 |
ঢাকা: সশস্ত্র বন্দুকধারীদের হামলায় ১৬ সীমান্তরক্ষী নিহত হওয়ার পর থেকে সিনাইয়ে সামরিক উপস্থিতি জোরদার শুরু করেছে মিসর। এছাড়া সিনাইয়ের সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রেখেছে মিসরীয় বাহিনী। অভিযানে ইতিমধ্যে ছয় ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে এক বিবৃতিতে দাবি করেছে মিসরীয় নিরাপত্তা বাহিনী।
উল্লেখ্য, দিন কয়েক আগে সিনাইয়ের ইসরায়েল সীমান্ত সংলগ্ন একটি তল্লাশি চৌকিতে হামলা চালিয়ে অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা ১৬ মিসরীয় সীমান্তরক্ষীকে হত্যা করে। এর পর থেকেই সেখানকার সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে অভিযানে নামে মিসরীয় বাহিনী।
শুক্রবার মিসরের রাষ্ট্রীয় মিনা নিউজ এজেন্সি জানায় সেনা ও পুলিশের একটি যৌথ দল সন্ত্রাসীদের অনুসন্ধানে অভিযান চালিয়ে উত্তর সিনাই থেকে ওই ছয়জনকে আটক করে।
এদিকে বৃহস্পতিবার সিনাইয়ের আল আরিশ শহরের উদ্দেশ্যে ডজনখানেক মিসরীয় সাঁজোয়া যানকে যেতে দেখা গেছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম। ধারণা করা হয় এ শহরের নিকটবর্তী গ্রাম থেকে আসা বন্দুকধারীরাই সীমান্তরক্ষীদের উপর হামলা চালানোর জন্য দায়ী।
এদিকে বৃহস্পতিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে ইসরায়েল জানিয়েছে সিনাইয়ে হেলিকপ্টার মোতায়েনের জন্য মিসরকে অনুমতি দিয়েছে তারা। ১৯৭৯ সালের ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি অনুযায়ী সিনাইয়ে মিসরের সামরিক উপস্থিতি ইসরায়েলের অনুমতি সাপেক্ষে নিয়ন্ত্রিত।
এদিকে সিনাইয়ে মিসরীয় বাহিনীর অভিযানে সমর্থন লাভের জন্য স্থানীয় বেদুইন গোত্র প্রধানদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন মিসরের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বৈঠকে সরকারকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেয় বেদুইনরা।
সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে বৃহস্পতিবার রাতে মিসরীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গামাল আল দিন উত্তর সিনাইয়ের আল আরিশ শহরে স্থানীয় বেদুইন নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। বেদুইন নেতারা সিনাইয়ে মিসরের অভিযানকে সমর্থন দেন।
এছাড়া বেদুইন নেতারা গাজা থেকে মিসরাভিমুখী সব গোপন সুরঙ্গ বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন তবে একই সঙ্গে গাজার ওপর আরোপিত অবরোধকেও তুলে নেওয়ার দাবি জানান ।এ সময় ‘বেদুইনরা সব গোপন সুরঙ্গ এবং একই সঙ্গে গাজার ওপর অবরোধের বিরুদ্ধে’, বলে উল্লেখ করেন তারা।
উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে হামাস কর্তৃক গাজার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ইসরায়েলের আহবানে সাড়া দিয়ে গাজার ওপর অবরোধ আরোপ করেন মিসরের সাবেক স্বৈরশাসক হোসনি মোবারক।
বাংলাদেশ সময়: ১৯১৫ ঘণ্টা, আগস্ট ১০, ২০১২
সম্পাদনা:রাইসুল ইসলাম, নিউজরুম এডিটর