ঢাকা: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ব্যবস্থাপনায় সমস্যা দিন দিন বাড়ছে।
উচ্চ আদালতের মামলার কারণে দীর্ঘদিন ধরে কোম্পানির সাধারণ শেয়ারহোল্ডাররা লভ্যাংশ বঞ্চিত হচ্ছেন।
অপরদিকে, অভিযোগ উঠেছে, অবৈধ ব্যক্তিরা প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনায় রয়েছেন।
জানা গেছে, কোম্পনির পরিচালকদের মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণে কোম্পানির বর্তমান টেকনিক্যাল ডিরেক্টর একেএম নুরুল আফসার কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভার (এজিএম) বিরোধিতা করে ২০০৫ সালে উচ্চ আদলতে একটি রিট করেন।
মামলা থাকার কারণে ২০০৫ সালের পর থেকে এজিএম করতে পারেনি কোম্পানিটি। ফলে, কোম্পানিটির শেয়ারহোল্ডাররা দীর্ঘ ৭ বছর ধরে তাদের পাওনা লভ্যাংশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সাবেক বীমা অধিদফতর ২ দফা চেষ্টা করেও পরিচালকদের দ্বন্দ্ব নিরসনে ব্যর্থ হয়। সর্বশেষ বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এপ্রিল মাসের ১০ তারিখে দ্বন্দ্ব নিরসনে আরেক দফা চেষ্টা করে। কিন্তু দুই মেরুতে অবস্থান করা পরিচালকদের দুটি পক্ষকে এক করা সম্ভব হয়নি বলে আইডিআরএ’র এক সদস্য জানিয়েছেন।
এদিকে, অভিযোগ পাওয়া গেছে, কোম্পানির পদ হারানোর পরও অবৈধভাবে দায়িত্ব পালন করছেন ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির চেয়ারম্যান সৈয়দ মোয়াজ্জেম হুসাইন ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দাস দেব প্রসাদ।
সম্প্রতি, আইডিআরএর কাছে লিখিতভাবে এ সংক্রন্ত দু’টি অভিযোগ করেছেন ডেল্টা লাইফের দু’জন পরিচালক।
সম্প্রতি, আইডিআরএ চেয়ারম্যানকে দেওয়া ডেল্টার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের বর্তমান পরিচালক ও সাবেক চেয়ারম্যান মনজুরুর রহমানের এক অভিযোগপত্রে বলা হয়, আইডিআরএ যুগপৎ পরিচালকদের (একই সঙ্গে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও একই জাতীয় বীমা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক) একটি প্রতিষ্ঠানের পদ ধরে রেখে অন্য প্রতিষ্ঠানের পরিচালকের পদ ছেড়ে দিতে নির্দেশ দেয়।
আইডিআরএ’র ও নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৯ ফেব্রুয়ারি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হুসাইন ডেল্টা লাইফ থেকে পদত্যাগ করেন।
পদত্যাগের পরও মোয়াজ্জেম গত ১৪ মার্চ ও ১৫ মার্চ ডেল্টা লাইফের গণগ্রামীণ বীমা ও এককবীমার বাৎসরিক সম্মেলনে বেআইনিভাবে কোম্পানির চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধান অতিথির দায়িত্ব পালন করেন।
গত ১৯ মার্চ মোয়াজ্জেম হুসাইন ডেল্টা লাইফ থেকে তার পদত্যাগের বিষয়টি গোপন করে আইডিআরএ’র সার্কুলারের স্থগিতাদেশ চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন।
হাইকোর্ট ডিভিশনের বিচারপতি তারিক উল হাকিম ও বিচারপতি এম ফারুকের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ তার আবেদন মঞ্জুর করেন।
এর পর সরকারের পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল চেম্বার জজ আদালতে হাইকোর্টের আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে আপিল করেন। এর পরিপ্রক্ষিত চেম্বার জজ গত ৮ এপ্রিল হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেন।
ফলে, আইনগতভাবে সৈয়দ মোয়াজ্জেম হুসাইন আর ডেল্টা লাইফের চেয়ারম্যন ও পরিচালক থাকেন না বলে অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করা হয়।
আইডিআরএ চেয়াম্যানকে দেওয়া ডেল্টা লাইফের পরিচাল মো. আব্দুল ওয়াহাবের অপর এক চিঠিতে বলা হয়, দাস দেব প্রসাদ ২০০৫ সাল থেকে অবৈধভাবে এমডির দায়িত্ব পালন করছেন, যে কারণে সম্প্রতি আইডিআরএ তার নিয়োগ অনুমোদন না করে তাকে অবৈধ ঘোষণা করে। কিন্তু এরপরও দাস দেব প্রসাদ দায়িত্ব পালন করছেন।
যেহেতু দাস দেব প্রসাদ ২০০৫ সাল থেকে অবৈধভাবে দায়িত্ব পালন করছেন, তাই কোম্পানির পলিসিহোল্ডার ও শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থে তিনি কোম্পানি থেকে যে সব আনুতোষিক, বেতন-ভাতা ও সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করেছিলেন, তা কোম্পানিতে ফেরত আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে চিঠিতে আব্দুল ওয়াহাব আইডিআরএ চেয়ারম্যানের কাছে অনুরোধ করেন।
এ বিষয়ে আইডিআরএ সদস্য ফজলুর করিম বাংলানিউজকে বলেন, ‘দাস দেব প্রসাদের নিয়োগ অনুমোদন বাতিল করা হয়েছে। সে হিসেবে কোম্পানিতে তার এমডির দায়িত্ব পালনের কোনো অধিকার নেই। যদি তিনি দায়িত্ব পালন করেন, তাহলে তা অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে।’
এদিকে, দাস দেব প্রসাদ এমডির দায়িত্ব পালনের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘আইডিআরএ আমার এমডি নিয়োগের আবেদন নাকচ করলেও বোর্ড এ বিষয়ে আমাকে কিছু জানায়নি।’ সে কারণে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন।
অবৈধভাবে ২০০৫ সাল থেকে দায়িত্ব পালনের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এ অভিযোগ ঠিক নয়।’ পরিচালনা পর্ষদ তাকে অনুমোদন দেওয়ায় তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন বলে উল্লেখ করে তিনি এ বিষয়ে চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।
এ বিষয়ে সৈয়দ মোয়াজ্জেম হুসাইনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ সময়: ০২১৫, এপ্রিল ২৩, ২০১২
এইচএমএম, সম্পাদনা: আশিস বিশ্বাস, সিনিয়র নিউজরুম এডিটর