বরিশাল: বরিশালে র্যাবের নির্যাতনের ফলে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য শাহবুদ্দিন খান সাবুর (৫০) মৃত্যু হয়েছে বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।
রোববার সন্ধ্যায় নগরীর ১০নং ওয়ার্ড কোস্টাল বরফকল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
সাবু ওই এলাকার মৃত বারেক খানের ছেলে। পেশায় তিনি ওএমএস ডিলার ছিলেন।
সাবুর বোন আলমতাজ বেগম জানান, পরিবার নিয়ে কোস্টাল বরফকল এলাকার মা ভবনে ভাড়া থাকতেন শাহবুদ্দিন খান সাবু।
রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দুটি গাড়িতে র্যাব সদস্যরা কোস্টাল বরফকল এলাকায় তাকে খুঁজতে থাকে। র্যাব সদস্যদের দেখতে পেয়ে সাবু নিজ বাসার পাশের ভবনের তৃতীয় তলায় উঠেন। র্যাব বিষয়টি টের পেয়ে ওই ভবনটি ঘিরে ফেলে।
পরে র্যাবের কয়েক জন সদস্য ভবনের ভেতরে ঢোকেন। অন্যরা বাইরে অবস্থান নেন। এসময় কাউকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।
প্রায় ১ ঘণ্টা পর র্যাবের বাধা উপেক্ষা করে আলমতাজ বেগম ভবনের ভেতরে গিয়ে দেখতে পান তার বড় ভাই সাবু মেঝেতে পড়ে আছেন। তার মুখ থেকে ফ্যানা বের হচ্ছে। তাৎক্ষণিক তাকে শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বলে জানান চিকিৎসকরা।
সাবুর স্ত্রী রাশিদা বেগম বলেন, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে এক সপ্তাহের বেশি সময় শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন শাহাবুদ্দিন খান সাবু। চারদিন আগে তিনি হাসপাতাল থেকে বাসায় ফেরেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার হার্টে তিনটি ব্লক ধরা পড়ে। উন্নত চিকিৎসার জন্য রোববার তাকে ঢাকা নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল।
সাবুর মৃত্যুর জন্য র্যাবকে দায়ী করে তার স্ত্রী রাশিদা বেগম জানান, র্যাব সন্ধ্যায় এসে তার স্বামী শাহাবুদ্দিন খান সাবুকে খোঁজাখুঁজি করে। বাসায় ইয়াবা ট্যাবলেট আছে এমন অভিযোগে মা ভবনের তৃতীয় তলায় তল্লাশি চালায় তারা। তবে তল্লাশি করে তারা কিছুই পায়নি।
পরে পাশের ভবনে তিনি অবস্থান করছেন এমন খবরে তারা ভবনটি ঘেরাও করে তাকে আটক করে। তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত এবং তার চিকিৎসকের ব্যবস্থাপনাপত্র র্যাবকে দেখানো হলেও তারা সাবুর বুকে লাঠি দিয়ে আঘাত করে। এতে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে মারা যান।
সাবুর স্ত্রীর অভিযোগ, র্যাব সদস্যরা তার বাসা থেকে নগদ আড়াই লাখ টাকা এবং মেয়ের বিয়ের জন্য রাখা স্বর্ণালংকারও লুট করে নিয়ে গেছে।
এ ব্যাপারে র্যাব-৮ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর রাশেদুল হক খান জানান, ২৬০ পিস ইয়াবাসহ রফিকুল ইসলাম নামে একজনকে আটক করে র্যাব। রফিকুল র্যাবকে জানান, সাবুর কাছে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট মজুদ রয়েছে।
তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী কয়েকজন সাক্ষী নিয়ে সাবুর বাসায় অভিযান চালায় র্যাবের একটি দল। কিন্তু সাবু র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে আত্মগোপন করেন। এসময় অপর একটি বিশ্বস্ত মাধ্যমে র্যাব জানতে পারে পাশের ভবনে সাবু লুকিয়ে আছেন। এই খবরের ভিত্তিতে ওই ভবনে তাল্লাশি চালানো হলে সাবুকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখা যায়।
এ দৃশ্য দেখে তার পরিবারের সদস্যদের ডেকে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলা হয়।
বাংলাদেশ সময়: ০৩১১ ঘণ্টা, জুলাই ৩০, ২০১২
সম্পাদনা: রোকনুল ইসলাম কাফী, নিউজরুম এডিটর