 |
নিউইয়র্কঃ যুক্তরাষ্ট্র সফররত শক্তিমান নাট্যাভিনেতা এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনের (এফডিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, গত ৪০ বছরে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অগ্রসর হয়নি। এনালগ মেশিন এবং সেকেলে পদ্ধতিতে এফডিসির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ফলে গত ৪০ বছরে ৫টি ভালো ছবি তৈরি হয়নি।
তিনি বলেন, চলচ্চিত্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের চিন্তার পরিবর্তন করতে হবে। ভালো চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য মেধাবী তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার বিকালে নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশি সাংবাদিকদের সংগঠন আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাব আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় আরো বলেন, বাংলা চলচ্চিত্রের দর্শক কারা এখন তা বলা মুশকিল। সিনেমা হল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সারা দেশে এখন সিনেমা হল আছে মাত্র ৪৭১টি। তিনি বলেন, বাংলা চলচ্চিত্রের উন্নয়নের দাবিতে আমরা দীর্ঘদিন যাবত আন্দোলন করে আসছি। চলচ্চিত্রের চরম বেহাল অবস্থার সময় এফডিসির দায়িত্ব পেয়েছি। কঠিন এক চ্যালেঞ্জ আমার সামনে।
তিনি বলেন, চলচ্চিত্র নির্মাণের পুরো সিস্টেমে ধস নেমেছে। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য চলচ্চিত্র নির্মাণ প্রক্রিয়ায় আমূল পরিবর্তন আনতে হবে। আশার কথা, সরকার চলচ্চিত্রকে শিল্প হিসাবে গেজেটে পরিণত করেছে এবং এ বছর ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট-এর ঘোষণা দেবে সরকার। এর মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্র জগতে উন্নয়নের ধারা এবং জাগরণ সৃষ্টি হবে।
এই ইনস্টিটিউট হলে ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে চলচ্চিত্রে পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ভারতের পুণে ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট তৈরি হয়েছিল বলে বলিউড চলচ্চিত্র আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের অবস্থান করে নিয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষার পাঠ্যসূচিতে চলচ্চিত্র বিষয় অন্তর্ভূক্তি করা দরকার। এ বিষয়ে দাবি জানাবো শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে। নতুন প্রজন্ম এবং মেধাবী ছাত্রদের সম্পৃক্ত করতে পারলে বাংলা চলচ্চিত্রে প্রাণ ফিরে আসতে পারে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পীযূষ বন্দোপাধ্যায় বলেন, এফডিসিতে কোন লাইবে্িরর নেই, সংগ্রহশালাও নেই। এনালগ সিস্টেমের মেশিনারিজ থাকলেও চলচ্চিত্র নির্মাণে মেধাবী লোকের অভাব রয়েছে।
মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী শামসুল হক। সভার সঞ্চালক ছিলেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মীর-ই ওয়াজেদ শিবলী।
বাংলাদেশ সময়: ১০৩০ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১২
সম্পাদনা: নূরনবী সিদ্দিক সুইন, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর