 |
| ছবি: দেলোয়ার হোসেন বাদল /বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
ঢাকা: “তোমাদের যানবাহনের ও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করতে হবে, রাজধানীর বাইরের হোটেলের মান উন্নত করতে হবে। পর্যটনে উন্নতি ঘটাতে হলে এসব বিষয়ে বিশেষ দৃষ্টি না দিলে এ খাতের উন্নয়ন সম্ভব নয়।”
কথাগুলো বলছিলেন সফরত জার্মান সাংবাদিক ড. মার্টিন পাবস্ট। এক সপ্তাহ বাংলাদেশ সফর শেষে দেশের পর্যটনের নেতিবাচক দিকগুলো সম্পর্কে খোদ বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী ফারুক খানের সামনে এভাবেই নিজের মতামত তুলে ধরেন তিনি।
তবে শুধু নেতিবাচক কথাই নয়, পর্যটনের ইতিবাচক দিকগুলো সম্পর্কেও তার মত প্রকাশ করেছেন তিনি।
শুক্রবার রাজধানীর রূপসী বাংলা হোটেলে সফররত ৮ বিদেশি সাংবাদিক ও ৭ বিদেশি ট্যুর অপারেটরদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশের পর্যটন ব্যবস্থার সঙ্গে বিদেশিদের পরিচিত করে তুলতে সম্প্রতি একটি ‘পরিচিতিমূলক ভ্রমণ’-এর আয়োজন করে জাতীয় পর্যটন সংস্থা ‘বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড (বিটিবি)’।
পর্যটনের বিকাশে ৬ বছরব্যাপী পর্যটন বিপণন কর্মসূচি ‘ভিজিট বাংলাদেশ ক্যাম্পেইন’-এর অংশ হিসেবে এই ভ্রমণের আয়োজন করা হয়। এ ভ্রমণে জার্মানি স্পেন ও জাপানের ৮ জন সাংবাদিক ও ৭ জন ট্যুর অপারেটরকে আমন্ত্রণ জানায় বিটিবি।
১৬ জুন থেকে তাদের বাংলাদেশ ভ্রমণ শুরু হয়। সফরকারীরা বাংলাদেশের সুন্দরবন, বাগেরহাটের ষাটগম্বুজ মসজিদ, পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারসহ বেশ কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী স্থান ঘুরে দেখেন।
বিদেশি অতিথিদের বাংলাদেশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগির সুযোগ করে দিতে শুক্রবার স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময়ের আয়োজন করে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড। রূপসী বাংলা হোটেলে আয়োজিত এ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী ফারুক খান।
সভায় উপস্থিত ছিলেন, জার্মানির ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক ড. মার্টিন পাবস্ট, স্পেনের ডাউভ্যালেনডিয়া’র ট্যুর অপারেটর আলবার্তো জোরাল গমেজ ও জাপানের কানাগাওয়া সিমবুন পত্রিকার সাংবাদিক ইউকি তাকাহাসি।
ড. মার্টিন পাবস্ট বলেন, “এতদিন জানতাম, বাংলাদেশ একটি বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও দূর্যোগপূর্ণ দেশ। এখানে আসার আগে বাংলাদেশ নিয়ে এ ধরনের নেতিবাচক ধারণাই ছিল। তবে এখানে এসে আমার সেই ধারণা পাল্টে গেছে। এখানকার মানুষ অত্যন্ত অতিথিপরায়ণ এবং বন্ধুবৎসল। এদেশ সফর করে মনে হয়েছে, এদেশের মানুষই সবচেয়ে বড় সম্পদ। আমি বলতে পারি, পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশ অনেক বেশি আকর্ষণীয়। ”
তিনি বলেন, “বাংলাদেশের সংস্কৃতি অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়, যা ইউরোপ-আমেরিকা বা অন্যান্য অঞ্চলের পর্যটকদের খুব সহজে আকৃষ্ট করবে। তবে একটি বিষয় না বললেই নয়, বাংলাদেশের অধিকাংশ পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে মানসম্মত হোটেলের অভাব রয়েছে। তবে এখানকার স্থানীয় খাবারগুলো খুবই সুস্বাদু।”
ট্যুরিজম বোর্ডকে ধন্যবাদ জানিয়ে মার্টিন বলেন, “ভ্রমণটা বেশ চমৎকার ছিল। ট্যুরিজম বোর্ড সবকিছু অনেক ভালোভাবে ব্যবস্থা করেছে। যা কিনা ইউরোপের অনেক সংস্থাও করতে পারে না। তবে সময় ছিল অত্যন্ত কম। তড়িঘড়ি করে ভ্রমণের আনন্দ খুব একটা উপভোগ্য হয় না। তবে সব কিছুর পরেও এধরনের পরিচিতমূলক ভ্রমণের আয়োজন করার ফলে বাংলাদেশ সম্পর্কে আমাদের বেশ ভাল করে জানার সুযোগ তৈরি হয়েছে।”
মার্টিনের মন্তব্য, “বাংলাদেশের পর্যটন খাতের আরো মানোন্নয়ন প্রয়োজন। বিশেষ করে হোটেলের মান আরো উন্নত করা প্রয়োজন। এছাড়া সড়ক ও পরিবহনের মানোন্নয়নও জরুরি। পর্যটন মন্ত্রীর নিকট তার আবেদন, তিনি যেন পর্যটন মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারের বাইরের বিষয়, বিশেষ করে অবকাঠামো খাতের উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি বোঝান এবং তাদেরকে প্রভাবিত করেন।”
তিনি আরো বলেন, “পর্যটনের একটি বড় দিক হলো এর বিপণন। বাংলাদেশের পর্যটন সম্পর্কে বিদেশিদের কাছে আরো বেশি বিপণন করতে হবে। তাদেরকে বোঝাতে হবে, বাংলাদেশ একটি নতুন গন্তব্য। বাংলাদেশে আসো এবং নতুন কিছু দেখে যাও।”
এক প্রশ্নের জবাবে মার্টিন বলেন, “বাংলাদেশের নিজস্ব একটি সংস্কৃতি রয়েছে। এটাই অনেক বেশি উপভোগ্য। এখানে নৈশক্লাব বা এধরনের পশ্চিমা বিনোদন নেই, তাতে কোনো অসুবিধা নেই। আমরা এখানে অন্য অনেক ধরনের বিনোদন পেয়েছি।”
স্পেনের ট্যুর অপারেটর আলবার্তো গমেজ বলেন, “বাংলাদেশের দর্শনীয় স্থানগুলো সত্যিই আকর্ষণীয়। এছাড়াও এখানকার খাবার অন্যান্য অনেক দেশের তুলনায় ভিন্ন স্বাদের। সব কিছু মিলিয়ে আমার অভিজ্ঞতা বেশ ভালো।”
ইউকি তাকাহাসি বলেন, “বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের আতিথিয়তা করার যোগ্যতা রাখে।”
বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আখতারুজ্জামান খান কবিরের সভাপতিত্ত্বে অনুষ্ঠানে পর্যটন মন্ত্রী ফারুক খান বলেন, “বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প বিকাশে এখন সবচেয়ে বড় ভূমিকার রাখতে পারে দেশ-বিদেশের গণমাধ্যমগুলো।”
তিনি বিদেশি সাংবাদিকদের তাদের নিজ দেশের সংবাদপত্রে বাংলাদেশের পর্যটন সম্পর্কে বেশি করে ইতিবাচক প্রতিবেদন তৈরির অনুরোধ জানান। বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের ঐতিহ্যকে তুলে ধরারও আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশ সময়: ১৯৩০ ঘণ্টা, জুন ২২, ২০১২
আইএইচ/সম্পাদনা : আবু হাসান শাহীন, নিউজরুম এডিটর