 |
ঢাকা: সিলেটের কৈলাশটিলা-৪ এর নতুন স্তর থেকে গ্যাস উত্তোলন শুরু হয়েছে। এই কূপ থেকে দৈনিক ২০ থেকে ২২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাইপলাইনে যুক্ত হবে বলে জানিয়েছেন পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান ড. হোসেন মনসুর।
বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে গ্যাস উত্তোলন এবং পাইপলাইনে সরবরাহ শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।
গ্যাসের সঙ্গে দৈনিক প্রায় ২০০ ব্যারেল কনডেনসেড ওয়েল পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান। যা থেকে পরিশোধন করে মোটর অয়েল পাওয়া যাবে।
নতুন স্তর থেকে গ্যাস উত্তোলনের ফলে চলমান গ্যাস সংকট কাটিয়ে ওঠা সহজ হবে বলেও মনে করছেন পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান।
মাটির নিচে ২৭১০ থেকে ২৭২৯ মিটার এই নতুন স্তরটি আবিষ্কার করে বাপেক্স। সিসমিক সার্ভেতে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের মজুদ আশা করা হচ্ছে বলে বাংলানিউজকে জানিয়েছেন বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মর্তুজা আহমেদ ফারুক।
বাপেক্স সূত্র জানিয়েছে, এ স্তরে প্রেসার খুবই আশাব্যঞ্জক। এখানে রিজার্ভার প্রেসার রয়েছে ৩৮৫০ পিএসআই। এখান থেকে দৈনিক ২৫ মিলিয়ন পর্যন্ত গ্যাস উৎপাদন সম্ভব।
পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান জানান, ‘‘আমরা বিশাল কর্মযজ্ঞ হাতে নিয়েছি। এখন ধারাবাহিকভাবে ফল আসতে থাকবে। কাজের এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে খুব শিগগিরই দেশের গ্যাস সংকট দূর করা সম্ভব হবে।’’
উল্লেখ্য, কৈলাশটিলা ৪ নম্বর কূপটি ১৯৯৬ সালে খনন করা হয়। এই কূপের নিচের স্তর থেকে ১৯৯৭ সালে দৈনিক ১৪ থেকে ২৬ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস তোলা হয়। ৩৪৫ বিসিএফ প্রমাণিত মজুদের এ স্তর থেকে ৯১ এমএমসিএফডি গ্যাস উত্তোলন করা হয়।
এরপর চাপ কমে গেলে ২০০৫ সালে বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং ২০০৬ সালে ওয়ার্কওভার করে মাঝের স্তর (মিডল জোন) থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত দৈনিক প্রায় ১৫ এমএমসিএফডি গ্যাস তোলা হয়।
এ স্তরের গ্যাসের মজুদ ধরা হয়েছে ২০৪ বিসিএফ। এ দফায় ২০১১ সালের ২৮ মার্চ পানি আসতে শুরু করলে উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া হয়।
সর্বশেষ চলতি বছরের জুন মাসে বাপেক্স এ কূপটির নতুন স্তরে ওয়ার্কওভার শুরু করে। এর মাধ্যমেই নতুন করে গ্যাস উত্তোলন শুরু হতে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ সময়: ১২৫১ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১২
ইএস/ সম্পাদনা: অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর; জুয়েল মাজহার, কনসালট্যান্ট এডিটর jewel_mazhar@yahoo.com