 |
প্রতিশ্রুতি
সেলফোনে তোমার নাম্বার
আবেগের জোয়ারে ভাসে ভেলা
যখন বলতে শুরু করো
অনুভবে
তোমার অধৈর্য হাত বসনের আধিক্য সরিয়ে
খুঁজে ফেরে ভালবাসার গন্ধরাজ
উদিত তপন লালটিপ
খসে পড়ে অমনোযোগে
লজ্জাবনত বালিসের ফাঁকে
তোমার অসহিষ্ণু ঠোঁট ছোঁয়
পা থেকে মাথা অবধি রোমকূপের গোড়া
চুলের ঘ্রাণ নিতে
যখন তুমি স্থির হও
তখনই ভূমিষ্ট হয় একটি সুষম কবিতা
নবজাতকের প্রতিশ্রুতি
এই আমি তীব্র ভালোবাসার ফসল
তোমার আয়েসী বুকের মধ্যে
দৃঢ় ব্যক্তিত্ব বেড়ে ওঠে শিশু কবিতা।
ত্রিশুল
আসমুদ্র হিমাচল ও চোখের অভয়ারণ্য
ক্ষণজন্মা অরিন্দম রোরুদ্যমান
নির্মক্ষিক অনতিক্রমণীয়
চিরন্তন প্রেমিক তুমি নজরুল।
আমৃত্যু অলঙ্ঘনীয় অদৃষ্টপূর্ব
সর্বভুক প্রত্যুদগমন জিঘাংসা
সভ্যতায় অগ্রদূত অরুঢ় দুর্লভ
বিদ্রোহী তুমি নজরুল।
বৈদান্তিক উদ্বাস্তু বিশ্বজনীন
নির্ভীক চিন্তাতীত চিরস্থায়ী
প্রিয়বাদী অপরিহার্য বিখ্যাত
সুরের সুরায় তুমি নজরুল।
বিদ্রোহী, অভিমানী, প্রেমিক ত্রিশুল
আঘাতে রক্তাক্ত করে না
কেবল পোড়ায় তূষের অনল
চেতনার আরও গভীরে তুমি নজরুল।
তবুও রোদন
নিশুতির তীব্র কামাতুর শশক
কম্পিত বাহুতে আবেদন
বুঝেছিলাম
বিপদজনক কণ্ঠস্বর ক্ষিপ্রতায়
বিপন্ন করবে সেমন্তীর রক্তিমতা
ভালো লাগে না এ অনাচার
ফের যদি ডাকো
ওমন উতলা উন্মাদ হয়ে
তিন সত্যি বলছি
দু’হাতে মুখ ঢেকে কেঁদে ফেলব ঝর ঝর
যতই দাও ধমক
তবু ঝরবে আষাঢ় ধারা
এ পাগলামী নয় বিলাস
তোমার বৈভবের চিত্তে
সুখ স্মৃতিচারণ
অগুনতি নিশীথিনী গত
কামিনী ঝরার শব্দ শুনেছি, তবু কাঁদিনি
বুঝেছি রোদন সময় অনতিদূর
তোমার দীপ্ত বুকের হাহাকার
লোচন পয়োধি ভিজবে এবার।
বাংলাদেশ সময়: ১৪২৭ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ০৮, ২০১২