১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২০, শুক্রবার মে ২৪, ২০১৩ ১১:৩৫ এএম BDST banglanew24
18 Aug 2012   09:55:59 PM   Saturday BdST
E-mail this

শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠে ঈদের আমেজ

শাওন পাঠিয়েছেন বেতন-বোনাস-শাড়ি-শার্ট


মুনিফ আম্মার, স্টাফ করেসপেন্ডেন্ট
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
শাওন পাঠিয়েছেন বেতন-বোনাস-শাড়ি-শার্ট শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠে ঈদের আমেজ

ঢাকা: প্রয়াত নন্দিত কথা সাহিত্যিক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদ প্রতিষ্ঠিত শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠেও লেগেছে ঈদের ছোঁয়া। আনন্দে মেতে উঠেছে বিদ্যাপীঠের শিক্ষক আর শিক্ষার্থীরা। প্রতিষ্ঠানের স্বপ্নদ্রষ্টা হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুর পর খানিকটা থমকে দাঁড়ালেও প্রিয় মানুষের স্বপ্নকে বাস্তবায়নে আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

হুমায়ূন আহমেদ চলে যাওয়ার পর শিক্ষকদের ক’টা দিন কেটেছিল চরম শঙ্কায়। বিদ্যাপীঠের জন্য নিজেদেরকে সঁপে দিলেও আনুষাঙ্গিক সব দিক থেকে সঠিক সমর্থন পাওয়া যাবে কি না, এমন সংশয়ের মাঝে ছিলেন সবাই। কিন্তু কয়েকদিন পরেই কেটে গেল সংশয়ের কালো মেঘ। মাস ফুরোতেই শিক্ষকরা হাতে পেয়ে গেলেন নির্ধারিত বেতন আর ঈদের বোনাস। আর সেইসঙ্গে হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওনের আশ্বাসও পেলেন।

কেমন ঈদ কাটবে শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠের শিক্ষক আর শিক্ষার্থীদের, এমন খোঁজ নিতে বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামানের সঙ্গে মোবাইলে কথা হলে বাংলানিউজকে তিনি জানান, “স্যার নেই এই কথাটা মনে পড়লেই সব যেন অন্ধকার হয়ে আসে। তবুও আমরা হতাশ নই। স্যার থাকতে প্রতিবছর ঈদে তিনি শিক্ষকদের জন্য শার্ট আর শিক্ষিকাদের জন্য শাড়ি পাঠাতেন। এবার স্যার নেই, কিন্তু তার পক্ষ থেকে নতুন শার্ট ও শাড়ি স্কুলে পৌঁছে গেছে।”

হুমায়ূন আহমেদ চলে যাওয়ার পর শিক্ষকরা নতুন শার্ট পাবেন এমনটি কেউই আশা করেন নি। তার ওপর যখন শিক্ষকদের কাছে এই উপহার পৌঁছে গেল তখন তাদের মাঝেও বইতে শুরু করলো ঈদের আমেজ। কয়েকজন শিক্ষক বাংলানিউজকে বলেন, “শার্ট তো বড় কথা নয়, স্যার যেমন করে আমাদের সুন্দর ঈদের কথা সবসময় ভাবতেন, এবারেও তার ব্যতিক্রম হয় নি। সেজন্যই বেশি আনন্দ লাগছে।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বাংলানিউজকে তাঁর অনুভূতির কথা জানাতে গিয়ে বলেন, “আমরা ভাবিনি স্যারের স্ত্রী শাওন ম্যাডাম স্কুলটির জন্য কিছু করবেন। এখন আমাদেও ভাবনা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। স্যারের মতো না হলেও তিনি তাঁর মতো করে স্কুলটির জন্য কাজ করবেন বলেই মনে হচ্ছে।”

এ দিকে হুমায়ূন আহমেদকে এবারের ঈদে সবচেয়ে মনে পড়বে বলে জানান স্কুলের শিক্ষকরা। তারা জানান, ঈদ কিংবা যে কোন উৎসবেই স্যার আমাদের খোঁজ খবর নিতে ভুল করতেন না। তিনি আমাদের একজন অভিভাবক ছিলেন। কিন্তু এবারের ঈদে সেই খবর নেওয়ার মানুষটি নেই। এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক।

তারপরেও স্কুলে ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য শিক্ষকরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের মন যেন কোনভাবেই খারাপ না থাকে সেদিকেও তারা সমানভাবে সচেষ্ট আছেন। শিক্ষকরা মনে করেন, হুমায়ূন নিজে সবসময় আনন্দে থাকতে পছন্দ করতেন। তিনি কখনোই কষ্টকে কাছে ঘেঁষতে দিতেন না। তাই স্যারের কথা অনুযায়ী আমরাও সবাই ঈদের এই খুশির সময়ে শিক্ষার্থীদের নিয়ে আনন্দে থাকতে চাই। তবে সবকিছুর পরেও আমাদের একটাই প্রত্যাশা, তা হলো আমাদের প্রিয় স্যার যেন শান্তিতে থাকেন।

বাংলাদেশ সময়: ২১৪৬ ঘণ্টা, আগস্ট ১৮, ২০১২
এমএ/এমএমকে

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Bookmark and Share
REVE Systems
VISA Center Inc
Holy Hajj BD
RehabHousing.com

জাতীয়

8877
Kaspersky Lab - Antivirus Software [ Bangladesh ]
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম | এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন

ফোন: +৮৮০ ২ ৮৪০২১৮১, ৮৪০২১৮২ আই.পি. ফোন: +৮৮০-৯৬১২১২০০০০ নিউজ রুম সেল: +৮৮-০১৭২৯০৭৬৯৯৬, ০১৭২৯০৭৬৯৯৯ ফ্যাক্স: +৮৮০ ২ ৮৪০ ২৩৪৬
ইমেইল: news.bn24@gmail.com, editor.banglanews@gmail.com, editor@banglanews24.com    বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম    এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন

বাংলায় লেখা হলে ইউনিকোডে পরিবর্তন করে ইমেইল করুন    কপিরাইট © 2013 সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত    একটি ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেড প্রতিষ্ঠান