৬ আষাঢ় ১৪২০, বৃহস্পতিবার জুন ২০, ২০১৩ ১০:৩৩ এএম BDST banglanew24
10 Jul 2012   05:11:08 PM   Tuesday BdST
E-mail this

প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে মানববন্ধন: জাহাঙ্গীর চৌধুরী


স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে মানববন্ধন: জাহাঙ্গীর চৌধুরী
ছবি : সোহেল সরওয়ার/ বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

চট্টগ্রাম: পরাজিত প্রার্থীরাই ডায়াবেটিক জেনারেল হাসপাতালের মতো একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে তথাকথিত মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।

মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর জাকির হোসেন সড়কের হাসপাতালের সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর চৌধুরী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের সাফল্যে হিংসা আর ঈর্ষার বশবর্তী হয়ে তারা এ হাসপাতালের উন্নয়নে বাধা দেওয়াসহ বিভ্রান্তিমূলক বানোয়াট, মনগড়া তথ্যের মাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছে। পাশাপাশি কয়েকমাস পরের নির্বাচনে ফায়দা লোটার জন্য ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। আমি দায়িত্ব পালনকালে ব্যক্তিগতভাবে এক কোটি ২৫ লাখ টাকা অনুদান সংগ্রহ করেছি।’

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া হাসপাতাল পরিচালনা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জাহাঙ্গীর চৌধুরী বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমরা আবেদন করেছি। অনুমোদন পাওয়ার জন্য যেসব শর্ত পূরণ করা দরকার আমাদের তা আছে।’

লিফট কেনায় দুর্নীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘একে খান গ্রুপ আমাদের বেড লিফট কেনার জন্য ২০ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছে। আমরা প্রথম দু’বারের দরপত্র বাতিল করি। তৃতীয়বারে গ্রহণ করি। কারণ কোনো অবস্থাতেই হাসপাতালের ইক্যুইপমেন্টের ব্যাপারে আপস করিনি। এছাড়া নিয়ম অনুযায়ী সমিতির সভায় অনুমোদন পাওয়ার পরই কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে।’

ওষুধ বাণিজ্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আগে আমাদের ফার্মেসিতে দুটি ওষুধ পাওয়া গেলে তিনটি পাওয়া যেত না। দিনে ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকার ওষুধ বিক্রি হতো। এক সময় হাসপাতালের পরিচালক ডা. নওশাদ আহমেদ খান, চিকিৎসক শাহজামান মনসুর খান ও দোদুলকে দায়িত্ব দিই এ খাতে আয় বাড়ানোর জন্য। আমরা বিশেষ ছাড়ে উৎপাদকদের কাছ থেকে ওষুধ সংগ্রহ করি, রোগীদের কাছেও তা কমমূল্যে বিক্রি করছি। এখন আমাদের দিনে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকার ওষুধ বিক্রি হচ্ছে। আয় হচ্ছে দিনে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা। গত মাসে আমরা ওষুধ বিক্রি বাবদ আয় করেছি দুই লাখ টাকা।’

অন্যান্য খাতের দুর্নীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘হাঁড়ির চাল একটি টিপলে বোঝা যায় সব ভাতের অবস্থা। এসএইচআর গ্রুপ অ্যাম্বুল্যান্স কিনে নিজেদের চালক দিয়ে আমাদের হাসপাতালে পাঠিয়ে দিয়েছে অনুদান হিসেবে। অথচ সমিতির নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থীরা প্রচার করছেন আমি নাকি অর্থ আত্মসাৎ করেছি। এই হলো অবস্থা।’

তিনি জানান, ২০০৭-০৮ সালে আমাদের নতুন-পুরোনো সেবা পাওয়া রোগী ছিল ১ লাখ ২০ হাজার। বর্তমানে এ সংখ্যা ২ লাখ ৭৪ হাজার ৭১৭ জন। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ২০০৯ সালের সরকারি মজুরি কাঠামো, দলগত বীমা বাস্তবায়ন, ডায়াবেটিক মেলা চালু, এনায়েতবাজার, কাট্টলী, বন্দরটিলা ও অক্সিজেনে ৪টি শাখা, রোগীকল্যাণমূলক বিভিন্ন চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।

আগামী দিনে ৫০০ শয্যার হাসপাতাল, নার্সিং ইনস্টিটিউট, মেডিক্যাল কলেজ চালুর জন্য ২টি ২০তলা ভবন নির্মাণের স্বপ্নের কথা জানান সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর চৌধুরী।

সমিতির সভাপতি ডা. ছৈয়দুর রহমানের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি এসএম শওকত হোসেন, শেখ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন, নির্বাহী সদস্য এএসএম জাফর, ডা. মুহাম্মদ আবুল কালাম, নিজামউদ্দিন মাহমুদ হোসেন, মো. শাহনেওয়াজ প্রমুখ।
মতবিনিময় সভা শুরুর আগে সাংবাদিকদের বিনামূল্যে ডায়াবেটিস পরীক্ষা এবং চিকিৎসা কার্যক্রম ঘুরিয়ে দেখান হাসপাতালের পরিচালক ডা. নওশাদ আহমেদ খান।

এরপর এক্স-রে বিভাগে মহিলা টেকনিশিয়ান না প্রসঙ্গে সাংবাদিকেরা জানতে চাইলে জাহাঙ্গীর চৌধুরী এক সপ্তাহের মধ্যে নিয়োগ দেওয়ার আশ্বাস দেন।

উল্লেখ্য, ডায়াবেটিক সমিতি পরিচালিত এ হাসপাতালের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ, কথায় কথায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরিচ্যুতির প্রতিবাদে গত ৩০ জুন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে ‘চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক হাসপাতাল রক্ষা পরিষদ’। এতে হাসপাতালে চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, সমিতির আজীবন সদস্যের একাংশসহ ভুক্তভোগী রোগী ও অভিভাবকেরা অংশ নেন।

মানববন্ধন চলাকালে বক্তারা বলেন, চট্টগ্রামের লাখো ডায়াবেটিস রোগীর ভরসাস্থল এ হাসপাতালে ২০০৯ সালে সমিতির নির্বাচনের ফরম বিক্রি বাবদ এক লাখ ৬০ হাজার টাকা আয় হলেও জমা হয়েছে মাত্র ৩০ হাজার টাকা। একই বছর রোগী সদস্য ও আজীবন সদস্যের মিলে আয় হওয়ার কথা ৯০ লাখ টাকা। অথচ নিরীক্ষা প্রতিবেদনে আয় দেখানো হয়েছে ৬৫ লাখ ৯৩ হাজার ৯৬৮ টাকা। সমিতির তিন কোটি টাকা এফডিআরের বিপরীতে অর্ধেকেরও বেশি ঋণ নিয়ে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করা হয়েছে। প্রায় চার হাজার পরিচয়পত্রের বিপরীতে নেওয়া চার লাখ টাকার কোনো টাকাই জমা হয়নি হিসাবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৬০৭ ঘণ্টা, জুলাই ১০, ২০১২
এআরএম/সম্পাদনা: রানা রায়হান, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Bookmark and Share
REVE Systems
banglanews24 All Apps
RehabHousing.com

জাতীয়

8877
IIMEJ
Kaspersky Lab - Antivirus Software [ Bangladesh ]
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম | এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন

ফোন: +৮৮০ ২ ৮৪০২১৮১, ৮৪০২১৮২ আই.পি. ফোন: +৮৮০-৯৬১২১২০০০০ নিউজ রুম সেল: +৮৮-০১৭২৯০৭৬৯৯৬, ০১৭২৯০৭৬৯৯৯ ফ্যাক্স: +৮৮০ ২ ৮৪০ ২৩৪৬
ইমেইল: news.bn24@gmail.com, editor.banglanews@gmail.com, editor@banglanews24.com    বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম    এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন

বাংলায় লেখা হলে ইউনিকোডে পরিবর্তন করে ইমেইল করুন    কপিরাইট © 2013 সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত    একটি ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেড প্রতিষ্ঠান