 |
সংসদ ভবন থেকে: গত ৪০ বছরের মধ্যে ২৩ বছরই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লোকসান দিয়েছে বলে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী ফারুক খান।
সোমবার জাতীয় সংসদে টেবিলে উত্থাপিত হাবিবর রহমানের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, জাতীয় পতাকাবাহী ন্যাশনাল ক্যারিয়ার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স শুধু ব্যবসায়িকভাবে পরিচালিত হয় না, সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসাবেও কাজ করে।
মন্ত্রী বলেন, “বিগত ৪০ বছরের মধ্যে বিমান ১৭ বছর লাভ করেছে, বাকি ২৩ বছর লোকসান দিয়েছে।”
লোকসানের প্রধান কারণ হিসেবে তিনি বলেন, “বিশ্ব বাজারে উড়োজাহাজের জ্বালানি তেলের মূল্যের উর্ধ্বগতি, বিমান বহরে বিদ্যমান পুরানো উড়োজাহাজের অধিকতর রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়, লিজ উড়োজাহাজ দিয়ে ফ্লাইট পরিচালনায় লিজ রেন্ট এবং প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে পরিবহন ভাড়া না বাড়াতে পারা।”
তিনি জানান, বিমানকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে অত্যধিক রক্ষণাবেক্ষণ (মেইন্টেনেন্স) ব্যয় জড়িত উড়োজাহাজগুলো বিমানের ফ্লাইট থেকে অপসারণ, বিদেশি হোটেলে ক্রু-স্লিপ সংকোচনের মাধ্যমে ব্যয় সাশ্রয়, দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার আওতায় নিজস্ব ১০টি উড়োজাহাজ সংগ্রহ এবং গ্লোবাল ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেমের (জিডিএম) খরচ কমানোর লক্ষ্যে ইন্টারনেট বুকিং ইঞ্জিন (আইবিই) চালু করা হয়েছে।
এবিএম আশরাফ উদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে বিমানমন্ত্রী বলেন, উড়োজাহাজের স্বল্পতা এবং মাঝে মাঝে যান্ত্রিক ক্রটির কারণে সাময়িকভাবে সিডিউল ব্যাহত হয়ে থাকে।
নাছিমুল আলম চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে বিমান মন্ত্রী বলেন, “বিদেশি পর্যটকদের জন্য কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সাবরাং-এ এক্সক্লুসিভ টুরিস্ট জোন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
তিনি জানান, এরই মধ্যে জমিসংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে সরবারহ করে স্পারসোর (SPARRSO) মাধ্যমে হাই রেজুলেশন স্যাটেলাইট ইমেজ প্রস্তুত করা হয়েছে।
এছাড়া কুয়াকাটার ওপর প্রণীত মাস্টার প্ল্যানের মধ্যে এক্সক্লুসিভ টুরিস্ট জোন স্থাপনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত আছে বলেও জানান মন্ত্রী।
নুরুল ইসলাম সুজনের প্রশ্নের জবাবে ফারুক খান জানান, ২০১১-১২ অর্থবছরের মার্চ মাস পর্যন্ত পর্যটন খাত থেকে ৫৬৭ কোটি ৯৪ লাখ আয় হয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ১৩৩৩ ঘণ্টা, জুন ২৫, ২০১২
এসএইচ/সম্পাদনা: রানা রায়হান, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর