 |
নয়া দিল্লি: পাকিস্তান ও ভারতের ক্রিকেটীয় সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে। সম্পর্ক উন্নয়নে জুনে কুয়ালামপুরে অনুষ্ঠেয় আইসিসির বার্ষিক সম্মেলন উপলক্ষ্যে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে দেশ দুটি। এমনকি পাক-ভারত দ্বিপক্ষীয় সিরিজের ঘোষণা আসার বিষয়েও ইঙ্গিত দিয়েছেন পিসিবি প্রধান জাকা আশরাফ।
বিসিসিআই’র অতিথি হিসেবে চেন্নাইয়ে আইপিএলের ফাইনাল উপভোগ করে দিল্লিতেই রয়েছেন আশরাফ। সেখানে ইএসপিএনক্রিকইনফোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেটীয় সম্পর্ক পুনরুজ্জীবনের বিষয়ে পিসিবি চেয়ারম্যান বলেন,‘সম্ভবত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কুয়ালালামপুরেই আইসিসির পরিচালনা পর্ষদের সভায় নেওয়া হতে পারে। সেখানে শ্রীনিভাসনের সঙ্গে (বিসিসিআই সভাপতি) আমার আলোচনা হবে। সম্ভবত পুনরায় সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়ে আমরা কোনো পরিকল্পনা এবং কোনো কিছুর ঘোষণা দিতে সক্ষম হবো।’
তবে আসন্ন শীতে ইংল্যান্ডের ভারত সফরের মাঝপথে ক্রিসমাসের বিরতিতে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ আয়োজনের বিষয়ে এরই মধ্যে বিসিসিআইয়ের সঙ্গে গোপন সমঝোতা বা আলোচনার গুঞ্জনকে নাকচ করে আশরাফ বলেন,‘এ বিষয়ে বিসিসিআই আমাদের কিছু জানায় নি। আমরা ক্যালেন্ডারে যেটা দেখতে পেয়েছি, সেটা হচ্ছে ইংল্যান্ড দল টানা ম্যাচ খেলে যাবে। কিন্তু বিরতিকালীন সময়ে তারা দ্বিপক্ষীয় সিরিজ আয়োজনের সুযোগ নেবে কিনা সেটা বিসিআইয়ের বিষয। আমরা কি ধরনের ফর্মেটের ম্যাচ খেলতে পারি সে ব্যাপারে তাদেরই পদক্ষেপ নিতে হতে এবং আমাদের জানাতে হবে।’
পিসিবি প্রধান হিসেবে প্রথমবারের মতো ভারত সফরে এসে দিল্লিতে পাকিস্তান হাই কমিশনার সালমান বশির এবং সরকার ও বিরোধী দলীয় বিভিন্ন নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন আশরাফ। তবে কাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে সে বিষয়ে বিস্তারিত বলতে অস্বীকৃতি জানান তিনি।
২০০৭ সালের ডিসেম্বর থেকে নিজেদের মধ্যে কোনো সিরিজ খেলেনি প্রতিবেশী দেশ দুটি। যদিও সর্বশেষ পাকিস্তান ভারত সফর করায় এখন ভারতের পাকিস্তান সফরের পালা। কিন্তু ২০০৮ সালের মুম্বাইয়ে সন্ত্রাসী হামলার পর দেশ দুটির ক্রিকেট সম্পর্ক স্থবির হয়ে আছে। পরে ২০০৯ সালের মার্চে লাহোরে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলের বাসে হামলার পর দেশের মাটিতে আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনে সক্ষম হয়নি পাকিস্তান। কিন্তু ২০১১ সালের বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল ম্যাচ খেলতে ভারতে গিয়েছিলো পাকিস্তান। মোহালির ওই ম্যাচটি একসঙ্গে বসে উপভোগ করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ও পাকিস্তানের রাষ্ট্রপ্রধান আসিফ আলী জারদারি।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তানের সিয়ালকোট স্ট্যালিওন্সের অংশগ্রহনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন আশরাফ। বিশ্ব ক্রিকেটে ক্লাব পর্যায়ের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতাটিতে পাকিস্তানের কোনো ক্লাবকে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টি প্রথমবারের মতো টুইটারে প্রকাশ করেন চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টি-২০ প্রতিযোগিতার টেকনিক্যাল কমিটির সদস্য সুন্দর রমন। যদিও সেটার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
আশরাফ জানান, সিয়ালকোট স্ট্যালিওন্সকে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টিকে,‘সংবাদ মাধ্যম, সাধারণ জনগণ ও বোর্ডের পক্ষ থেকে স্বাগত জানানো হয়। কমপক্ষে বরফতো গলতে শুরু করেছে এবং সঠিক লক্ষ্যপথের দিকেই বিষয়টি যাচ্ছে।’ পিসিবি প্রধান জানান, ভারত ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এতে এটা নির্দেশনা ছিল দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্ক শুরু করতে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আপত্তি নেই। ‘আমি যেটা অনুধাবণ করতে পেরেছি যে, পাকিস্তানের সম্মানীত প্রধানমন্ত্রী ভারতের সম্মানীত প্রধানমন্ত্রীকে কিছু একটা করতে বলেছিলেন যাতে করে উভয় দেশের সম্পর্ক পুনস্থাপন করা যায়। তিনি (ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী) ও বলেছিলেন,‘আমি এটার পক্ষে। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আপত্তি নেই এবং সেটা আমরা বোর্ডকে জানিয়ে দেব। বোর্ড অন্যান্য বিষয়াদি যেমন কখন ও কোথায় খেলা তারা খেলতে পারবে সেটা ঠিক করবে। কারণ এই বিষযের সঙ্গে অনেক খুটিনাটি বিষয় জড়িত।’
আশরাফ জানান, আইপিএলের ফাইনালের পর শ্রীনিভাষনের সঙ্গে বৈঠকের জন্য অতিরিক্ত একটা দিন হাতে রেখেছিলেন তিনি। কিন্তু বর্ধিত আলোচনা আর হতে পারেনি শ্রীনিভাষন আইপিএল ফাইনাল চলাকালে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায়। এ বিষয়ে কৌতুক করে আশরাফ বলেন,‘তাকে কখনও হাসতে দেখা যায়নি। কিন্তু আমি হাসপাতালে যাওয়ার পর তিনি হেসেছিলেন। আমি দেখতে যাওয়াতে তিনি অনেক খুশি হয়েছিলেন। সেটা প্রমাণ করে যে, দুই বোর্ডের ভ্রাতৃপ্রতীম সম্পর্কের উন্নতি হচ্ছে।’
বাংলাদেশ সময়: ০৩১৫ ঘণ্টা, মে ৩১, ২০১২
এএইচবি
সম্পাদনা: সেকান্দার আলী, বিভাগীয় প্রধান স্পোর্টস