20120930022050.gif) |
| ছবি: সোহেল সরওয়ার/বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনালের (এনসিটি) টেন্ডার নিয়ে বিরোধে জড়িয়ে পড়া সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামীলীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী এবং সাংসদ এমএ লতিফ রোববার বন্দর উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে যোগ দিয়েছেন।
বিরোধের জের ধরে গত বৃহস্পতিবার মহিউদ্দিনের অনুসারীদের হাতে সাংসদ লতিফ লাঞ্ছিত হলেও মাত্র তিনদিনের মাথায় বৈঠকে উপস্থিত এ দু`নেতা পরস্পরের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন। তবে দু’জনের মধ্যে তেমন কোনো কথা হয়নি।
আর করমর্দনের জন্য লতিফ মহিউদ্দিনের দিকে হাসিমুখে হাত বাড়ালেও মহিউদ্দিনকে মুখ ভার অবস্থায় তার দিকে না তাকিয়েই হাত বাড়াতে দেখা গেছে। এতে দু`জনের মধ্যে বিরোধের অবসান না হওয়ার বিষয়টি আবারও স্পষ্ট হয় বৈঠকে উপস্থিত সবার মাঝে।
এদিকে একই সভায় উপস্থিত আছেন নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খানও। এনসিটি’র টেন্ডার নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের মধ্যে একই দলের তিন প্রভাবশালী নেতার উপস্থিতিতে এ সভা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এছাড়া বিরোধের জের ধরে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির আশংকায় সার্কিট হাউসের আশাপাশে নেয়া হয়েছে কঠোর পুলিশি নিরাপত্তা। মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ পুলিশ।
রোববার সকাল সাড়ে ১১টায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস মিলনায়তনে নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খান’র সভাপতিতে বন্দর উপদেষ্টা কমিটির ষষ্ঠ সভা শুরু হয়।
এর আগে বেলা ১০টা ৫০ মিনিটে সার্কিট হাউসে প্রবেশ করেন এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী। এর ৫ মিনিট পরেই বন্দর এলাকার সাংসদ এমএ লতিফ সভাস্থলে উপস্থিত হন।
এনসিটি টেন্ডারে শর্ত পরিবর্তন করে দেশিয় একটি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার পাঁয়তারার অভিযোগ এনে গত মাসে আন্দোলন শুরু করেছিলেন সাবেক মেয়র ও বন্দর উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী।
এরপর চলতি মাসের ১৭ তারিখ এনসিটির অপারেটর নিয়োগের জন্য দ্বিতীয় দফায় বাছাই করা ঠিকাদারদের তালিকা এবং গত জুন মাসে আহুত টেন্ডার বাতিলের নির্দেশ দেয় একটি রিভিউ প্যানেল।
সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিটের (সিপিটিইউ) গঠন করা রিভিউ প্যানেল-৩ এর এক রায়ে এই আদেশ দেওয়া হয়। রায়ে প্রাকযোগ্যতা দলিল ২০০৮ এর অধীনে প্রাকযোগ্য চারটি প্রতিষ্ঠানকে বহাল রেখে পুনরায় দরপত্র প্রক্রিয়া শুরুর করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।
তারপর এনসিটি টেন্ডার বাতিলের আদেশের উপর তিনমাসের স্থগিতাদেশ দেয় হাইকোর্ট। গত মঙ্গলবার হাইকোর্টের বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি কাজী রেজা উল হকের নেতৃত্বাধীন অবকাশকালীন বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠান সাইফ পাওয়ার টেক লিমিটেডের গত সোমবার দায়ের এক রিট আদেশের পর হাইকোর্ট এ আদেশ দেন।
চট্টগ্রাম বন্দরে এনসিটির টেন্ডার নিয়ে বিরোধের জের ধরে বেশ কিছুদিন পাল্টাপাল্টি অবস্থানের পর বৃহস্পতিবার সকালে একই সময়ে দুপক্ষে চেম্বার ভবনের সামনে সমাবশে আহ্বান করে।
এর মধ্যে ১৪ দলের ব্যানারে মহিউদ্দিনের অনুসারীরা চেম্বারের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ এবং চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স ব্যবসায়ীরাও পাল্টাপাল্টি ক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ আহ্বান করেন।
কর্মসূচিতে দুগ্রুপ মুখোমুখি হওয়ার পর সাংসদ লতিফের ওপর মহিউদ্দিনের অনুসারীদের হামলা এবং চেম্বার ভবনে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
প্রসঙ্গত, নিয়মবহির্ভূতভাবে দরপত্র সংশোধনের অভিযোগ এনে দুটি আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটর গত মাসে সিপিটিইউ এর কাছে অভিযোগ দাখিল করে। গত ১৪ আগস্ট ফিলিপাইনের টার্মিনাল অপারেটর ‘ইন্টারন্যাশনাল কনটেইনার টার্মিনাল সার্ভিসেস (আইসিটিএস)’ এবং গত ৩০ আগস্ট যুক্তরাজ্যভিত্তিক ‘দ্য পেনিনসুলার অ্যান্ড ওরিয়েন্ট স্টিম নেভিগেশন কোম্পানি’ (পিঅ্যান্ডও) এই অভিযোগ করে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এই টার্মিনালে অপারেটর নিয়োগে প্রথম দফায় চারটি প্রতিষ্ঠানকে বাছাই করা হয়। এরপর সে বছর জুলাই মাসে মূল দরপত্র বিতরণ করা হয়। কিন্তু দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে অংশগ্রহণের সুযোগের কথা বলে ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এই দরপত্র প্রক্রিয়া স্থগিত করে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়।
দরপত্র প্রক্রিয়া স্থগিত করার পর পরামর্শক প্রতিষ্ঠান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারি-পিপিপি এবং অর্থমন্ত্রীর মতামত উপেক্ষা করে দফায় দফায় দরপত্রের শর্ত সংশোধন করা হয়। এরপর দুটি প্রতিষ্ঠানকে দরপত্রে অংশ নেওয়ার জন্য বাছাই করা হয়। নৌ-মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বন্দর কর্তৃপক্ষ এসব শর্ত সংশোধন ও বাতিল করে।
বাংলাদেশ সময়: ১১ ৩০ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ৩০ ২০১২
এমইউ, সম্পাদনা : তপন চক্রবর্তী, ব্যুরো এডিটর; জুয়েল মাজহার, কনসালট্যান্ট এডিটর jewel_mazhar@yahoo.com