 |
ঢাকা: সিরিয়ায় প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে অপসারণ করার ব্যাপারে আবারো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছে চীন ও রাশিয়া। বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এ কথা জানিয়েছেন।
সম্প্রতি মেক্সিকোতে দু’দিনব্যাপী জি-২০ সম্মেলনে বিশ্বের অর্থনৈতিক সঙ্কট মোকাবিলা বিষয়ে আলোচনার উদ্দেশ্যে মিলিত হন। এ সময় তারা বিশ্বের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোর পাশাপাশি সিরিয়া বিষয়েও আলোচনা করেন।
এ সময় প্রেসিডেন্ট ওবামার সঙ্গে বৈঠকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সিরিয়ার ব্যাপারে আগের অবস্থান থেকে সরে আসেন। তবে সম্মেলন শেষে আবারো তিনি সিরিয়ার ব্যাপারে বাইরের কারোর হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করেছেন তিনি।
এ ব্যাপারে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন বলেছেন, ‘জি-২০ সম্মেলনে ওবামাসহ অন্য নেতাদের সঙ্গে আলোচনার সময় সিরিয়া বিষয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টেছেন প্রেসিডেন্ট পুতিন। সিরিয়ায় রাজনৈতিক পালাবদলের ওপরই এখানে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।’
তবে সম্মেলন শেষে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ‘রাজনৈতিক আলোচনার মধ্য দিয়ে সিরিয়া সমস্যার সমাধান হওয়া উচিৎ। কোন রাষ্ট্রযন্ত্রের ক্ষমতায় কে থাকবে আর কে থাকবে না তা নির্ধারণ করার কোন অধিকার বাইরের কারোর নেই।’
প্রসঙ্গত, সিরিয়ায় চলমান সহিংসতা দমনে ব্যর্থতার দায়ে প্রেসিডেন্ট আসাদকে অপসারণ করার পক্ষে কথা বলছে যুক্তরাষ্ট্র। আসাদকে না সরালে সিরিয়ার ‘গৃহযুদ্ধ’ আরো ভয়াহত পরিস্থিতির দিকে এগোবে বলে তাদের আশঙ্কা।
এমন প্রস্তাব নিয়ে এর আগে যুক্তরাষ্ট্র দুইবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের গেছে। কিন্তু প্রতিবারই চীন ও রাশিয়ার ভেটোতে তা নাকচ হয়ে যায়।
আগের চেয়ে সিরিয়া পরিস্থিতির আরো অবনতি হওয়ার প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে আবারো অসম্মতি জানালো এ দুই দেশ। তবে সিরিয়া সার্বিকভাবে গৃহযুদ্ধের এগোচ্ছে- এমন আশঙ্কার কথা স্বীকার করেছে তারা।
চীন-রাশিয়ার এ অবস্থানের ব্যাপারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, সিরিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি জানা সত্ত্বেও আসাদ সরকারকে উৎখাত করার বিরোধিতা করছে চীন ও রাশিয়া।
ওবামা আরো বলেছেন, আসাদ সরকার সমস্ত বৈধতা হারিয়েছে। তাকে ক্ষমতাচ্যুত করা ছাড়া কোন সমাধানে পৌঁছানো অসম্ভব।
রাশিয়ার এমন অবস্থানের প্রেক্ষিতে তাদের বিরুদ্ধে সিরিয়ায় যুদ্ধাস্ত্র সরবরাহের অভিযোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। সম্প্রতি হেলিকপ্টার ও সমরাস্ত্রের একটি চালান আটকে দেওয়ার দাবি করেছে যুক্তরাজ্য।
উল্লেখ্য, রাশিয়া ও চীনের বিরোধিতার কারণেই সিরিয়ার বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে কোন কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারছে না জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ।
ব্যাপারটিকে আসাদ সরকারের প্রতি রাশিয়ার জোরালো সমর্থন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
বাংলাদেশ সময়: ১৭৪১ ঘণ্টা, জুন ২০, ২০১২
সম্পাদনা: শামসুন নাহার ও জাহাঙ্গীর আলম, নিউজরুম এডিটর