 |
ঢাকা: মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে দ্বিতীয় স্থানে থাকা প্রার্থী লোপেজ ওব্রাদোর নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে পুনরায় ভোটগণনার দাবি জানিয়েছেন।
বামপন্থি আন্দ্রেস মানুয়েল লোপেজ ওব্রাদোর সাংবাদিকদের বলেন, ‘দেশের গণতন্ত্রের বৃহত্তর কল্যাণের স্বার্থে সব ভোট অবশ্যই আবারো গণনা করতে হবে।’ পাশাপাশি তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ইন্সটিটিউশনাল রেভ্যুলশনারি পার্টির (পিআরআই) প্রার্থী এনরিক পেনা নিয়েতোর বিজয় লাভের দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। সরকারিভাবে ঘোষিত প্রাথমিক ফলাফলে পেনা নিয়েতোকে লোপেজের থেকে ছয় পয়েন্টে এগিয়ে রেখে বিজয়ী দেখানো হয়েছে।
মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথোপকথনের সময় মানুয়েল লোপেজ ওব্রাদোর বলেন, নির্বাচনে হওয়া ব্যাপক অনিয়মের যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে তার কাছে। পাশাপাশি নির্বাচনী বিধি ভঙ্গের অভিযোগে পেনা নিয়েতোকে অভিযুক্ত করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘যেখানেই এ ধরণের ঘটনা ঘটেছে সেখানেই নতুন করে ভোট গণনা প্রয়োজন।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, পিআইআর যে ভাবে নির্বাচনী প্রচারণার চালিয়েছে তা কোনোভাবেই স্বচ্ছ ছিলো না। তিনি অভিযোগ করেন, পেনা নিয়েতোর দল নির্বাচনী প্রচারণায় যথেচ্ছভাবে অর্থ খরচ করেছে, যা নির্বাচনী আচরণ বিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। পাশাপাশি মেক্সিকোর মিডিয়ারও সমালোচনা করেন তিনি। তিনি অভিযোগ করেন মিডিয়া টাকা খেয়ে পেনা নিয়েতোর স্বপক্ষে তার দলের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা চালিয়েছে।
রোববারে অনুষ্ঠিত হওয়া নির্বাচনে মেক্সিকোর আট কোটি ভোটারের মধ্যে প্রায় ৫ কোটি ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন বলে জানিয়েছে দেশটির নির্বাচন কমিশন।
প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী পিআরআই দলের পেনা নিয়েতো পেয়েছেন ৩৮ দশমিক ১৫ শতাংশ ভোট এবং লোপেজ ওব্রাদোর পেয়েছেন ৩১ দশমিক ৬৪ শতাংশ ভোট।
২০০৬ সালে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও লোপেজ ওব্রাদোর অল্প ব্যবধানে মেক্সিকোর বর্তমান প্রেসিডেন্ট ফেলিপ ক্যালদেরনের কাছে পরাজিত হন। নির্বাচনের ফলাফলের বিরুদ্ধে সমর্থকদের নিয়ে রাজপথে কয়েক মাস ধরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন মেক্সিকো সিটির সাবেক জনপ্রিয় এই মেয়র।
রোববার নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পেনা নিয়েতো নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করেন। এ সময় দেওয়া বক্তব্যে তিনি সব মেক্সিকানের শাসক হওয়ার অঙ্গীকার করে এবং সরকারকে নতুন ধ্যান ধারণায় পরিচালনা করারও ঘোষণা দেন।
তার দল পিআরআই মেক্সিকোকে ৭১ বছর শাসন করে ২০০০ সালের নির্বাচনে পরাজিত হয়। দলের অতীতের শাসন পদ্ধতিতে ফিরে না যাবার অঙ্গীকার করে পেনা নিয়েতো বলেন, ‘পুরনো পদ্ধতিতে ফেরত যাবার কোনো সুযোগ নেই।’
উল্লেখ্য, অতীতের শাসনকালের সময় পিআরআই দুর্নীতি, মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সম্পর্ক এবং অন্যান্য কেলেঙ্কারির কারণে আলোচিত ও সমালোচিত হয়। ধারণা করা হয়, দলটির শাসনামলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ না করার কারণেই মেক্সিকোর কুখ্যাত মাদক চক্রগুলো মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ফেলিপ কালদেরন ২০০৬ সালে মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। এর পর থেকে দেশটিতে এ পর্যন্ত ৫৫ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ১৭৩২ ঘণ্টা, জুলাই ০৪, ২০১২
বাংলাদেশ সময়: রাইসুল ইসলাম, নিউজরুম এডিটর