 |
| ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
পাল্লেকেলে: অনেক আশা নিয়ে শ্রীলঙ্কায় বিশ্বকাপ খেলতে এসেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। স্বপ্ন দেখছে শীর্ষ আটে খেলার। কিন্তু তাদের সে আশায় গুড়ে বালি ঢেলে দিয়েছে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দল। গ্রুপের প্রথম ম্যাচে প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ডের কাছে পরাজয়ে এখনই সব শেষ হয়ে যায়নি বলে মনে করেন নাসির হোসেন।
প্রশ্ন: পরাজয়ের পরে দলের মানসিক অবস্থা এখন কেমন?
নাসির: হেরে গেলে মানসিক অবস্থা ভালো থাকে না। এখন অনেকটা ভালো। টোয়েন্টি টোয়েন্টি খেলায় এমন হতেই পারে। প্রত্যেক দিন সবাই ভালো খেলে না। এখনও একটা ম্যাচ আছে, ওটাতে আমরা ফোকাস করছি।
প্রশ্ন: বিষয়টি কি এমন, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জিততেই হবে ধরে নিয়ে মানসিক চাপে পড়েছিলো সবাই?
নাসির: আন্তর্জাতিক খেলায় সব সময় চাপ থাকে। আপনি বলতে পারবেন না চাপ থাকে না। আমরা জেতার জন্যই নেমেছিলাম, হয়নি। তারা ভালো খেলে জিতেছে।
প্রশ্ন: অনেকগুলো মিস ফিল্ডিং হয়েছে, দেখে মনে হয়েছে খেলোয়াড়রা একটু হলেও নার্ভাস ছিলো, আপনার কি মনে হয়?
নাসির: আমি আমারটা বলতে পারবো কিন্তু বাকিদের ভেতরে কেমন ছিলো তা বলতে পারবো না। আমি নার্ভাস ছিলাম না। বাকিদের ভেতরে কি ছিলো সেটা তারাই ভালো বলতে পারবেন।
প্রশ্ন: আপনি স্বচ্ছন্দে ব্যাটিং করেছেন, বাকিদের এমন হলো কেন?
নাসির: আসলে আমি যখন ব্যাটিংয়ে গেছি তখন জেতার সম্ভাবনা কমে গিয়েছে। সেজন্য আমার কাছে তেমন চাপ মনে হয়নি। যদি ৬০ বলে ৮০ রানের টার্গেট থাকতো তাহলে চাপ থাকতো।
প্রশ্ন: টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত কতটা যৌক্তিক ছিলো?
নাসির: প্রথম ছয় সাত ওভারে তেমন রান করতে পারেনি। আমরা যদি ব্যাটিং করতাম হয়তো আমাদেরও সেরকম হতে পারতো। সব কিছু ঠিক ছিলো কিন্তু পরের ছয় সাত ওভারে উইকেট পড়েনি। ফলে পরবর্তীতে তারা রান করেছে।
প্রশ্ন: পরবর্তী ম্যাচ নিয়ে কি ভাবছেন?
নাসির: পরবর্তী ম্যাচ নিয়ে ভাবার কিছু নেই। আমাদের জিততেই হবে। এর বেশি কিছু না।
প্রশ্ন: কালকের ম্যাচের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করবে, টিম মিটিং থেকে এবিষয়ে কোন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে?
নাসির: এসব ব্যাপার নিয়ে কোন কিছু আলাপ হয়নি। আলাপ হয়েছে পাকিস্তানের সঙ্গে আমাদের খেলা নিয়ে। আমরা কিভাবে খেলবো এবং কোথায় কোথায় ভুলগুলো ছিলো তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
প্রশ্ন: আগেও আপনি বড় ইনিংস খেলেছেন কিন্তু দল হেরেছে, এমন পরিস্থিতিতে কেমন লাগে?
নাসির: অনুভূতিটা আসলে কিছুক্ষণের জন্য ভালো লাগে। কিন্তু দল হারলে তার কোন মূল্য থাকে না। আমি ব্যক্তিগত ভাবে ফিল করি, আমি শূন্য করলেও দল জিতলে আমার কাছে ভালো লাগে।
প্রশ্ন: বাংলাদেশ যদি কোন ম্যাচ হারে তাহলে পরের ম্যাচগুলোতে আরও খারাপ খেলে। আপনার কাছে কি মনে হয় বাংলাদেশ দল সে ধারা থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে?
নাসির: ইনশাল্লাহ আমরা সে ধারা থেকে বের হয়ে আসতে পারবো। পাকিস্তানের সঙ্গে জেতার জন্যই খেলবো। দেখা যাক কি হয়।
প্রশ্ন: সত্যিই কি ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব?
নাসির: ক্রিকেট খেলায় সব কিছু সম্ভব, ১০টা ভালো বলে ১০টা উইকেটও পড়তে পারে। ১০টা খারাপ বলে ১০টা ছয়ও হতে পারে। আমাদের আশা থাকবে সুপার এইটে খেলার।
প্রশ্ন: আপনার কি মনে হয় মানসম্পন্ন কোন দলের বিপক্ষে না খেলায় প্রস্তুতিতে একটু ঘাটতি ছিলো?
নাসির: আমার মনে হয় বোর্ড চেষ্টা করেছে তাদের সাধ্যমতো ভালো দলের সঙ্গে খেলানোর। তার বাইরে পারেনি। আমাদের টোয়েন্টি- টোয়েন্টিতে খেলার অভ্যাস খুব একটা ছিলো না। প্র্যাকটিস ম্যাচ থেকে তা হয়েছে।
প্রশ্ন: ছোট দলের সঙ্গে খেলার প্রভাব কি কালকের ম্যাচে পড়েছে?
নাসির: আমার যেটা মনে হয় যত বড় দলের বিপক্ষে খেলবেন তত ভালো হবে। আর যত ছোট দলের সঙ্গে খেলবেন উন্নতি কম হবে। শ্রীলঙ্কার প্রস্তুতি ম্যাচ দুই বড় দলের বিপক্ষে খেলতে পারলে হয়তো ভালো হতো।
প্রশ্ন: আপনারা লাইনলেন্থ রেখে বল করতে পারেননি, এমন কেন হলো?
নাসির: সব ব্যাটসম্যানের জন্য আলাদা আলাদা পরিকল্পনা থাকে। আমরা সব ব্যাটসম্যানের জন্য আলাদা একটা পরিকল্পনা করেছিলাম। কিন্তু পরিকল্পনা কাজে দেয়নি। সে জন্য হয়তো রানটা একটু বেশি হয়েছে।
প্রশ্ন: ম্যাককালামের জন্য কি ধরণের পরিকল্পনা ছিলো?
নাসির: তাকে আমরা খেলার জন্য জায়গা দেবো না। চেষ্টা করবো শরীরের ওপর বল করতে। আমরা যেটা করতে চেয়েছি তা পরিনি।
ক্যান্ডি সময়: ১৬২৬ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ২২, ২০১২
এসএ/সিজি