 |
নরসিংদী: রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত প্রধান বিরোধী দলকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, ‘সুস্থ রাজনীতির পথে এগুতে হলে স্বাধীনতাবিরোধীদের সঙ্গ ত্যাগ করতে হবে। যুদ্ধাপরাধী ও স্বাধীনতাবিরোধীদের পক্ষ নিয়ে মুখে গণতন্ত্রের কথা শোভা পায় না।’
শনিবার সন্ধ্যায় রায়পুরা রহিমা হক চেতনা বিকাশ মহিলা কলেজ মাঠে মুক্তিযোদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বাম রাজনীতিক ও কৃষক নেতা ফজলুল হক খন্দকারের স্মরণসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রসঙ্গে বিরোধী দলের উদ্দেশ্যে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী অন্তবর্তীকালীন সরকারই তত্ত্বাবধায়ক সরকার। পৃথিবীর সব দেশেই নির্বাচন কমিশনের অধীনেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আমাদের এখানে সরকার করবে কেন। তবে এখনো আলোচনার পথ খোলা আছে। সেটা সংসদকে পাশ কাটিয়ে নয়। দেশ ও জনগণের কথা চিন্তা করে সংসদে আসতে হবে। সংসদের মধ্যেই তা সমাধান করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকাজ নস্যাৎ করতে একটি মহল উঠে পরে লেগেছে। তাদের হুঁশিয়ার করে বলতে চাই, আপনারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকাজ ঠেকাতে পারবেন না।’
রায়পুরা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল হালিমের সভাপতিত্বে এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাইন উদ্দিন খন্দকার, জেলা প্রশাসক ওবায়দুল আজম প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রেলমন্ত্রী প্রয়াত বাম নেতা ফজলুল হক খন্দকারকে ভূমিপুত্র ও কৃষকদরদী মানুষ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
তিনি বলেন, ফজলুল হক খন্দকার শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি ভাষা আন্দোলন, সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন এবং কৃষক আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। শুধু তাই নয়, কৃষক আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে তাকে একাধিকবার গ্রেফতার হতে হয়।
এছাড়া জীবনের বেশির ভাগ সময় তিনি গ্রামের কৃষকদের সঙ্গে কাটিয়েছেন। গ্রামজীবনের আধুনিকায়ন, গ্রামাঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, ব্যাংকিং সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণ সাম্প্রদায়িকতার অবসান ঘটানোর কাজেও আমৃত্যু নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন।
প্রসঙ্গত, ফজলুল হক খন্দকার বাংলাদেশ কৃষক সমিতির সভাপতি, গণফোরাম কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য, ন্যাপ(মুজাফর) যুগ্মসম্পাদক ছিলেন।
বাংলাদেশ সময়: ২১০৬ ঘণ্টা, এপ্রিল ০৭, ২০১২
প্রতিবেদন: আইয়ুব খান সরকার
সম্পাদনা: শাফিক নেওয়াজ সোহান, নিউজরুম এডিটর/সাইফুল ইসলাম, কান্ট্রি এডিটর