 |
প্রার্থনা
১.
নারীরা পুরুষের লালসার শিকার হরিণী শাবক হয়ে
পাড়ি দিচ্ছে পৃথিবীর দীর্ঘপথ
আমি শিকারী নই বলে আজও
কোন হরিণী এসে বলেনি চল
আজ চন্দ্ররাতে এই নিবিড় অরণ্য আমাদের করে নেই।
অরণ্য অধিকার করে আছে দূরের বণিক
জোছনায় জ্বলে ওঠে নিথর প্রেমিকের দেহ
প্রেম নেই শুধু টিকে আছে শরীরের উত্তাপ
তবু প্রেমিক হবার আজন্ম বাসনা নিয়ে
কেউ কেউ এখনো কবিতাকে মনে করে প্রেমপত্র।
এইসব দিন গত হলে পূর্বজন্মের খেদ
দিগন্ত প্রসারিত ফসল হয়ে কেবল কাদায় কৃষকের বুক
এ জনমে তার ঋণের ভার কত শত নামে
আমিও চণ্ডাল তবু আছি অপেক্ষায় ঋণহীন সমাজের
যেখানে প্রেমিকারা ফিরে এলে মুখোশের আড়াল
থেকে অবিকল মানুষ বেরিয়ে আসে দীঘল প্লাবিত জোছনার ক্ষেতে।
২.
মধ্যরাতে আরশোলা হেঁটে গেলে বুঝতে পারি মৃত্যু সন্নিকটে
তবুও এতো প্রিয় প্রত্যাশিত সে আসে না, ভালোবাসা
না হোক বেদনা নিয়ে আসুক সে। কেউ না কাঁদুক, খুব
গোপনে একটি নক্ষত্র ঝরে যাক কারো আকাশে
তবু তুমি আসো হিমশীতল লাশকাটা ঘরে
মৃত্যু তুমি আসো ভালোবাসা না হোক বেদনা নিয়ে।
আকাশ উবু হয়ে ডাস্টবিনে দেখে
আর ডাস্টবিন চলে গেছে রাজার বাড়ি
খামারগুলো পেছনে ফেলে আমরা ছুটে গেছি আদম সুরাত
ফসল থেকে নেকলেস দামি হয় দিন দিন
বেলি ফুলের মালার চেয়ে হাতের শেকল
আর বেহুদা কবি রোজ পথে দাঁড়ানো ভিখারিনী বেলিফুল বিক্রেতাকে
মনে করে রাজকন্যা।
ক্রমশ রাতের মত স্বপ্নের ডানায় জমে মিহিন ধুলো
উজ্জ্বল রঙের দিন মিইয়ে গেলে মধ্যরাতে
মৃত্যুর মত প্রগাঢ় নেশাতুর কোন সুর নেই
নিভন্ত ফসলের মাঠে শুধু একটি তারা জ্বলে থাকে
তোমার চোখের মতই উজ্জ্বল।
৩.
গতরের মধ্যে বাসা বাঁধছে বয়স
আর আমি সময় পার করে হাপিত্যিশ করি চিত্রা-নবগঙ্গার ডুব সাঁতার
এই মরার শহরে না এলে অবাধ্য মফস্বলে আমি
না হয় বেকার ভবঘুরে হতাম। তারপরওতো আমি মানুষ থাকতাম।
আর এখানে জাল টাকার মত প্রতারণা নিয়ে
অপেক্ষায় থাকে দীর্ঘ প্রতিশ্রুতিখেলাপিরা
মায়াবী পর্দা উঠে গেলে দেখি কঙ্কালসার মৃত নদী
কোথাও নেই জলের জীবন।
শহর মানে প্রতারণা শহর মানে ব্যাধি
তবু আশ্চর্য ব্যাধিঘোরে জীবন চলে যাচ্ছে দিব্যি
একদিন রাজসিক প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায়
যেমন থাকেন যিশু ভক্তরা-তিনি আসবেন সপ্ত আসমান থেকে
এর থেকে শিশু ভালো পাগল অধিক
স্বপ্ন ঘামের বিনিময় তৈরি হয় সার সার অনিশ্চিত দিন
আর দিনকে দিন ফেরাটা হয়ে ওঠে কেবলই স্মৃতিকাতরতা।
একদিন উঠে দাঁড়াবো বলে এখনো শুয়ে আছি
কুঁজো ক্লেদ রক্তের ভেতর হেঁটে হেঁটে স্বপ্ন দেখি
একদিন গোলাপের উদ্যানে হেঁটে যাবে কবি
আকাশ উবু হয়ে ভালোবেসে জড়িয়ে ধরবে
সোনালি ফড়িং চলে যাবে সটান গান শুনিয়ে
একদিন উঠে দাঁড়াবো বলে শ্রেষ্ঠ চুম্বনটি নারীকে আজো করা হয়নি
শিশুকে শোনানো হয়নি সেই গল্প
যেখানে মানুষ হয়ে যায় আশ্চর্য জলের কনা।
গতরের মধ্যে বাসা বাঁধছে বয়স, খুটে খাচ্ছে হাড় অস্থিমজ্জা
জানি একদিন আমিই হয়ে যাবো বিগত।
চোখের জলের দামে কেনা জীবন
যদি ফিরে পেতাম এই দুঃস্বপ্নের জীবনে
তাহলে আর শহরমুখি হতাম না কস্মিনকালেও।
৪.
পশ্চিমে নিচু হয়ে ভাবি পুবের দোষ
কোথায়। অথবা বৃক্ষের ভেতর যে প্রাণ
আকাশের ইশারায় তাকে কেবল ভেবেছি নারী
আর প্রকৃত নারীরা অপেক্ষায় থেকে চলে
গেছে করাতকলের শ্রমিক ভালোবেসে।
জীবন বদল করে যারা দাঁড়িয়েছে নদীর পারে
কিম্বা এমন হতে পারে নদীরা স্থানু বৃক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছিলো
আমার সিজদার সামনে।
প্রণাম করি তুলসী পাতা
প্রণাম নাও আদরের রোদ
সিজদায় বেমালুম হয় সুরার আয়াত
ভুল করে বলে ফেলি প্রেমের শ্লোক।
পুব পশ্চিমের বিভেদ ঘুচে গেলে
জায়নামাজ হয়ে যাবে ফুলের বাগান
তবুও ফুল ফেলে মানুষ কাঁটায় ঠোকে মাথা।
৫.
ফড়িং তুমি আর কত উড়বে
তোমার ডানার তলে নিলাভ কষ্ট ভারী হয়ে বৃষ্টি নামে
ভার হয়ে আসে পাখা
পৃথিবীর টানে মাটির টানে তার ভেতরে ঘুম
দেওয়ার সাধ হয় না।
আমি একটি ফড়িং উড়ে উড়ে ক্লান্ত পাখায় ডান সমেত আছড়ে পড়ি
ভাঙা ডানা নিয়ে ফের উড়ে যাই
আর অন্য আরেকটি বর্ণিল ডানার ফড়িং থেকে মানুষ হয়
চলে যায় ভিন্ন কোন পুরুষের বুকে।
বাংলাদেশ সময়: ১৭৩৬ ঘণ্টা, ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০১২