 |
ঢাকা: গ্রামীণফোন বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ ফুটবলে শীর্ষস্থান সংহত করেছে ঢাকা আবাহনী। বুধবার পিছিয়ে পড়েও তারা ৩-২ গোলে হারিয়েছে টিম বিজেএমসিকে।
বিজেএমসি ও আবাহনীর মধ্যকার ম্যাচটি ঘিরে টাঙ্গাইল জেলা স্টেডিয়াম ছিলো উৎসব মুখর। উপস্থিত হাজার তিনেক দর্শক হোম টিম বিজেএমসিকে সমর্থন দিলেও আবাহনীর ভালো খেলায়ও সাড়া দিয়েছে। কিন্তু খেলা শেষে এই দর্শকরাই অসহিষ্ণু হয়ে ওঠে। মাঠে ঢুকে পড়ে দর্শকরা। সহকারি রেফারি মাহবুবকে শারীরিক ভাবে লাঞ্চিত হতে হয় জনৈক দর্শকের হাতে। এক পর্যায়ে পুলিশি নিরাপত্তায় মাঠ ছাড়তে হয় রেফারিদের।
নিজেদের মাঠে শুরু থেকেই প্রাধান্য ছিলো বিজেএমসির। লিগে নিজেদের অন্যতম সেরা খেলা উপহার দিয়ে আকাশি-নীলদের বিপক্ষে দুইবার এগিয়েও যায় তারা। দুই মিনিটেই গোল পেয়ে যায় স্বাগতিকরা। ডানপ্রান্ত থেকে ফেলিক্স আবাহনী ডিফেন্ডার সুজনের মাথার ওপর দিয়ে বল বাড়িয়ে দেন আজাগুন আব্দুল রশিদকে। পোস্টের সামনে দাঁড়ানো এই নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড সুযোগ নষ্ট করেননি। টোকা দিয়েই জালে পাঠিয়ে দেন বল।
২২ মিনিটে সমতায় ফেরে আবাহনী। বামপ্রান্ত থেকে ইব্রাহিসের ফ্রিকিকে পোস্টের ডানপাশ থেকে লিংকনের পুশ গোলরক্ষক তারিকের নাগালের বাইরে দিয়ে জালে আশ্রয় নেয়। তবে বিজেএমসির দুই নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড ফেলিক্স ও রশিদের মুহুর্মূহু আক্রমণে প্রথমার্ধে আবাহনী রক্ষণভাগকে দারুণ ব্যস্ত থাকতে হয়।
৬৪ মিনিটে আবাহনী গোলরক্ষক সোহেলের ভুলে ফের পিছিয়ে পড়ে আবাহনী। বামপ্রান্ত থেকে বদলী খেলোয়াড় আবদুল্লাহ পারভেজের শট সোহেলে হাত ফসকে বেরিয়ে গেলে পোস্টে থাকা ফেলিক্স আলতো টোকায় লক্ষ্যভেদ করেন। তবে বেশিক্ষণ উল্লাস করতে পারেনি বিজেএমসি। ৬৭ মিনিটে লিংকনের কর্নার থেকে হেডে নিশানাভেদ করেন ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার সিলভা।
৭৭ মিনিটে ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ায় আকাশি-নীলরা। ঘানা ফরোয়ার্ড আউদু ইব্রাহিম বক্সে ফ্রাঙ্কের উদ্দেশ্যে থ্রু বাড়ান। এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন স্বদেশি ফ্রাঙ্ক। এ গোল নিয়ে মাঠে উত্তেজনা দেখা দেয়। ডাগ আউটে বিজেএমসির বল আটকে রাখায় কিছুক্ষণ খেলা বন্ধ থাকে। তবে কয়েক মিনিট পরই ফের মাঠে গড়ায় ম্যাচ। যদিও বাকি সময় কোনো পক্ষই ব্যবধানে হেরফের ঘটাতে পারেনি।
এ জয়ে দ্বিতীয়স্থানে থাকা মুক্তিযোদ্ধা থেকে ৫ পয়েন্ট এগিয়ে গেছে আকাশি-নীলরা। ১৫ ম্যাচে আবাহনীর সংগ্রহ ৩৬। সমান খেলায় মুক্তিযোদ্ধার সংগ্রহ ৩১। অন্যদিকে ১৪ ম্যাচে ২৩ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয়স্থানে রয়েছে টিম বিজেএমসি।
উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে হারের কারণ হিসেবে সহকারি রেফারিকে দায়ী করেন বিজেএমসি কোচ জাকারিয়া বাবু। তিনি বলেন, ‘রেফারির কারণেই এই ম্যাচে আমরা পয়েন্ট পাইনি। আবাহনীর তৃতীয় গোলটি ছিলো পরিষ্কার অফসাইড। কিন্তু সহকারি রেফারি মাহবুব ন্যাক্কারজনকভাবে অফসাইডের পতাকা তোলেননি।’
অপর দিকে আবাহনী কোচ প্রতিপক্ষের মাঠে জয় পাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘মাঠটি খেলার জন্য আদর্শ নয়। পরিস্থিতিও ছিলো প্রতিপক্ষের অনুকূলে। সবমিলিয়ে জয় পাওয়ায় আমি খুশি।’
এদিকে কমলাপুর স্টেডিয়ামে ফেনী সকার ১-০ গোলে জিতেছে ফরাশগঞ্জের বিপক্ষে। ৫৫ মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেন রোন্যাল্ড। ১৪ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে তালিকায় অষ্টম স্থানে ফরাশগঞ্জ। সমান খেলায় ১৩ পয়েন্ট নিয়ে নবমস্থানে ফেনী সকার।
অন্যদিকে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে শেষ ম্যাচে ব্রাদার্সকে হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলের তৃতীয়স্থানে ফিরেছে শেখ রাসেল। মেজবাবুল হক মানিকের হ্যাট্রিকে তারা ৪-১ গোলে জয় তুলে নেয় গোপীবাগের ক্লাবটির বিপক্ষে।
বাংলাদেশ সময়: ১৯৫৪ ঘণ্টা, মে ৩০, ২০১২
এএইচবি
সম্পাদনা: চঞ্চল ঘোষ, নিউজরুম এডিটর/সেকান্দার আলী, বিভাগীয় প্রধান স্পোর্টস