 |
| ছবি:উজ্জ্বল ধর /বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
চট্টগ্রাম: তেল, চিনি, ছোলা ও খেজুরের দাম পাইকারি বাজারে ক্রমান্বয়ে কমতে থাকলেও খুচরা বাজারে এর প্রভাব এখনও পড়েনি। চট্টগ্রামের খুচরা বাজারে অত্যাবশ্যকীয় এ পণ্য তিনটি ৬ থেকে ২০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
আমদানিকারক ও খাতুনগঞ্জের পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, গত এক সপ্তাহর ব্যবধানে তেল, চিনি, ছোলা ও খেজুরের দাম ক্রমান্বয়ে কমেছে।
তবে নগরীর খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এসব পণ্যে দাম কমার কোন প্রভাব পড়েনি। খুচরা বাজারে এসব পণ্য বিক্রি হচ্ছে ৫ থেকে ২০ টাকা বেশি দামে।
পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, অধিক মুনাফা অর্জনের মনোভাবের কারণে পাইকারিতে দাম কমলেও খুচরায় এর প্রভাব পড়ছে না।
খাতুনগঞ্জের পাইকারি ব্যবসায়ী ও আমদানিকারক মেসার্স হাজি নাজির আহমেদ অ্যান্ড সন্স’র স্বত্বাধিকারী তৈয়বুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, “রমজানের শুরুর দিকে তেল, চিনি, খেজুর ও ছোলার দাম বাড়লেও তা ক্রমান্বয়ে কমতে শুরু করে।”
তিনি জানান, রোববার খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে প্রতি মণ খেজুর বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ১৩৭ টাকায়। এ হিসাবে প্রতি কেজি খেজুরের দাম পড়ে ৫৭ টাকা।
এক সপ্তাহ আগেও এ খেজুর কেজি প্রতি ৬১ থেকে ৬২ টাকায় বিক্রি হয়েছিল বলে জানান তিনি। রোববার নগরীর বিভিন্ন বাজারে খুচরায় ৬২ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হয় খেজুর।
রমজানের শুরুর দিকে বার্মা থেকে আমদানি করা ছোলা মণ প্রতি ৩ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হলেও গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ৩ হাজার টাকায়। আর রোববার এ ছোলা বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ৮৫০ টাকায়। অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানিকৃত ছোলা এক সপ্তাহ আগে ২ হাজার ৮০০ টাকা বিক্রি হলেও রোববার বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ৬০০ টাকায়।
এক সপ্তাহ আগে ১ হাজার ৮৭০ টাকায় বিক্রি হওয়া চিনি রোববার বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৮৫৫ টাকায়।
রোববার নগরীর অন্যতম পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে প্রতি মণ পামঅয়েল ৩ হাজার ৬৩০, সয়াবিন ৪ হাজার ৭৮০ ও সুপার ৩ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হয়।
এ হিসাবে পাইকারিতে প্রতি কেজি পাম অয়েল ৯৬, সয়াবিন ১২৭ ও সুপার ১০১ টাকায় বিক্রি হয়। কিন্তু রোববার নগরীর অন্যতম খুচরা বাজার বহদ্দারহাটে বিক্রি হয়েছে যথাক্রমে ১০৫, ১৩৫ ও ১১২ টাকায়।
বহদ্দারহাটের দোকানি সুজিত হক বাংলানিউজকে বলেন, “বর্তমানে যেসব পণ্য বিক্রি করছি সেগুলো বেশি দামে কে না তাই ওই হিসাবে বিক্রি করতে হচ্ছে।”
খাতুনগঞ্জের পাইকারী ব্যবসায়ীরা জানান, দাম বাড়লে খুচরা বাজারে দ্রুত এর প্রভাব পড়ে কিন্তু দাম কমলে তার প্রভাব সহজে পড়ে না। এজন্য খুচরা বিক্রেতাদের অতি মুনাফার মনোভাবকে দায়ী করেন তারা।
নগরীর কাজির দেউড়ি বাজারে রোববার প্রতি কেজি ছোলা বিক্রি হয়েছে ৮৫ থেকে ৯০ টাকায়। অথচ একইদিন পাইকারি বাজারে বার্মা থেকে আমদানি করা প্রতি কেজি ছোলা বিক্রি হয়েছে ৭৫ টাকায়। আর অস্ট্রেলিয়া থেকে আমাদানি করা ছোলা ৬৮ টাকায়।
কাজির দেউড়ি বাজারের খলিল স্টোরের স্বত্বাধিকারী মোখলেছুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, “এখানে ভাল মানের ছোলা বিক্রি করতে হয়। তাই দামও একটু বেশি।”
পাইকারি বাজারে দাম কমার বিষয়ে তিনি বলেন, “পাইকারি বাজারে দাম কমলে তার প্রভাব পড়বে আরও কয়েকদিন পর। আগেরগুলো বেশি দামে কেনা থাকায় এখন ওই মূল্যেই বিক্রি করতে হচ্ছে।”
খাতুনগঞ্জের শীর্ষ ড্রাই ফ্রুটস আমদানিকারক মেসার্স হাজী নাজির আহমেদ অ্যান্ড সন্সের স্বত্বাধিকারী তৈয়বুর রহমান বলেন, “দেশে খেজুরের মজুদ পর্যাপ্ত। তবে আমদানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় রমজানের শুরুতে দাম কিছুটা বেড়ে যায়।”
কয়েকদিন থেকে দাম কমতে শুরু করেছে বলে জানান তিনি।
সূত্রমতে, দেশে খেজুরের মোট চাহিদা ২৫ থেকে ৩০ হাজার টন। তবে শুধু রমজানের মৌসুমে সারা দেশে ১৫ হাজার টন খেজুরের চাহিদা রয়েছে। মূলত সাধারণ ক্রেতা পর্যায়ে ভেজা খেজুরের চাহিদাই সবচেয়ে বেশি থাকে। এছাড়া সীমিত পর্যায়ে খোরমা খেজুর বিক্রি হয় বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
জানা গেছে, ইরাকের খেজুর বাংলাদেশের ৮০ ভাগ চাহিদা মেটায়। যা সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রক্রিয়াজাত হয়ে বাংলাদেশে রফতানি হয়। বাদ বাকি খেজুর আমদানি হয় ইরান ও পাকিস্তান থেকে। সারা বছর খেজুরের চাহিদা উল্লেখযোগ্য না হলেও রমজান মাসেই ১৫ হাজার টনের বেশি বিক্রি হয়। এরমধ্যে শুকনো খোরমা খেজুরের চাহিদা রয়েছে বার্ষিক ৫০০ টনের মতো।
খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এক সময় খাতুনগঞ্জ সারা দেশের সিংহভাগ খেজুরের চাহিদা মেটাতো। বর্তমানে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন পাইকারি বাজারের আমদানিকারকরা খেজুরের ব্যবসায় আসায় এ ব্যবসা ভাগ হয়ে গেছে। বর্তমানে খাতুনগঞ্জের খেজুরের ব্যবসা সারা দেশের ৫০ ভাগ নিয়ন্ত্রণ করে বলে জানান তারা।
খাতুনগঞ্জের আমদানিকারক ও আবেদীন ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী ওসমান চৌধুরী বলেন, “এবছর রমজানের পণ্য হিসেবে সাধারণ (জেহাদী খেজুর) খেজুরের মজুদ যথেষ্ট রয়েছে। ফলে রোজার শুরুতে দাম কিছুটা বাড়লেও কয়েকদিন পর থেকে দাম কমতে থাকে।”
বাংলাদেশ সশয়: ১৮৩০ ঘণ্টা, জুলাই ২৯, ২০১২
এমইউ/ সম্পাদনা: জাকারিয়া মন্ডল, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর