 |
| ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
হবিগঞ্জ: হবিগঞ্জে বেগম খালেদা জিয়ার আগমন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভায় দুই নেতার কথা কাটাকাটির জের ধরে বুধবার বিএনপির দুই পক্ষের দুই দফা সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
এ সময় সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৪৩ রাউন্ড রাবার বুলেট ও ১০ রাউন্ড টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে।
বুধবার বিকেল ৫টা ও সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় দুই দফা এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
গুরুতর আহত মাছুম মিয়া (২৩), শফিকুর রহমান সিতু (৩৫) ও শেখ মামুনকে (৩২) সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এ ছাড়া পৌর কাউন্সিলর মাহবুবুল হক হেলাল (৩৫), যুবদল কর্মী মামুন (২৮), শ্যামল (৩২), শিজিল (৩০), সেলিম (৩২), বাচ্চু (৩২), ছাত্রদল কর্মী কাউছার (২১), হান্নান (২৮), ইরামন (১৭), তারেক (২৮), জামাল (২৫), কাশেম (২৮), বাপ্পী (২০), নজরুল (২২) ও লজুদকে (২৩) হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাদের নাম পরিচয় জানা যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৬ অক্টোবর বেগম খালেদা জিয়ার হবিগঞ্জ আগমন উপলক্ষে বিকেল ৩টায় হবিগঞ্জ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক প্রস্তুতি সভার আয়োজন করে জেলা বিএনপি। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপি সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সল। পরিচালনায় ছিলেন, জেলা বিএনপি সেক্রেটারি জি কে গউছ।
এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি শমসের মুবিন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন, যুগ্ম মহাসচিব মো. শাহজাহান মিয়া।
বেলা ৫টায় জনসভার স্থান নির্ধারণ নিয়ে বক্তব্য দেন, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক সেলিম।
তার বক্তব্যের পর পরই জেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক জি কে গউছ ও এনামুল হক সেলিম সমর্থিত বিএনপি ও যুবদল কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এ সময় প্রেসক্লাব সংলগ্ন রাস্তায় দুই পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় শহরের প্রধান সড়কের কোর্ট মসজিদ এলাকায় অবস্থিত কলাপাতা রেস্টুরেন্ট ভাঙচুর করা হয়। পরে হবিগঞ্জ সদর থানা পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বিকেলের ঘটনার জের ধরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শায়েস্তানগর বাজার এলাকায় এক পক্ষে জি কে গউছ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল যুগ্ম আহ্বায়ক জাহিদুল আলম চৌধুরী জাক্কু ও অপর পক্ষে এনামুল হক সেলিম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান, যুবদল নেতা শামসুল ইসলাম মতিন ও জহিরুল ইসলামের সেলিমের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
ঘন্টা ব্যাপী সংঘর্ষে অন্তত ৩০ নেতাকর্মী আহত হয়। পরে সদর থানা পুলিশ রাবার বুলেট ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক বাংলানিউজকে জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ২১৪৫ ঘন্টা, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১২
সম্পাদনা: প্রভাষ চৌধুরী, নিউজরুম এডিটর