 |
ঢাকা: লেবাননের রাজধানী বৈরুতের সমুদ্র উপকূলে খোলা মঞ্চে দাঁড়িয়ে সমবেত হাজারও মানুষের প্রতি ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার আহবান জানালেন পোপ বেনিডিক্ট ষোড়শ।
তিনদিনের লেবানন সফর শেষে রোমে ফিরে যাওয়ার আগে বৈরুতের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত সিটি সেন্টার সংলগ্ন নয়নাভিরাম সমুদ্র উপকূলে তার সম্মানে আয়োজিত সমাবেশে উপস্থিত হাজার হাজার লোকের সামনে রোববার বক্তব্য দেন বিশ্বের রোমান ক্যাথলিকদের এ সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক নেতা।
এ সময় দেওয়া বক্তব্যে তিনি সবাইকে হিংসার পথ ছেড়ে শান্তির অন্বেষণ করার আহবান জানান, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থির পরিস্থিতিতে পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য এখানকার মুসলিম ও খ্রিস্টানদের প্রতি আহবান জানান তিনি। এছাড়া প্রত্যেক ধর্মের বিশ্বাসীদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালনের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সমাবেশে উপস্থিত জনতার অধিকাংশই খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের হলেও এতে যোগ দেন নারী-শিশুসহ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মুসলিম।
বৈরুতে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ থেকে পোপের যাওয়ার পথে এ সময় তাকে একনজর দেখার জন্য রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকেন হাজার হাজার লোক।
রোববার পোপের বক্তব্য শুনতে ইরাক, জর্দান, এবং ফিলিস্তিনি থেকে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের লোকজন জড়ো হন বৈরুতে। গত ১৫ বছরে লেবাননে এটিই ছিলো পোপের প্রথম সফর। এর আগে ১৯৯৭ সালে সর্বশেষ লেবাননে সফর করেন বর্তমান পোপের পূর্বসুরী পোপ জন পল দ্বিতীয়।
লেবাননে সফরের শুরুতে প্রথমে তিনি লেবাননের প্রেসিডেন্ট মিশেল সুলেমানের সঙ্গে দেখা করেন। মিশেল সুলেমান একজন ম্যারোনাইট খ্রিস্টান। এরপর তিনি একে একে সাক্ষাত করেন লেবাননের সুন্নি সম্প্রদায়ভুক্ত প্রধানমন্ত্রী নাগিব মিকাতি এবং শিয়া সম্প্রদায়ভুক্ত পার্লামেন্টের স্পিকার নাবিহ বেরির সঙ্গে।
লিখিত বিধান না থাকলেও লেবাননে তিনটি শীর্ষ রাষ্ট্রীয় পদে দেশটির প্রধান প্রধান তিনটি সম্প্রদায়ের সদস্যদের নিযুক্ত করার ধারাবাহিকতা চলে আসছে। ভূমধ্যসাগরের তীরে অবস্থিত মধ্যপ্রাচ্যের রাষ্ট্র লেবানন বহু ধর্মবিশ্বাস সহবস্থানের দেশ। সংখ্যাগুরু মুসলিমরা মোট জনসংখ্যার ৬৫ শতাংশ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক খ্রিস্টান বাস করেন লেবাননে।
বাংলাদেশ সময়:১৭১৫ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১২
সম্পাদনা: রাইসুল ইসলাম,নিউজরুম এডিটর