অনেক চেষ্টা তদ্বিরে বাংলাদেশ সরকার মালয়েশিয়ার বন্ধ শ্রমবাজার ফের সচল করতে সফল হয়েছে। কিন্তু যেসব কারণে এদেশে (মালয়েশিয়ায়) আমাদের শ্রমিক আসা বন্ধ হয়েছিল তার একটি ছিল বাংলাদেশি শ্রমিকদের কারও কারও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। সম্প্রতি সে ধরনেরই আরেকটি ন্যক্কারজনক কাজ করেছেন বাংলাদেশি শ্রমিক। তিনি প্রতারণা করে মালয়েশিয়ান মালিকের টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছেন।
বহু খোঁজাখুজির পর তাকে না পেয়ে মালয়েশিয়ান মালিকের পক্ষে কোম্পানির সুপার ভাইজার রাকিব বাদী হয়ে পলাতক শ্রমিক মিজানুর রহমানের (২২) বিরুদ্ধে গত ১৪ই নভেম্বর ২০১২ তারিখে কামপুং মালায় সুবাং বালায় (থানা) একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার বিবরণীতে জানা যায়, গত ১ নভেম্বর টাঙ্গাইল জেলার কালীহাতি থানার খিলডা (বাগোডিয়া বাজার) গ্রামের মতিউর রহমানের ছেলে মিজানুর রহমান লোভের বশবর্তী হয়ে মালয়েশীয় মালিকের ক্যাশে গচ্ছিত ১১হাজার ২শত ৪০রিংগিত (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৩লাখ টাকা) নিয়ে পালিয়ে যায়। এছাড়া একটি ল্যাপটপ ও অন্যান্য মূল্যমান সামগ্রীও নিয়ে যায় মিজানুর রহমান বাংলাদেশে।
জানা গেছে, মিজানুর বাংলাদেশে পালিয়েছে।
তবে মামলা করার আগে এ ব্যাপারে বাংলাদেশে মিজানের নানা তমছের আলীর সঙ্গে সেলফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যাপারটার সুরাহা করবেন বলে আশ্বাস দেন। কিন্তু পরবর্তীতে তমছের আলী তার সেলফোনে বন্ধ করে রাখেন।
এরপর মালিকের পক্ষ থেকে কোম্পানির সুপারভাইজার রাকীব মামলা দায়ের করেন। মামলা নং আর,১৭২০৩৯।
এ ব্যাপারে রাকীব এ প্রতিবেদককে জানান, কুয়ালালামপুরস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
এছাড়া মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রাসেদ বাদলকে বিষয়টি মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে।
এদিকে, মিজানের কর্মস্থল সোবাং পারডানায় ব্যাপকভাবে ঘটনাটি জানাজানি হলে ঐ এলাকায় বাংলাদেশিদের বিষয়ে ব্যাপক নেতিবাচক ধারণার তৈরি হয়। এছাড়া মিজান টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়াতে মালিক পক্ষ বর্তমানে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিতে অবস্থানরত বাকি শ্রমিকদের ওপর নানা রকম চাপ সৃষ্টি করছে।
অত্র এলাকার প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকরা বলেন, মিজান চুরি করে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে। মালয়েশিয়াতে অবস্থানরত প্রায় ৭লাখ বাংলাদেশির ক্ষতি সে করেছে। মালশিয়াতে আমাদেরকে ইন্দোনেশিয়া, কম্বোডিয়া, মায়ানমার, নেপাল, ভিয়েতনাম ও ইন্ডিয়ান শ্রমিকদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করতে হয়। এ অবস্থায় মিজানের এ চুরির ঘটনায় আমাদের অনেক মূল্য দিতে হবে।
বিরাজমান পরিস্থিতিতে প্রবাসী শ্রমিকরা মিজানকে আইনের আওতায় এনে তার উপযুক্ত শাস্তি বিধানের দাবি করেছেন মাননীয় স্বরাষ্টমন্ত্রী, পররাষ্টমন্ত্রী ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর কাছে।
বাংলাদেশ সময়: ১২৫৫ ঘণ্টা, ২৪ নভেম্বর, ২০১২
একে