 |
ঢাকা: সেশনজট, অনিয়ম, আত্মীয়করণসহ নানা কারণে ক্রমেই স্থবির হয়ে পড়ছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি)।
ক্লাসরুম ও বসার স্থান সংকুলানের অভাবে ছাত্র-শিক্ষকের মধ্যে বাড়ছে অসন্তোষ।
পদোন্নতি নিয়ে পরিকল্পিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের মধ্যে বিরোধ ও বিভেদ সৃষ্ট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করেছে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ।
শনিবার প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের সভাপতি অধ্যাপক আবুল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আমির হোসেনের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব অভিযোগ করা হয়।
একইসঙ্গে ৬ দফা দাবি জানিয়েছে শিক্ষক সমাজ।
অভিযোগে বলা হয়, বর্তমান প্রশাসন অর্থ অপচয় বৃদ্ধি করেছে। নষ্ট করা হচ্ছে ক্যাম্পাসের প্রাকৃতিক পরিবেশ। এ কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের আত্ম-পরিচয়, মর্যাদা, ঐতিহ্য বর্তমানে হুমকির সম্মুখীন।
পদোন্নতির সব শর্ত পূরণ করে সম্প্রতি প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষক অধ্যাপক পদের জন্য আবেদন করেন। কিন্তু, উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন পদোন্নতি প্রশ্নে টালবাহানা শুরু করেন। এনিয়ে ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’-এর নেতারা একাধিকবার উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনা করেন।
উপাচার্য প্রতিবারই ‘হয়ে যাবে’ বলে আশ্বস্ত করলেও তার বাস্তবায়ন হয়নি। এনিয়ে উপাচার্যকে স্মারকলিপি দেওয়া হলে ৭ ফেব্রুয়ারি সিলেকসন বোর্ড ডাকা হয়। এখানেও উপাচার্য বোর্ডের সদস্যদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়কে গতিশীল ও অনিয়ম দূর করতে ৬ দফা দাবি জানিয়েছে প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ। দাবির মধ্যে রয়েছে- সিলেকশন বোর্ডের সুপারিশ করা প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগসহ সব বিভাগের শিক্ষকদের পদোন্নতি আগামী সিন্ডিকেটে নিশ্চিতকরণ, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের এক শিক্ষককে আগামী সিন্ডিকেটে স্থায়ী করা, আগামী সিন্ডিকেটের আগে বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের সিনিয়র শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন, স্থবির হয়ে পড়া শিক্ষা, প্রশাসনিক ও উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি ফিরিয়ে আনা, অনৈতিক প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতা পরিহার, বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের মধ্যে বিরোধ ও বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা বন্ধ করা এবং শিক্ষক সমিতির সম্পাদক সম্পর্কে আপত্তিকর ও অনৈতিক বক্তব্য উপস্থাপনের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি।
বাংলাদেশ সময়: ১৩৪৩, ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০১৩
বিজ্ঞপ্তি/সম্পাদনা-আমজাদ হোসেন, নিউজরুম এডিটর, আশিস বিশ্বাস, অ্যাসিস্ট্যান্ট আউটপুট এডিটর