 |
দনেৎস্ক: উৎসবের কৃত্রিম রঙ ধুয়েমুছে গেছে বৃষ্টিতে। মনের মধ্যে যে ছবি এঁকে ছিলো ইউক্রেন সমর্থকরা তাতে আঁচর কাটতে পারেনি প্রকৃতি। ম্যাচ শুরুর আগে ঘণ্টাখানেক বৃষ্টির আবেশে সিক্ত হলেও খেলা শেষ হওয়ার পর হৃদয়ের কানভাসে জমাট বাঁধা মেঘ নিয়ে বাড়ি ফিরেছে তারা। কারণ ফ্রান্সের কাছে ২-০ গোলে হেরেছে স্বাগতিকরা।
প্রকৃতি বাগড়া দেওয়ায় নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা পর শুরু হয় খেলা। ম্যাচে যতটা আক্রমণাত্মক খেলেছে ফ্রান্স ততটা নয় ইউক্রেন! আসলে জয় বা ড্রয়ের লক্ষ্য নিয়ে খেলতে নামা স্বাগতিকরা নিজেদের রক্ষণদুর্গ আগলে সুযোগ বুঝে আক্রমণে গেছে প্রতিপক্ষের আঙিনায়! কাজও হয়েছে। তাদের এই নীতির কাছে নতি স্বীকার করে ফ্রান্স। প্রথমার্ধে মুহুর্মুহু আক্রমণ করেও গোলের দেখা পায়নি লরা ব্যাঙ্কের দল।
এ অর্ধে ভাগ্যও সহায়তা করেনি ফ্রান্সকে। ১৬ মিনিটে তিনজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে জালে বল পাঠান জেরে মেনেজ। তার আগেই অফসাইডের সঙ্কেত দেন রেফারি। ২৯ মিনিটে আবারও গোল বঞ্চিত হন এই মিডফিল্ডার। এবার তার শট লাগে গোলরক্ষকের গায়ে।
ফ্রান্সের আক্রমণ বসে বসে দেখেনি স্বাগতিকরা। পাল্টা-আক্রমণে গেছে তারাও। তবে ফ্রান্স গোলরক্ষক হোগো লোরি বারবার হতাশ করেছেন সহ-আয়োজকদের। ৩৪ মিনিটে সুইডেনের বিপক্ষে জয়ের নায়ক শেভচেঙ্কোর ভলি নিপূণ দক্ষতায় রুখে দেন তিনি। এর তিন মিনিট আগে দারুণ সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি পিয়াতোভ। রক্ষণদুর্গ ভেঙে গোলরক্ষককে একা পেয়েও নেন লক্ষভ্রষ্ট শট।
বিশ্রামের পর আক্রমণে ধার বাড়ায় সফরকারীরা। ৫২ মিনিটে ফ্রান্সকে এগিয়ে নেন মেনেজ। ডানপ্রান্ত থেকে রিয়াল মাদ্রিদের তারকা করিম বেনজেমার পাস থেকে গোল করেন তিনি। তার গোলের সঙ্গে সঙ্গে নীরবতা নেমে আসে স্টেডিয়ামে। কারণ স্বাগতিকদের সমর্থন দিতে আসা হাজার হাজার দর্শক মুহূর্তের মধ্যে নিশ্চুপ হয়ে যায়।
গোল হজমের পর প্রথমার্ধের নীতি থেকে সরে এসে আরও বেশি রক্ষণাত্মক খেলে তারা। কিন্তু একবার জালের ঠিকানা খুঁজে পাওয়া ফ্রান্সকে পরে আর আটকাতে পারেনি ইউক্রেন। ৫৬ মিনিটে দ্বিতীয় গোলের দেখা পায় ৯৮’র বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। গোল করেন ইয়োহাঁ কাবায়ে। মজার বিষয় তিনিও মিডফিল্ডার। আর এ গোলেরও যোগানদাতা ছিলেন বেনজেমা। বাকি সময় বিক্ষিপ্ত আক্রমণ হলেও গোল হয়নি।
এ জয়ে দুই ম্যাচে চার পয়েন্ট নিয়ে ‘ডি’ গ্রুপের শীর্ষে ফ্রান্স। সমান ম্যাচে এক পয়েন্ট কম নিয়ে তৃতীয় স্থানে ইউক্রেন।
বাংলাদেশ সময়: ০১১১ ঘণ্টা, জুন ১৬, ২০১২
সম্পাদনা: চঞ্চল ঘোষ, নিউজরুম এডিটর