ঢাকা: অভ্যন্তরীণ বিল ক্রয়ের (আইবিপি) ক্ষেত্রে সরেজমিন যাচাইয়ের শর্ত প্রত্যাহার করে নিলো বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে স্থানীয় বা বৈদেশিক মুদ্রায় সব বিল কিনতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদন লাগবে।
রোববার বিকেলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সঙ্গে আয়োজিত বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংক এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আইবিপি ক্রয়ের ক্ষেত্রে সরেজমিন যাচাই করতে ব্যাংকগুলোর ওপর শর্ত দিয়ে সম্প্রতি একটি সার্কুলার জারি করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। আলোচনা শেষে সন্ধ্যায় নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী, নির্বাহী পরিচালক এসএম মনিরুজ্জামান, বিভিন্ন ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রতিনিধিরা বলেন, অভ্যান্তরীণ বিল ক্রয় বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক গত জুলাই মাসে যে সার্কুলার জারি করে তা বিল ক্রয়ের ক্ষেত্রে বাংকগুলোর জন্য ভালো। কিন্তু এক্ষেত্রে সরেজমিন যাচাইয়ের যে সিদ্ধান্ত দেয়া হয়েছে তা পালন করা ব্যাংকের পক্ষে সম্ভব নয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সরেজমিন যাচাইয়ের যে শর্ত ছিল তা থেকে সরে এলো বাংলাদেশ ব্যাংক। পরে রোববারই এ বিষয়ে নতুন আরেকটি সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। যেখানে বলা হয়েছে অভ্যন্তরীণ ঋণপত্রের (এলসি) বিপরীতে স্বীকৃতি প্রদানের পূর্বে ক্রয়কৃত মালামালের প্রকৃত সরবরাহের সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া ব্যতিরেকে কোন স্বীকৃতি প্রদান কিংবা মূল্য পরিশোধ করা যাবে না।
জানা গেছে, প্রকৃত ব্যবসায়িক লেনদেন না করেই অ্যাকোমোডেশন বিল তৈরি করে ব্যাংক থেকে তহবিল সংগ্রহ করছিল একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী। ব্যাংক থেকে অবৈধভাবে টাকা উত্তোলন বন্ধ করতেই বাংলাদেশ ব্যাংক অন্যান্য ব্যাংকে সতর্ক করতেই ওই শর্ত দিয়েছিল। এছাড়া এ সকল কাজ ব্যাংকের শাখা পর্যায়ে হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে তা ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের অগোচরে থেকে যায়। তাই আইবিপি ক্রয়ের ক্ষেত্রে শাখা পর্যায়ের পরিবর্তে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে লিখিত পূর্বানুমোদন গ্রহণ করতেও বলা হয়।
হলমার্ক কেলেঙ্কারির পর ক্রয়ের ক্ষেত্রেও ব্যাংকগুলো সতর্ক অবস্থান নেয় এবং বিল ক্রয় একপ্রকার বন্ধ করে দেয়। এতে প্রকৃত রপ্তানিকারক ও সরবরাহকারীরা বিল ভাঙাতে সমস্যায় পড়েছেন বলে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো অভিযোগ করে আসছিল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে জরুরি বৈঠক ডাকে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, রপ্তানির ক্ষেত্রে বিভিন্ন এক ব্যাংক অন্য ব্যাংকে অর্থ পরিশোধের জন্য স্বীকৃতি দিয়ে থাকে। বর্তমানে সাত শ’র বেশি স্বীকৃতি পত্রের বিপরীতে ৯০ কোটি ডলার রফতানি স্বীকৃতি পত্র পাবে বিভিন্ন ব্যাংক।
প্রসঙ্গত, রপ্তানি বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ বিল ক্রয় একটি ঋণ সুবিধা, যা দেশের অভ্যন্তরে ঋণপত্রের (এলসি) বিপরীতে প্রস্তুতকৃত বিল ক্রয়ের মাধ্যমে রপ্তানিকারকেরা ব্যাংক ঋণ নিয়ে থাকে। দেশের অভ্যন্তরে পণ্য আমদানি রপ্তানির ক্ষেত্রে আমদানিকারক পণ্য ক্রয়-বিক্রয় চুক্তির বিপরীতে তার ব্যাংকের মাধ্যমে রপ্তানিকারকের বরাবরে অভ্যন্তরীণ ঋণপত্র পাঠান, যার ওপর রপ্তানিকারকের ব্যাংক তার পক্ষে স্বীকৃতি দিলে পণ্য প্রেরণের প্রক্রিয়া শুরু হয়। আমদানিকারক পণ্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করার পর রপ্তানিকারক প্রদেয় বিনিময় বিল (বিল অব এক্সজেঞ্জ) তার ব্যাংকের মাধ্যমে আমদানিকারকের ব্যাংক বরাবরে পাঠিয়ে থাকেন। আমদানিকারকের ব্যাংক তার নিকট হতে অর্থ প্রাপ্তি নিশ্চিতকরণ সাপেক্ষে বিলের অর্থ রপ্তানিকারকের ব্যাংকে প্রেরণের ব্যবস্থা করে।
বাংলাদেশ সময়: ২১৫৫ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ০৯, ২০১২
এসএআর/এজে