৫ আষাঢ় ১৪২০, বুধবার জুন ১৯, ২০১৩ ৫:১৮ এএম BDST banglanew24
27 Jun 2012   10:21:13 PM   Wednesday BdST
E-mail this

অর্থ বিল-২০১২ পাস

মোবাইল থেকে কর প্রস্তাব প্রত্যাহার


সাইদ আরমান, সাজিদুল হক ও মহিউদ্দিন মাহমুদ
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
মোবাইল থেকে কর প্রস্তাব প্রত্যাহার অর্থ বিল-২০১২ পাস

ঢাকা: ব্যক্তিশ্রেণীর করমুক্ত আয়ের সীমা ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে দুই লাখ টাকা করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। একই সঙ্গে ২০১২-১৩ অর্থ বছরে অর্থমন্ত্রী প্রস্তাবিত বাজেটে মোবাইল ফোন ব্যবহারে ২ শতাংশ হারে যে উৎসে কর আরোপের প্রস্তাব করেছিলেন, তা প্রত্যাহার করে নিলেন।

রপ্তানি আয়ে এক দশমিক ২ শতাংশ হারে কর আরোপের যে প্রস্তাব অর্থমন্ত্রী করেছিলেন, তা কমিয়ে দশমিক আট শতাংশ করার কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। অর্থমন্ত্রী মুহিত ১০ শতাংশ হারে কর দিয়ে কালো টাকা সাদা করার যে প্রস্তাব বাজেটে করেছেন, তা বহাল থাকছে বলেও জানান।

এমন আরে কিছু ক্ষেত্রে শুল্ক প্রত্যাহার ও আয়কর কাটছাঁটসহ বেশ কিছু ছাড় দিয়ে জাতীয় সংসদে আসছে ২০১২-১৩ অর্থ বছরের জন্য সরকারের আর্থিক প্রস্তাবলী কার্যকর সংক্রান্ত অর্থবিল অনুমোদন হয়েছে।  

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে আজ বুধবার সাধারণ জনগণের জন্য এই অনুরোধ করেন অর্থমন্ত্রীকে। প্রধানমন্ত্রীর বেশ কিছু প্রস্তাবসহ অন্যান্য প্রস্তাব সংশোধনী এনে অর্থবিল-২০১২ অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী। পরে বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। এর মধ্য দিয়ে আগামী অর্থবছরের কর অংশটুকু চ‍ূড়ান্ত হয়ে গেলো।

এর আগে, বিলটির ওপর দেওয়া জনমত যাচাই, বাছাই  কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব নাকচ হয়। তবে মহাজোট সংসদ সদস্যদের কয়েকটি সংশোধনী গ্রহণ করা হয়। স্বতন্ত্র সদস্য ফজলুল আজিমের কোন সংশোধনী গৃহীত হয়নি। সংশোধনীর প্রস্তাবগুলো নাকচ হয়। অর্থমন্ত্রী জানান, এসএমই খাতে করমুক্ত আয়ের সীমা ৪০ লাখ টাকা করা হবে এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, যাদের ব্যবসা ৭০ লাখ টাকার নিচে তাদের প্যাকেজ কর সুবিধা দেওয়া হবে। তবে এক্ষেত্রে করের পরিমান সামান্য বাড়তে পারে।

অ্যালুমিনিয়ামের জিনিসপত্রকে কর অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ক্ষুদ্র কুটির শিল্পকে করমুক্ত রাখা হয়েছে।

সর্বোচ্চ ১৯ ইঞ্চি কম্পিউটার মনিটর আমদানিকে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে ২২ ইঞ্চি মনিটর কিনলে তার জন্য শুল্ক দিতে হবে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে মাল্টিমিডিয়া ব্যবহার ও স্থাপনকে কর রেয়াত সুবিধার আওতায় রাখা হয়েছে।
 
অর্থবিল উত্থাপনকালে মুহিত বলেন, “এবারের প্রস্তাবিত বাজেটে তিনটি বিষয় সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে। সামষ্টিক অর্থনীতি, প্রবৃদ্ধির উচ্চভিলাসী হার এবং মূল্যস্ফীতি। একই সঙ্গে, বাজেটে ঘাটতি সরকারের ঋণ এবং সংযত মুদ্রানীতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার হার সামনে এসেছে। তবে বিশ্বমন্দার সময়ও দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ব্যাহত হয়নি। বর্তমানে মূল্যস্ফীতি কমেছে। রেমিট্যান্স বেড়েছে। দ্রব্যমূল্য কমেছে। রাজস্ব আদায়ে সাফল্য এসেছে। আমি বিশ্বাস করি এ বছর জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের কাছাকাছি হবে এবং আগামী বছর তা ৭ দশমিক ২ শতাংশ অর্জিত হবে। আমরা অনেক অসম্ভব সম্ভব করেছি।”

তিনি বলেন, “আমাদের জাতীয় আয়ের ৭০ শতাংশ বিশ্ব বাণিজ্য এবং প্রবাসী আয়ে নির্ভরশীল। তাই এখানে সব সময় ঝুঁকি থাকছে। তবে এও বলতে হয়, আমরা যত ভালো কাজই করি, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখা সম্ভব না হলে মানুষ সন্তুষ্ট হয় না। কিন্তু আমাদের আশার কথা, বছরের শেষ মুহূর্তে অর্থনৈতিক সূচক আগের থেকে স্থিতিশীল হয়েছে। কিন্তু আমাদের অর্থনীতিতে অর্থনৈতিক দুর্বলতার চেয়ে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা জরুরি।”

তবে মন্ত্রী বলেন, “আমরা অধিক পরিমাণে বৈদেশিক সাহায্য এনেছি। কিন্তু ব্যবহার করতে পারিনি। অনেক সাহায্যের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। তাই আরো বেশি আহরণের সুযোগ রয়েছে। আমাদের সেদিকে নজর দিতে হবে।”

আগামী ডিসেম্বর মাসে পুঁজিবাজারের সংস্কারের সুফল পাওয়া যাবে বলেও জানান তিনি। মুহিত বলেন, “আমি সব সময় আমর বাজেট বাস্তবায়নে দক্ষতা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় জোর দিয়ে থাকি। তবে আমাদের বাস্তবায়ন দক্ষতা অনেক বেড়েছে।”

মন্ত্রী জানান, কম্পিউটার ও মোবাইল ফোনের সফটওয়ারে কর অব্যাহতি বহাল থাকছে। একই সুবিধা থাকছে কিছু যন্ত্রাংশের ওপর।

অর্থমন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী রাজস্ব ও কর সংক্রান্ত বেশ কিছু প্রস্তাব করেছেন। আমার কাছে তা নির্দেশ। প্রত্যেক অর্থমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশ গ্রহণ করেন।”
 
অর্থমন্ত্রী বলেন, “ব্যক্তি শ্রেণীর করমুক্ত আয়ের সীমা দুই লাখ টাকা করা হবে। তবে ন্যূনতম করের পরিমান তিন হাজার টাকাই থাকছে। তবে নারীদের ক্ষেত্রে তা ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা বহাল থাকছে।”

মুহিত বলেন, “সঞ্চয়ী হিসাবে এক লাখ টাকা পর্যন্ত থাকলে তার জন্য কোনো কর সনাক্তকরন নম্বর লাগবে না। একই সঙ্গে জীবন বীমার মেয়াদ শেষে এর গ্রাহকরা যে মুনাফা পান তার ওপরে যে ১০ শতাংশ হারে কর প্রস্তাব করা হয়েছিলো বাজেটে তা তুলে নেওয়া হবে।”   

মন্ত্রী বলেন, “অ্যালুমিয়ান পণ্যের ওপর যে কর অব্যাহতির বিধান ছিলো, তা আবারও বহাল থাকছে। তবে কাচের জিনিস পত্রের ওপর কর অব্যাহত থাকছে।”

বাংলাদেশ সময়: ২২০৮ ঘণ্টা, জুন ২৭, ২০১২
এসএআর/সম্পাদনা: আহমেদ জুয়েল, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Bookmark and Share
REVE Systems
banglanews24 All Apps
RehabHousing.com

অর্থনীতি

8877
IIMEJ
Kaspersky Lab - Antivirus Software [ Bangladesh ]
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম | এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন

ফোন: +৮৮০ ২ ৮৪০২১৮১, ৮৪০২১৮২ আই.পি. ফোন: +৮৮০-৯৬১২১২০০০০ নিউজ রুম সেল: +৮৮-০১৭২৯০৭৬৯৯৬, ০১৭২৯০৭৬৯৯৯ ফ্যাক্স: +৮৮০ ২ ৮৪০ ২৩৪৬
ইমেইল: news.bn24@gmail.com, editor.banglanews@gmail.com, editor@banglanews24.com    বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম    এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন

বাংলায় লেখা হলে ইউনিকোডে পরিবর্তন করে ইমেইল করুন    কপিরাইট © 2013 সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত    একটি ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেড প্রতিষ্ঠান