বগুড়া: বগুড়ার শেরপুর ও ধুনট উপজেলায় ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শেরপুর শহরের খন্দকার টোলা এলাকায় ঘরের দেওয়াল ধসে ঘটনাস্থলেই ফাতেমা বেওয়া নামের (৫০) এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি খন্দকার টোলা (দক্ষিণ পাড়া) এলাকার মৃত ওসমান গনির স্ত্রী।
এদিকে ঝড়ের কারণে দুই উপজেলার প্রায় সব অংশে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়রা বাংলানিউজকে জানান, বুধবার সন্ধ্যার পর হঠাৎ ভয়াবহ ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় সমস্ত উপজেলা। শহরের ঘোষপাড়া বাজারের প্রায় ৪শ বছরের পুরোনো বটগাছটি ভেঙে সেখানকার প্রায় ৩০টি দোকান ও বাড়িঘরের উপর পড়ে। এতে বাড়িঘরের ব্যাপক ক্ষতি হয়।
একইভাবে উত্তর সাহাপাড়া এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে যায়। বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি ট্রাকের উপর গাছ পড়লে ট্রাকটির উপরের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এছাড়া বিশালপুর ইউনিয়নের বেলঘরিয়া বাজারের পুরাতন ৩টি বটগাছ ভেঙে শতাধিক দোকান ও বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উপজেলার প্রায় ২শ বাড়িঘরের টিনের চাল ও বেড়া উড়ে দুমড়েমুচড়ে গেছে।
শেরপুর উপজেলার আবাসিক প্রকৌশলী আবু হেনা মোস্তফা কামাল বাংলানিউজকে জানান, ঝড়ে উপজেলার বহু জায়গায় বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে গেছে এবং খুঁটি উপড়ে গেছে। পুনরায় বিদ্যুৎ সংযোগ কবে বা কখন দেওয়া যাবে তা রাতেই বলা সম্ভব নয়। তবে আগামী দু’দিনের মধ্যে সব জায়গায় বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে হচ্ছে না।
শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মঞ্জুরুল আলম প্রধান বাংলানিউজকে জানান, তাৎক্ষণিকভাবে ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা না গেলেও আচমকা ঝড়ে শেরপুরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, “ক্ষতি যাই হোক না কেন, সরকার বা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দরিদ্রদের ক্ষতি পূরণে যথাসাধ্য চেষ্টা করা হবে।”
অন্যদিকে ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আতাউল গণি বাংলানিউজকে জানান, ঝড়ের কারণে উপজেলার চৌকিবাড়ী, আনারপুর, গোপালনগর, মথুরাপুরসহ বিভিন্ন এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানসহ বাড়িঘরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এছাড়া জেলার বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সূত্রে জানা গেছে, শাজাহানপুর উপজেলার কয়েকটি অংশেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
বাংলাদেশ সময়:২০০০ ঘণ্টা, মে ২৪, ২০১২
টিএম মামুন/সম্পাদনা: নাজিম উদ দৌলা সাদি