 |
| ছবি : জীবন আমীর /বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
ঢাকা: ধীরে ধীরে চাহিদা কমছে দেশি মুরগীর। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গ্রামাঞ্চলে একটি বাড়িতে একটি খামার প্রকল্প চালু করা হলেও অবহেলিত হচ্ছে দেশি মুরগী।
বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে ব্রয়লার মুরগীর চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বর্তমানে গ্রামাঞ্চলেও পালন করা হচ্ছে ব্রয়লার মুরগী।
মোহাম্মদপুর টাউনহল বাজারের মায়ের দোয়া ব্রয়লার হাউসের মুরগী বিক্রেতা মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, “আমাদের মূল ক্রেতা হচ্ছে আশে-পাশের হোটেলগুলো। দেশি মুরগীর ওজন এবং মাংস কম হওয়ায় তারা দেশি মুরগী কেনেন না বললেই চলে। আর মংসের তুলনায় দাম বেশি হওয়ায় বাসাতে আজকাল লোকজন ব্রয়লার মুরগী অনেকেই কেনেন না। তাই আমরা দেশি মুরগী বিক্রি করা বন্ধ করে দিয়েছি।”
মোহাম্মদপুর টাউনহল বাজারের দেশি মুরগী বিক্রেতা মো. হারান বলেন, “দেশি মুরগী সচারাচর মানুষ না খেলেও বিয়ে অথবা অন্য কোনো উৎসবে রোস্ট তৈরির জন্য এখনও দেশি মুরগীর চাহিদা রয়েছে। বিক্রি কম হয় বটে। তবে যেদিন হয় এক সঙ্গে অনেক মুরগী বিক্রি হয়।”
“আবার বিয়ের অর্ডার পেলে কমিউনিটি সেন্টারের লোকজন কখনও কখনও আমাদের কাছে থেকে মুরগী নেয়। তখন ভালো লাভ হয়। তবে সমস্যা হল দেশি মুরগী আমরাই আর আগের মতো পাই না। তাই দাম অনেক বেশি হয়ে যায়, বিক্রি করতে অসুবিধা হয়।”
হোটেল গিভেনসি’র রাধুনী তুষার বলেন, “দেশি মুরগীতে মাংস কম হওয়ায় আমাদের মেনুর আইটেম তৈরি করা যায় না। যেমন, চিকেন ড্রাম স্টিক, চিকেন উইংস ইত্যাদি।
এছাড়াও চাওমিনে যে মাংস দেওয়া হয় সেখানেও দেখা যায় একটা দেশি মুরগী বনলেস করলে মাত্র দুই প্লেট চাওমিন হয়, সেখানে ২ থেকে আড়াই কেজির একটা ব্রয়লার বনলেস করলে ৪ থেকে ৫ প্লেট পর্যন্ত চাওমিন দেওয়া যায়।”
ক্রেতা শাহজাহান বলেন, “রাতে বাসায় ফেরার সময় বাজার করে নিয়ে যাই। ব্রয়লার মুরগী কিনি কারণ তাড়াতাড়ি সিদ্ধ হয়। তাই রান্নার ঝামেলা কম। আর দামেও কম হয়।”
ক্রেতা মলি বলেন, “বাসায় প্রতি সপ্তাহে দুইবার মুরগী রান্না করি। কেএফসি, বিএফসিতে খেতে খেতে বাচ্চাদেরও খাদ্যাভাস পরিবর্তন হয়ে গেছে। ওরাও দেশি মুরগী খেতে চায় না, তাই কেনাও হয় না।”
বাংলাদেশ সময়: ০৩০৫ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১২
এটি/সম্পাদনা: আবু হাসান শাহীন, নিউজরুম এডিটর