 |
| ছবি: সোহেল সরওয়ার/বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
চট্টগ্রাম: তত্ত্বাবধায়ক সরকা ব্যবস্থা পুর্নবহাল সহ বিভিন্ন দাবিতে ১৮ দলের ব্যানারে মঙ্গলবার হরতাল পালিত হলেও চট্টগ্রামে সক্রিয় ছিল শুধু মূল দল বিএনপি। সংগঠনটির নেতাকর্মীরা একাই মাঠে অবস্থান করে বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করেছেন। চট্টগ্রামে আটক, গ্রেপ্তারও হয়েছেন এ দলের নেতাকর্মীরাই।
শরিক দল জামায়াত ইসলামী বিচ্ছিন্ন কিছু কর্মসূচী পালন করলেও বিএনপির সঙ্গে যোগ দেয়নি। এর বাইরে শরিক অন্য সংগঠনগুলোর কোন কর্মকান্ডই হরতালে চোখে পড়েনি।
হরতাল শুরুর পর মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে নগর বিএনপির সভাপতি আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে দলের নেতাকর্মীরা নগরীর নাসিমন ভবনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে আসেন। দিনভর আমির খসরুর নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা নাসিমন ভবনের সামনে সড়কে অবস্থান নিয়ে মিছিল, সমাবেশ করেছেন।
এর বাইরে বিএনপি নেতাকর্মীরা নগরীর বাকলিয়া, কালা মিয়া বাজার, তৃতীয় কর্ণফুলী সেতু, বড়পোল, নয়াবাজার, সাগরিকা, বহদ্দার হাট, বাদুরতলা সহ কমপক্ষে ১৭টি পয়েন্টে হরতালের সমর্থনে মিছিল করেছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
কিন্তু বিএনপি কোন কর্মসূচীতেই পাশে পায়নি ১৮ দলীয় জোটভুক্ত শরিক দলের নেতাকর্মীদের।
এছাড়া হরতালের সমর্থনে কর্মসূচী পালনের সময় মঙ্গলবার নগর বিএনপির জ্যেষ্ঠ্য সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ান সহ কমপক্ষে ৭ নেতাকর্মী আটক হয়েছেন। কিন্তু শরিক অন্য দলের কোন নেতাকর্মী কর্মসূচী পালনের জন্য রাস্তায় নেমে আটক কিংবা গ্রেপ্তার হয়েছেন, এমন কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নগর বিএনপির সভাপতি আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাংলানিউজকে বলেন, `জোটভুক্ত দল হলেও হরতালে আমরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে কর্মসূচী পালনের চেষ্টা করি। আমরা আমাদের কাজ করেছি। আমাদের নেতাকর্মীরা পুলিশের ধাওয়া খেয়েছে, লাঠিপেঠার শিকার হয়েছে, গ্রেপ্তার হয়েছে। বাকি দলগুলো কি করেছে সেটা আমাদের জানা নেই।`
হরতাল চলাকালে জামায়াত ইসলামীর প্রকাশ্য কোন কর্মসূচী পালনের কথা শোনা না গেলেও সংগঠনটির চট্টগ্রাম মহানগর শাখার প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ উল্লাহ দাবি করেছেন, তারা নগরীর বহদ্দারহাট ও বাকলিয়া এলাকায় মিছিল করেছেন।
বিএনপি-জামায়াত ছাড়া ১৮ দলের শরিকদের মধ্যে এলডিপি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), মুসলিম লীগ, এনডিপি, ন্যাপ (ভাসানী) সহ আরও বিভিন্ন সংগঠন থাকলেও নগরীতে তাদের কোন কর্মসূচীর খবর পাওয়া যায়নি।
নগর জামায়াতের প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ উল্লাহ বাংলানিউজকে বলেন, `বিএনপি থেকেই আমাদের বলা হয়েছিল, আলাদাভাবে থানায়-থানায় কর্মসূচী পালন করতে। আমরা সাধ্যমত করেছি।`
নগর বিএনপির নেতাদের ধারণা, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে হরতাল আহ্বান করা হলেও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গ্রেপ্তারের পর ওই হরতাল তার গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ কর্মসূচীতে পরিণত হয়। এ কারণেই হরতালে চট্টগ্রামে জামায়াত সহ শরিক দলগুলোর ঢিলেঢালা অবস্থান ছিল বলে ধারণা করছেন তারা।
তবে নগর বিএনপির অপর এক নেতা বাংলানিউজকে বলেন, `১৮ দল বলা হলেও বিএনপি-জামায়াত ছাড়া বাকি দলগুলোর নগরীতে স্বতন্ত্রভাবে কর্মসূচী পালনের তেমন সামর্থ্য নেই। এজন্যই তাদের মাঠে দেখা যায়নি।`
এর আগে গত রোববার ১৮ দলের ব্যানারে অবরোধ কর্মসূচী পালনের সময়ও বিএনপি-জামায়াত ছাড়া চট্টগ্রামে আর কোন দলের কর্মকান্ড দেখা যায়নি। অবরোধে বিএনপি ও জামায়াত একসঙ্গেই কর্মসূচী পালন করেছে।
অপাংক্তেয় নেতাদের প্রলাপ: আমির খসরু
হরতাল চলাকালে নাসিমন ভবনের সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে নগর বিএনপির সভাপতি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফের খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার সংক্রান্ত বক্তব্য `অপাংক্তেয় নেতাদের প্রলাপ` বলে মন্তব্য করেছেন।
তিনি বলেন, `সরকারের পায়ের তলা থেকে যখন মাটি সরে যায়, জনপ্রিয়তায় যখন ধস নামে, তখন এসব অপাংক্তেয় নেতারা প্রলাপ বকেন। সরকার দেশকে সংঘাতের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।`
তিনি বলেন, `সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য নগ্নভাবে প্রশাসনকে ব্যবহার করছে। দিন দুপুরে ছাত্রলীগ কর্মীরা বিশ্বজিৎকে হত্যা করলেও তাদেরকে না ধরে সম্পূর্ন অন্যায়ভাবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে গ্রেপ্তার করেছে। আবু সুফিয়ানকে মিছিল থেকে গ্রেপ্তার করেছে।`
তিনি বলেন, `এ সরকার নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেন সহ ৬৪ জন নেতাকর্মীর নামে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। একের পর এক মিথ্যা মামলা ও গ্রেপ্তার করে সরকার ক্ষমতা টিকে থাকার অপচেষ্টা করছে। কিন্তু দেশের জনগণ আজ রাজপথে নেমেছে। এই দুর্নীতিবাজ সরকারকে ক্ষমতা থেকে না হটিয়ে জনগণ ঘরে ফিরে যাবে না।`
সমাবেশে সাবেক মন্ত্রী মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, `দুর্নীতিবাজ সরকারের পতন ছাড়া জনগণ ঘরে ফিরে যাবে না। গ্রেপ্তার নির্যাতন মামলা করে কখনো ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবেনা। মামলা হামলার পরিণাম হবে ভয়াবহ। মহাসচিবকে গ্রেপ্তার করে সরকার তার নিজের পায়ে কুড়াল মেড়েছে।`
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় শিশু বিষয়ক সম্পাদক বেগম রোজি কবির, সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক এ এম নাজিম উদ্দিন, মাহবুবুর রহমান শামীম, মনোয়ারা বেগম মণি, জেসমিনা খানম প্রমুখ।
বাংলাদেশ সময়: ১৮৫৭ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ১১,২০১২
আরডিজি/টিসি