 |
ঢাকা : শেয়ারবাজারে টাকা খুইয়ে সর্বশান্ত হয়ে যুবরাজ গত ৩০ জানুয়ারি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তার ঝুলন্ত অবস্থায় ওই লাশ প্রথম দেখেছিল মেয়ে মনিষা মল্লিকা (৫)। তখন মনিষা বুঝতে পারেনি যে তার বাবা না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছে। ঝুলন্ত লাশ দেখে অবুঝ মনিষা তার নানীকে বলেছিল- বাবা ঝুলা ঝুলা খেলছে। মনিষা তখনও বোঝেনি যে তার বাবা আর ফিরবেন না। তাকে যে সারাজীবন পিতৃহীন অবস্থায় জীবন কাটাতে হবে।
পাঁচ বযসে এই প্রথম মনিষা তার বাবাকে ছাড়া আসন্ন ঈদ-উল-ফিতর উদযাপন করতে যাচ্ছে। তবে বাবার আদর ছাড়া মেয়ে মনিষা এখন অনেকটা বদলে গেছে। একমাত্র মা ছাড়া বাইরের মানুষের সঙ্গে সে এখন কথা বলতে চায় না।
মা, নানা-নানী, মামা-মামীর আদর পেয়ে বড় হচ্ছে মনিষা। তার পরও বাবার অভাব তাড়া করে ফিরছে মনিষাকে। সে এখনও আশা করে তার বাবা ঈদে তার জন্য নতুন জামা কিনে নিয়ে আসবে। তার বাবার কাছ থেকে সে অনেকগুলো নতুন টাকা পাবে। ঈদের দিনে তার বাবার সঙ্গে ঘুরতে বের হবে। কারণ মনিষা ছিল তার বাবার খুবই আদরের সন্তান।
এ বিষয়ে ওই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, ‘ভাই এ নিয়ে অনেক লেখালেখি হয়েছে আর লেখালেখি হোক তা আমরা চাই না। আপনি লিখে তো আর তাকে (যুবরাজ) ফিরিয়ে দিতে পারবেন না। যা হারানোর তা আমরা হারিয়েছি।’
তবে যুবরাজের আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে জানা যায়, ঈদে নানা ও মামার কাছ থেকে মনিষা জামা কাপড় পেয়েছে। তবে ঘটনার দিন থেকে বিভিন্ন মানুষ তাদের জন্য কিছু করার কথা বললেও এখনও তাদের পাশে এসে কেউ দাঁড়ায়নি। তাই তারা এখন মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলতে চায় না।
উল্লেখ্য, গত ৩০ জানুয়ারি কাজী লিয়াকত আলী যুবরাজ (৪০) তার রাজধানীর গোপীবাগের জিয়া মাঠ সংলগ্ন ৬৪/জে/৬ ভবনের পঞ্চম তলার নিজ কক্ষে একটি ওড়না দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।
নিহতের স্ত্রীর নাম তাহমিনা আক্তার সাথী (২৮)। তিনি শহীদ নবী স্কুলের শিক্ষকতা করতেন। এখন তিনি একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি নিয়েছেন। তাদের একমাত্র মেয়ে কাজী মনিষা মল্লিকা (৫ ) কেজি স্কুলের প্লে গ্রুপের ছাত্রী।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, যুবরাজ আল-আরাফা ইসলামী ব্যাংক সিকিউরিটিজ হাউজের বিও অ্যাকাউন্টধারী বিনিয়োগকারী ছিলেন। তার ট্রেডিং আইডি নম্বর ৫৩১।
বাংলাদেশ সময় : ১১২৩ ঘণ্টা, আগস্ট ১৪, ২০১২
এসএনএইচ/ সম্পাদনা : নজরুল ইসলাম, নিউজরুম এডিটর, সুকুমার সরকার, কো-অর্ডিনেশন এডিটর
kumar.sarkerbd@gmail.com