 |
বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাস খুঁজলে জনপ্রিয়, ব্যবসা সফল প্রচুর পুরুষ অ্যাকশন চরিত্র পাওয়া যাবে। অন্যদিকে নারী অ্যাকশন চরিত্রগুলোর কথা যদি বলি, পরীক্ষার হলের মতো অবস্থা হয়, কিছুই মনে পড়ে না।
জেমস বন্ড লেডি কিলার! অস্ত্র আর গাড়ির মতো নারীও তার কাছে ব্যবহারযোগ্য। তার একাধিক গাড়ির মতো প্রায় সব ফিল্মেই একাধিক নারী দেখা যায়। তারা অবশ্যই আবেদনময়ী। যেমন-বিকিনি পরিহিতা উরসুলা আন্দ্রেসের সেই আইকনিক দৃশ্য, যেখানে তিনি ছুরি হাতে সমুদ্র থেকে উঠে আসছেন, তা দর্শক মনে দাগ কেটে যায়। কিন্ত কিসের ধারে? ছুরির নয় নিশ্চয়!
চার্লিজ এঞ্জেলস ছবিতে নারীই মূল অ্যাকশন চরিত্র। মুভি দুইটি বেশ আগে দেখা হলেও যতদূর মনে পড়ে, নায়িকারা তাদের শরীরের যথেষ্ট ব্যবহার করেছেন (কারাতে তো বটেই, শরীরের ধার অর্থেও)। একটি দৃশ্যে নায়িকাকে বিবস্ত্র হয়ে দৌড়াতে দেখা যায়। অন্যদিকে জেমস বন্ড (একজন পুরুষ) যেহেতু প্রধান চরিত্র সেহেতু সে নারীকে ব্যবহার (কিংবা অপব্যবহার) করতে চাইবে তাতে আশ্চর্য হবার কিছু নেই। কিন্তু নারী অ্যাকশন মুভির কেন্দ্রীয় চরিত্র হলেও যখন সে অপব্যবহারের শিকার হয়, তখন কি এটাও স্বাভাবিক মনে করব আমরা?
কিলবিলের উমা থরম্যান ছাড়া ভালো অ্যাকশন চরিত্রের কথা মনে পড়ছে না, যেখানে নারীর পোশাক নয় অ্যাকশনই মুখ্য। সো ক্লোজ নামে একটা (সম্ভবত জাপানিজ) বেশ ভালো অ্যাকশন মুভি দেখেছিলাম। এই মুভিতে একটা ইতিবাচক দিক ছিলো, ৩টি প্রধান চরিত্রে ছিল নারী এবং মূল ভিলেন ছিলেন একজন পুরুষ। সাধারণত নারীকে প্রধান চরিত্র করা হলে ভিলেন হয় একজন নারী।
ওয়ান্টেড নিয়ে ডানা স্টিভেন্স লিখেছেন অ্যাঞ্জেলিনা জোলি, ম্যাকএভয়কে পোকার মতো পিষে ফেলেছে। ট্রেলারে জোলির নগ্ন পৃষ্ঠদেশ দেখে আমার শুধু মনে হয়েছিল ‘না, এই মুভিতে জোলি পিষে ফেলেননি, বরং পুরুষ শাসিত মুভি জগতে পিষ্ট হয়েছেন।’
টম্ব রেইডার সাধারণ মানের অ্যাকশন মুভি। জোলির প্রশংসনীয় স্টান্ট ছিলো। কিন্তু নায়িকার বক্ষ মাথার চেয়ে বড় ছিলো। এই সিরিজ তৃতীয় পর্বের মুখ দেখেনি, যেমন দেখেনি চার্লিস এঞ্জেলস।
স্পাইডারম্যানের তিন তিনটি মুভির প্রতিটিতেই নায়িকাকে বাঁচাতে নায়ককে যেতে হয়। সুপারম্যান তো নায়িকাকে বাঁচাতে পৃথিবী উলটো ঘুরিয়ে ফেলেন! ব্যাটম্যানে নায়ককে কি না করতে হয়েছে নায়িকাকে বাচানোর জন্য!
অন্যদিকে উল্লেখযোগ্য নারী সুপারহিরো তো নেই-ই। যাও আছেন ফ্লপ। কাপড় চোপড় নিয়েও টানাপোড়েনের মধ্যে আছেন তারা! এদের কস্টিউম নিয়ে কিছু না বলাই ভালো! (ক্যাট উইম্যানকে সর্বকালের সবচেয়ে বাজে মুভির মধ্যে অনেকেই ফেলেন, তাই আলোচনায় আনলাম না।) ইনক্রেডিবলস এর ইলাস্টিক গার্ল একটি ভালো চরিত্র, কিছু বিষয় নিয়ে আলোকপাত করা যেতে পারে, নারী চরিত্রটি গুরুত্ব কিছুটা কম পেয়েছে, তবুও বলব মন্দের ভালো।
টিভি সিরিজের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। টুয়েন্টি ফোর এর জ্যাক বাওয়ার যেখানে প্রবল জনপ্রিয়, (৭/৮টি সিজন হয়ে গেছে), সিক্স মিলিয়ন ডলারম্যান এক সময়ের ক্ল্যাসিক আইকন, অন্যদিকে বায়োনিক উইম্যান, সারাহ কনের ক্রনিকল, ডলস হাউজ তুমুল ফ্লপ।
আয়ন ফ্লাক্স, রেসিডেন্ট এভিল, আলট্রাভায়োলেট, সিলভার হক কি গণনার যোগ্য? উত্তর অবশ্য জানা!
টারমিনেটর এর সারাহ কনা আমার বেশ প্রিয় চরিত্র, জোলির চ্যাঞ্জেলিং অ্যাকশন মুভি নয় কিন্তু ফাইটিং স্পিরিট ভালো লেগেছে, জুডি ফস্টার এর ফ্লাইটপ্ল্যানের কথাও বলা যেতে পারে। হংকং এ নির্মিত জেট লি অভিনীত ফং সাইউক বেশ চমৎকার অ্যাকশন মুভি (ছোট থাকতে দেখেছিলাম, মা ছেলের ডুয়েল অ্যাকশন জোশ বললেও কম বলা হবে!) একজন নারীর এই রকম রূপ ১৯৯৩ সালের মুভিতে! কারাতে ছবির ভক্তদের অবশ্যই দেখা উচিত।
একজন মুভি ফ্রিক হিসেবে অ্যাকশনে নারীকে কম ভাবতেই খারাপ লাগে। আর পুরুষ যেখানে অ্যাকশন করছে সেখানেও নারীকে অহেতুক দুর্বল সাজানো হয়। তবে আমি এই অবস্থার পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছি না এবং সম্ভাবনাও দেখছি না। এ বিষয়গুলো নিয়ে কতটুকু ভাবেন বিশ্ব চলচ্চিত্র বোদ্ধারা, তাই আগামীতে দেখার পালা।
বাংলাদেশ সময়: ২০৫৭ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১২
এজে