 |
কাঁদি, টের পাই
শুধু বক্তৃতার বৃষ্টিতে ধানগাছ বড় হয় না,
....বাড়ে না শস্যদানা।
তারপরও সন্তানেরা রফতানি হয়ে যায়...
ওয়ালিউল্লাহ উদাহরণ মাত্র।
আমি কাঁদি ধানগাছের জন্য
কখনো কখনো টের পাই ওয়ালিউল্লাহর অভাব।
মনোলগ
হেলিয়েশনের মেঘমন্ত্র বাতাসে মিশে ভার্চ্যুয়ালে ভাসে
ফ্যান্টাসিকায় ভুলে যায় রিয়ালেটি, নিজের নিদ্রাপাঠ
খুঁজে পায় না দিনরাত্রির দরজা, ডানবামের দূরত্ব।
পোস্টমর্ডানিজমেও থাকে ত্রি ড্রাগ-ড্রিম, ডিপ্রেশন
ম্যাজিক্যাল মিউজিকের স্মৃতি-বিস্মৃতির সুররিয়ালিজম
এলোমেলো ইমোশনাল সাঁতার শিখে শূন্যতায়, ব্রেনে।
পাঁচ সাতা একুশের নিউরো-নেশায় মনে পড়ে না-
ঘোরঘুমের আগের বিহেভিয়ার এবং পরের ইন্দ্রজগৎ
চিন্তাপোকাগুলো মৃত নাকি এলকোহলিক, মনোলগ।
মারফতি
নাচ ঘরে ঘুমিয়ে পড়েছে নাচনিওয়ালীর ক্লান্ত ঘাগড়া ও ঘুঙুর
আরব্য রজনীর সম্রাট পান করবে অলৌকিক পরীর শরীরের সুদা
চুল থেকে নিবে নিশিফুলের ঘ্রাণ, মিনারে মুখ লুকিয়ে কাঁদবে বেদনায়
মন্দিরার পর প্রিয় পুষিতে জল তরঙ্গে মেতে উঠবে নিপুণ আঙ্গুল।
হারমোনিয়ামের সুর বেজে উঠবে চোখে, চিবুকে, ঠোঁটে, নাভিতে
জায়নামাজে প্রার্থনায় নিবেদিত করবে সেজদা। গুনবে তসবির গোটা
উৎসর্গকৃত কাব্যগ্রন্থ খুলে মগ্নতায় পাঠ করবে জলমন্ত্র, যৌনযোনি।
শোকসমগ্র
ট্রেন যাচ্ছে, যথারীতি মুদ্রিত হচ্ছে রোদের কথা, কথোপকথন
দ্রব্যমূল্য বাড়ছে কিম্বা কমছে নদীর স্রোতে জোয়ারভাটা
মাসের শেষে, শুরুতে বাসা পাল্টাচ্ছে কেউ কেউ বিদেশে ভ্রমণ
টিভির সংবাদ পাঠিকাদের স্পর্শ করে না নাগরিক ক্লান্তি
প্রতিদিন ভোরবেলায় ঘরে ঘরে পৌঁচ্ছে যাচ্ছে বিশ্ব-বাংলাদেশ।
আজো মসজিদে অজুর জল ছিল না। লঞ্চ ডুবেছে পদ্মায়
শুক্রবারের পর শনিবার আসে, তারপর যথারীতি রোববার
দু’টি টিকটিকির সেক্স হচ্ছে, হতে হতে খসে পড়ছে নক্ষত্রলেজ।
আমগাছে আম ধরছে, কলা বা কাঁঠাল ধরছে না এখনো
যানজটে বাসের হেলপার আর রিক্সাওলা মারামারি করে
ভ্যাপসা গরমে ভিজে ব্রা, ভিজতে ভিজতে শুকায় ঘামজল
আমাদের শিশুরা স্কুলে যাচ্ছে, পাল তোলা নৌকার ভাসছে
ষোল খণ্ডে জেগে আছে তিন লাখ বাঙালি। কিছুই থেমে নেই।
শুধু থেমে আছে শোক। অথচ খুলে দিয়েছো ইতিহাসের দ্বার-দরজা।
আগস্ট ১৫, ২০১২
বাংলাদেশ সময়: ০৭০৯ ঘণ্টা, আগস্ট ১৭, ২০১২
সম্পাদনা: রানা রায়হান, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর