১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২০, রবিবার মে ২৬, ২০১৩ ৫:৪৬ এএম BDST banglanew24
25 May 2012   05:43:38 AM   Friday BdST
E-mail this

জার্মানিতে পরিবেশ সম্মেলন: প্রেক্ষিত বাংলাদেশ


নিউজ ডেস্ক
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
জার্মানিতে পরিবেশ সম্মেলন: প্রেক্ষিত বাংলাদেশ

জলবায়ু পরিবর্তনে কারণে বাংলাদেশের ঝুঁকি এবং তা মোকাবিলায় করণীয় বিষয়ে আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলো জার্মানির বন শহরে।

এছাড়া সম্মেলনে বাংলাদেশে জ্বালানির উৎস, প্রকৃতি ও সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা তুলে ধরেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্ট নেটওয়ার্ক, জার্মানি ‘ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন ক্লাইমেট চেঞ্জ ইফেক্টস অ্যান্ড এনার্জি  ডেভেলপমেন্ট অফ বাংলাদেশ (আইসিসিইবি)’ শীর্ষক দুইদিন ব্যাপী এই সম্মেলন আয়োজন করে।
 
১৮ ও ১৯ মে জার্মানির বন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেটিওরোলোজি বিভাগে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন জার্মানিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্টদূত মসুদ মান্নান। সভাপতিত্ব করেন জার্মানির হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ এশিয়া ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. ভোল্ফগাঙ্গ-পেটার সিংগেল। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের উপর এর ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে গবেষণার নানা সম্ভাবনাময় দিক তুলে ধরেন বন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেটিওরোলোজিক্যাল বিভাগের উচ্চতর গবেষক ড. ক্রিস্টিয়ান ওলভাইন। ‘আইসিসিইবি-২০১২` এর লক্ষ্য-উদ্দেশ্য এবং ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম সম্মেলনের ইতিবাচক ধারাবাহিকতার কথা তুলে ধরেন `আইসিসিইবি-২০১২` এর সাধারণ সম্পাদক ড. মাজহারুল এম ইসলাম রানা এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইনজা থিয়েলে আইচ।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় রাষ্ট্রদূত মসুদ মান্নান বলেন, ‘অপার সম্ভাবনার দেশ বাংলাদেশ। ইতিমধ্যে কৃষি, শিল্প, বিজ্ঞানসহ নানা ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রতিভাবান জনগোষ্ঠী কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে চলেছে। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিকে হুমকির দিকে ঠেলে দিয়েছে। এর হাত থেকে বাঁচতে করণীয় বিষয়ে এই সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
 
বাংলাদেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সমস্যা মেটাতে জীবাশ্ম অর্থাৎ কয়লা ও গ্যাস থেকে উৎপন্ন জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে কীভাবে সৌর শক্তি, বায়ু চালিত বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রযুক্তি ও নবায়ন যোগ্য জ্বালানি শক্তি উৎপাদনের দিকে এগিয়ে যাওয়া যায় সে বিষয়ে আলোচনা হয়।
 
সম্মেলনের প্রথম দিন ‘ক্ষুদ্র ঋণ এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের উপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব’ বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অস্ট্রেলিয়ার গ্রিফিথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোয়াজ্জেম হোসেন।

‘বাংলাদেশের বড় বড় নদীগুলোতে বন্যা পরিস্থিতির উপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব’ বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ইনজা থিলে আইচ।
 
‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের নগর অবকাঠামো - লক্ষিত জনগোষ্ঠীর আচরণ’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক সুজিত কুমার সরকার।

‘জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে কৃষিজীবীদের খাপখাওয়ানোর সক্ষমতা: বাংলাদেশের বিভিন্ন কৃষি নির্ভর অঞ্চলের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মুনতাহা রাকিব।

বাংলাদেশে টেকসই পানি কাঠামো ব্যবস্থার জন্য পানি দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যবস্থাপনার নানা দিক তুলে ধরেন মিউনিখ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এনামুল হক।

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এর নেতিবাচক প্রভাবের ক্ষতিপূরণের আইনি ও নীতিগত দিকগুলো উপস্থাপন করেন হাফিজুল ইসলাম খান। তিনি বাংলাদেশের পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক আইনি পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক।

বাংলাদেশের জাহাজ ভাঙা শিল্পে কর্মরত মানুষের অবস্থা এবং পরিবেশের ওপর এই শিল্পের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে বাংলাদেশি-জার্মান ছবি নির্মাতা শাহীন দিল-রিয়াজের প্রামাণ্যচিত্র ‘লোহাখোর’ বড় পর্দায় দেখানো হয় সম্মেলনের প্রথমদিন কারিগরি অধিবেশনের শেষে। এরপর ছবিটিতে উপস্থাপিত পরিস্থিতির বিভিন্ন প্রেক্ষিত নিয়ে নির্মাতা দিল-রিয়াজের সঙ্গে মতবিনিময় করেন উপস্থিত বিশেষজ্ঞ ও অতিথিবৃন্দ।

সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে পরিবেশ ও জ্বালানি বিষয়ে জ্ঞানগর্ভ প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মসুদ মান্নান, বাংলাদেশের পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব ড. এসএম মুঞ্জুরুল হান্নান খান, জার্মানির বিলেফেল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোবারক হোসেন খান, ব্রেমেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী বিভুতি রায়, কোলন ফলিত বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক খুরশিদ হাসান, ডর্টমুন্ড ফলিত বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মনিরুজ্জামান, নেদারল্যান্ডসের উন্নয়ন সংস্থা বাসুগ-এর সভাপতি বিকাশ চৌধুরী বড়ুয়া এবং বার্লিনের কারগরি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক শেখ মুহাম্মদ মেহেদি আহসান।

সম্মেলনের সমাপনী দিনে ড. মাজহারুল এম ইসলাম রানা ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যৌথ যে সব নদী রয়েছে সেগুলোতে বাঁধ নির্মাণের ফলে বাংলাদেশে কী ধরনের ক্ষতি হবে এ বিষয়েও গবেষণার ফলাফল তুলে ধরেন। সম্মেলন এ সবাই একমত পোষণ করেন যে ভারত সরকার গৃহীত নদ-নদির বাঁধ প্রকল্পগুলো দ্রুত বন্ধ করা উচিত।

বাংলাদেশ সময়: ০৫২৮ ঘণ্টা, মে ২৫, ২০১২

সম্পাদনা: রানা রায়হান, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Bookmark and Share
REVE Systems
VISA Center Inc
Holy Hajj BD
RehabHousing.com

প্রবাসের চিঠি

8877
Kaspersky Lab - Antivirus Software [ Bangladesh ]
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম | এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন

ফোন: +৮৮০ ২ ৮৪০২১৮১, ৮৪০২১৮২ আই.পি. ফোন: +৮৮০-৯৬১২১২০০০০ নিউজ রুম সেল: +৮৮-০১৭২৯০৭৬৯৯৬, ০১৭২৯০৭৬৯৯৯ ফ্যাক্স: +৮৮০ ২ ৮৪০ ২৩৪৬
ইমেইল: news.bn24@gmail.com, editor.banglanews@gmail.com, editor@banglanews24.com    বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম    এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন

বাংলায় লেখা হলে ইউনিকোডে পরিবর্তন করে ইমেইল করুন    কপিরাইট © 2013 সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত    একটি ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেড প্রতিষ্ঠান