বগুড়া: বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার বর্ষণ এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে একজন নিহত ও কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছেন।
এরমধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৭ টার দিকে আহত হায়দার আলী নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টার দিকে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহতদের সকলকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
আহতদের মধ্যে যাদের পরিচয় জানা গেছে তারা হলেন- উপজেলার বর্ষণ গ্রামের আবু জাফরের ছেলে শাহজাহান আলী (৪৮), জাহাঙ্গীর আলম (৪২), মৃত আব্দুল কাদেরের ছেলে শামছুর রহমান (৫০), তার ছেলে শাহিন আলম (২৫) ও লিটন (২১), মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে দুলাল হোসেন (২৫), ইসমাইল হোসেনের ছেলে আব্দুল আলিম (২৪), শামছুর রহমানের স্ত্রী হোসনে আরা (৩৮), শাহজাহান আলীর স্ত্রী হেলেনা বেগম (৩৭),জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী রেহেনা খাতুন (৩৫), রইস উদ্দিনের ছেলে হায়দার আলী (২৬) ও আব্দুর রহিমের ছেলে টিপু (২৩)।
স্থানীয়রা বাংলানিউজকে জানান, জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ উপজেলার বর্ষণ গ্রামের আব্দুল গফুর ও নুরুল ইসলামের সাথে একই গ্রামের শাজাহান আলী ও শামছুর রহমানের বিরোধ চলে আসছিল।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে নন্দীগ্রাম থানার এসআই শহিদুল ইসলামের উপস্থিতিতে একটি সালিসী বৈঠক বসে। বৈঠক চলাকালে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও তর্কের এক পর্যায়ে বেলা ১১ টার দিকে উভয় পক্ষের মাঝে সংঘর্ষ বাঁধে। এতে লাঠি, ছোড়া, চাপাতি, চাউনিজ কুড়াল, রামদা ইত্যাদি ধারালো অস্ত্রের আঘাতে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ১৫ জন আহত হন।
নন্দীগ্রাম থানার ওসি আমিনুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বাংলানিউজকে জানান, সংঘর্ষ ঘটনায় একজনের মৃত্যু ও ১০/১২ জনের আহত হওয়ার খবর তিনি শুনেছেন। তবে রাত ৯ টা পর্যন্ত এ বিষয়ে কোন পক্ষই থানায় কোন ধরণের অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, নন্দীগামের ঘটনায় বিকেল সাড়ে ৩ টার দিকে বগুড়া শজিমেকে পুলিশের তালিকাভূক্ত সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত শাজাহানপুর উপজেলাধীন ফুলতলার মজনু বাহিনীর লোকজন শজিমেক হাসপাতালে প্রবেশ করে অস্ত্রের মুখে নন্দীগ্রাম উপজেলার বিজলুল এলাকার আবু তাহেরের ছেলে আব্দুল হাকিম, বর্ষণ এলাকার হাফিজার রহমানের ছেলে মোস্তাফিজার রহমান মিন্টু ও আব্দুল গফুরের ছেলে শহিদুলকে জোড় পূর্বক তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন তাদের স্বজন ও উপস্থিত স্থানীয়রা।
অন্যদিকে, পুলিশি কার্যক্রম ও তৎপরতা সঠিক রয়েছে প্রমাণ করতে বিকেল ৪টার দিকে মজনু বাহিনীর ব্যবহৃত রেজিষ্ট্রেশন বিহীন ৫ টি মোটরসাইকেল আটক করে পুলিশ।
এর আগে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে শান্তি শৃঙ্খলা ভঙ্গ করার অভিযোগে বগুড়া শজিমেক চত্ত্বর থেকে নন্দীগ্রাম উপজেলার চকপদগাড়ী গ্রামের আব্দুস সাত্তার ও ছামছুর রহমানের ছেলে সোহেল রানা লিটনকে আটক করে বগুড়া সদর থানা পুলিশ।
বাংলাদেশ সময় : ০৩০৯ঘন্টা, নভেম্বর ৩০, ২০১২
টিএমএম/সম্পাদনা: সোহেলুর রহমান, নিউজরুম এডিটর