 |
| ছবি: বন্ধুদের সঙ্গে অ্যাডাম লানজা (ডান দিক থেকে তৃতীয়) |
বিশ বছরের যুবক অ্যাডাম লানজা মনে করতো ওর মাকে তার চেয়ে স্কুলের শিশুগুলোকে বেশি ভালোবাসেন। আর সে কারণেই সে স্কুলে গিয়ে ওই হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কানেক্টিকাটে স্যান্ডি হুড স্কুলে লানজার গুলিতে ২০ শিশুসহ ২৬ জনের মৃত্যুর পর সে হত্যাকাণ্ডের কারণ খুঁজতে গিয়ে একের পর এক নতুন কথা বেরিয়ে আসেছে।
পুলিশ এখন সবশেষ যে বিষয়টি সামনে নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে তা হচ্ছে- লানজার মা ন্যান্সি তাকে মানসিক চিকিৎসাকেন্দ্রের পাঠানোর পরিকল্পনা করছিলেন যা সে মোটেই মেনে নিতে পারেনি।
তবে অন্য বক্তব্যও রয়েছে। স্যান্ডি হুক স্কুলে স্বেচ্ছাসেবি সহযোগি হিসেবে মা ন্যান্সি কাজ নেওয়ার পর থেকেই ভীষণ প্রতিহিংসায় ভুগছিলো লানজা। সে ভাবতো মা তাকে নয় বেশি ভালোবাসেন স্কুলের শিশুগুলোকে। লানজাদের প্রতিবেশি জোশুয়া ফ্ল্যাশম্যান নামের এক যুবক একথা জানান।
জোশুয়া বলেন, লানজা ভাবতো ওর মা ওকে ভালোবাসেন না কিন্তু আমি জানতাম তিনি ওকে ভীষণ ভালোবাসতেন। আসলে ও কিছুটা বিকারগ্রস্ত ছিলো।
জোশুয়া আরও জানান, স্কুলের হেডটিচার ডন হসস্প্রাং ও সাইকোলোজিস্ট ম্যারি শারল্যাচের সঙ্গে ন্যান্সির খুব বন্ধুত্ব ছিলো। এই দুজনও প্রাণ হারিয়েছেন লানজার গুলিতে।
জশুয়া বলেন, “অ্যাডাম লানজা ভাবতো তার মা তাকে দূরে সরিয়ে দিতে চান। আর এতে সে ভীষণ ক্ষেপে যায়। আমার ধারণা ঠিক এই কারণেই সে স্কুলে ছুটে গিয়ে বাচ্চাগুলোকে ও অন্যদের হত্যা করেছে।”
পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে লানজা তার মায়ের সঙ্গে ভীষণ ক্ষিপ্ত ছিলো কারণ মা তাকে মানসিক রোগ চিকিৎসা কেন্দ্রে পাঠাতে চেয়েছিলেন। এ বিষয়টিকে একটি সম্ভাব্য মোটিভ ধরেই পুলিশি তদন্ত চলছে।
কানেক্টিকাটের চিফ মেডিকেল এক্সামিনার ড. এইচ ওয়েন কারভার একটন শীর্ষ জেনেটিক বিশেষজ্ঞকে ডেকে পাঠিয়েছেন লানজার মস্তিষ্ক পরীক্ষা করে দেখার জন্য। এই বিশেষজ্ঞ দেখার চেষ্টা করবেন মস্তিষ্কের কোন ধরনের বিকৃতি তাকে এমন হত্যাকারী দানবে পরিণত করেছিলো।
অ্যাডাম লানজার ভাই রায়ান লানজা পুলিশকে অবশ্য জানিয়েছেন তার ভাইয়ের অ্যাসপারজার্স সিনড্রম (অটিজম সংক্রান্ত) ছিলো। তবে তা এমন ভয়াবহ রূপ নেওয়ার মতো ছিলো না।
লানজার একসময়ের সহপাঠি জানিয়েছে, তারা যখন টিনেজার তখন থেকেই লানজা তাকে জানিয়েছিলো তার একটি শয়তানের ওয়েব সাইট রয়েছে। ট্রেভার টড, ২০ নামের এই বন্ধুটি জানায়, ওই সাইট সেও ভিজিট করেছে এবং তাতে কালো ব্যাকগ্রাউন্ডের ওপর গোথিক স্টাইলে বড়বড় লাল অক্ষরে লেখা ছিলো ‘ডেভিল’। “সাইটটি দেখে আমি ভয় পেয়েছিলাম,” বললো টড।
একটি ম্যাগাজিনের খবরেও বলা হয়েছে লানজা এ ধরনের ভুতুড়ে ওয়েব সাইট ও আত্মহত্যার কথোপকথনের (সুইসাইড চ্যাটরুম) সাইট গুলো ভিজিট করতো।
হত্যাযজ্ঞ চালানোর উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হওয়ার আগে নিজের কম্পিউটারের হার্ডডিস্কটিও গুঁড়িয়ে দেয় অ্যাডাম লানজা।
বাংলাদেশ সময় ১৬১৮ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ২১, ২০১২
এমএমকে