টসে যখন আগুন লাগার সাইরেন বাজে তখনি সতর্ক হয়ে যান ২৪ বছরের সুফিয়া। পাশের পুরুষ সহকর্মীরা আশ্বাস দেন, ‘কিছুই হয়নি’। গার্মেন্টসের এপি ও এজিএম’রাও বলেন, ‘ভয় নেই, কাজ করো।’
তবে আশ্বস্ত হতে পারেননি সুফিয়া। মিনিট দুইয়েকের মধ্যেই একটি সিঁড়িতে ধোঁয়া দেখতে পায় সে। দৌড় দেয় সিঁড়ির দিকে। কয়েকজন পুরুষ বাধা দেন তাকে। তবে তাদের হাত ঝাড়া দিয়েই সিঁড়ি দিয়ে দৌড়ে বের হয়ে আসেন সুফিয়া। পুরুষদের ঠেলে বের হয়ে আসার সময় ভয়ের সঙ্গে সতর্কতাও কাজ করছিল। কোনভাবেই যেন পা ফসকে বা মুচড়ে না পড়েন। কারো ধাক্কায় যেন পড়ে যেতে না হয়।
নিশ্চিন্তপুর বিদ্যালয় মাঠে সন্ধ্যায় আর লাশ নেই। যেগুলো শনাক্ত হয়নি, নিয়ে গেছে আঞ্জুমান মফিদুল। অন্যান্য উৎসুক মানুষের মতো সুফিয়াও এসেছেন মাঠে।
বাংলানিউজকে জানান, ডাইংয়ের যেখানে তিনি বসতেন, তার পাশেই ছিল রানু। শুনেছেন, রানু নাকি মারা গেছে। রানুর স্বামীও এ কারখানায় চাকরি করতেন, সকালে মাঠ থেকে লাশ পেয়েছেন তিনি।
২ মাস ধরে তাজরীন গার্মেন্টেসে চাকরি করেন সুফিয়া। এর আগে অ্যাপিয়ার গার্মেন্টেসে চাকরি করতেন। সেখান থেকে ৩০০ টাকা বেশি, ৩৫০০ টাকায় এ গার্মেন্টসে চাকরি নেন তিনি।
এ মাসের আর বেতন মালিক পক্ষ দেবেন কিনা তা বলতে পারেন না এই নারী শ্রমিক। বলেন, “এইডার লেনদেনের আর আশা করি না, আল্লায় বাঁচাইয়া আনছে এইডাই শোকর। অহন নতুন কোম্পানিতে চাকরি খুঁজতে অইবো।”
তবে বললেই নতুন কোম্পানিতে চাকরি পাওয়া যায় না, বললেন সুফিয়ার সঙ্গে আসা বেঁচে যাওয়া আরেক গার্মেন্টস কর্মী রাবেয়া। ৪ বছরের শিশুকে বুকের মধ্যে শক্ত করে আগলে রেখেছেন প্রানে রক্ষা পাওয়া এই গার্মেন্টস শ্রমিক।
তিনি জানান, “কয়েক মাস হয়তো বেকার থাকতে হইতে পারে। আবার লাইন জ্যাক ভালো হইলে অপেক্ষা করতে হয় না। তয় কামতো করতেই অইবো।” কারন স্বামী স্ত্রীর দুজনের গার্মেন্টসে চাকরি দিয়েই সংসার চলে তার। একজনের পক্ষে দুই ছেলে মেয়েসহ সংসার চালানো কঠিন।
তাই আপাতত অনিশ্চিতই নিশ্চিন্তপুরের সুফিয়া আর রাবেয়াদের শ্রমিক জীবন।
বাংলাদেশ সময়: ২১৩৬ ঘণ্টা, নভেম্বর ২৫, ২০১২
এমএন/সম্পাদনা:রাইসুল ইসলাম,নিউজরুম এডিটর eic@banglanews24.com