ভোলা: ভোলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া অব্যাহত তাপদাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
একই সঙ্গে অব্যাহত লোডশেডিংয়ে মানুষজন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন।
গত ৩ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে দিন ও রাতের গরমে মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। প্রচণ্ড গরমের কবলে পড়ে নানাবিধ রোগেও আক্রান্ত হচ্ছেন তারা।
জেলা সদরসহ ৬ উপজেলায় ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে রোগীরা হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হচ্ছেন।
এদিকে, গরমের কারণে ক্ষেত, খামার ও মাঠে কাজ করতে পারছেননা দিনমজুরেরা। অফিস-আদালত, ব্যাংক ও বীমাসহ সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। ঘরে-বাইরে সবখানেই যেন মানুষ নাকাল।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভোলা জেলা সদরে লোডশেডিং কিছু কম হলেও উপজেলাগুলোতে বিদ্যুৎ বিপর্যয় চরমভাবে ঘটছে। সেখানে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৫ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ থাকছে না। ফলে, প্রচণ্ড গরমের কবলে পড়ে সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে হচ্ছে। একই সঙ্গে ছোট-বড় কারখানাগুলোতে উৎপাদন মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে।
এদিকে, হাসপাতালগুলোতে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ডায়রিয়া, আমাশয়, সর্দি, কাশি ও ভাইরাস জ্বরসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে অনেকেই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
এ ব্যাপারে ভোলা সদর হাসপাতালের আরএমও ডা. শরিফ আহমেদ বাংলানিউজকে বলেন, গরমজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীরা হাসপাতালে এসে ভর্তি হচ্ছেন। চিকিৎসকরাও তাদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। হাসপাতালে পর্যাপ্ত ওষুধও মজুদ রয়েছে।’
ওজোপাডিকো উপসহকারী প্রকৌশলী দুলাল ঘোষ বলেন, ‘ভোলার ৩৪.৫ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রটি শুক্রবার থেকে বন্ধ রয়েছে। এ জন্য বিদ্যুৎ বিপর্যয় চলছে।’
তিনি বলেন, ‘ভোলায় বিদ্যুতের চাহিদা ২২ মেগাওয়াট। কিন্তু, এখন সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ৩ মেগাওয়াট। এ জন্য লোডশেডিং হচ্ছে।’
তবে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ত্রুটি মুক্ত বলে জানান প্ল্যান্ট কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান।
বাংলাদেশ সময়: ২১৩২ ঘণ্টা, মে ২৬, ২০১২
সম্পাদনা: আশিস বিশ্বাস, অ্যাসিস্ট্যান্ট আউটপুট এডিটর