 |
সংসদ ভবন থেকে: শাহবাগের ‘প্রজন্ম চত্বরের’ তরুণদের আহ্বানে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে হৃদয়ের আগুন মোমবাতির মাধ্যমে জ্বালিয়ে দিলেন জাতীয় সংসদের দুই শতাধিক সংসদ সদস্য।
বৃহস্পতিবার অধিবেশনের মাগরিবের নামাজের বিরতিতে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় সন্ধ্যা সাতটার আগেই জমা হন সংসদ সদস্যরা।
৬৯’র তুখোড় ছাত্রনেতা তোফায়েল আহমেদের নেতৃত্বে স্লোগানে প্রকম্পিত করেন সংসদ এলাকা। এ যেন কিছু সময়ের জন্য ৬৯ আর ৭১ এ ফিরে যাওয়া।
‘তোমার আমার ঠিকানা/ পদ্মা- মেঘনা- যমুনা/, তুমি কে/আমি কে/ বাঙালি বাঙালি- স্লোগানে এমপিরাও আজকের প্রজন্মের সঙ্গে নিজেদের কণ্ঠ মেলালেন।
জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা এবং রাজাকারদের ফাঁসির দাবিতে কণ্ঠ মেলাতে সংসদ সদস্যদের সঙ্গে যোগ দেন ডেপুটি স্পিকার শওকত আলীও।
সন্ধ্যা সাতটা বাজার সঙ্গে সঙ্গেই নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে সারাদেশের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করলেন জনপ্রতিনিধিরা। সবারই হাতে প্রজ্জ্বলিত মোমবাতি। আগুনের শিখা আর নীরাবতা যেন বারবার বলছে ‘মুক্তিযুদ্ধের বাংলায়/ রাজাকারদের ঠাঁই নাই।’
মোমবাতি প্রজ্জ্বলন কর্মসূচিতে অন্যান্য সংসদ সদস্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন আমীর হোসেন আমু, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, চিফ হুইপ আব্দুস শহীদ, মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত, পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিম, যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, খাদ্যমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবীর নানক প্রমুখ।
সংসদ সদস্যদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংসদ বিটে কর্মরত সাংবাদিকরাও।
কর্মসূচি শেষে তোফায়েল আহমেদ বলেন, “৬৯ এ যে বাঙালি জাতি অত্যাচার-অনাচারের বিরুদ্ধে জেগে উঠেছিলো দীর্ঘ ৪০ বছর পর আজ আবাও তারা জেগে উঠেছে। তখনও নেতৃত্বে ছিলো তরুণরা। এখনও তরুণরাই জেগে উঠেছে।”
তিনি আরো বলেন, “যখন তরুণ সমাজ জেগে ওঠে, তাদের পথ রুদ্ধ করার মতো কেউ থাকে না। বিল পাসের মাধ্যমে তাদের দাবির প্রতি সম্মান দেখানো হবে।”
চিফ হুইপ আব্দুস শহীদ বলেন, “রাজাকার-আলবদররা এদেশকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিয়েছিলো। মোমবাতি প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে রেসই জাতিকে আবার আলোকিত করলো তরুণ সমাজ। এ থেকেই ধারণা করা যায় ইতিহাস সঠিক পথেই এগোচ্ছে। বিচারের বাণী নিরবে-নিভৃতে কাঁদে না।”
বাংলাদেশ সময়: ২০১০ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০১৩
এসএইচ/সম্পাদনা: নূরনবী সিদ্দিক সুইন, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর