 |
ঢাকা: পুঁজিবাজারের পতন থেকে রক্ষা পাচ্ছে না মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানিও। গত ১৯ কার্যদিবসে সূচক কমেছে ৫২৪ পয়েন্ট। সব ধরনের বিনিয়োগকারী মূলধন হারাচ্ছেন। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরাও বলছেন লোকসান বাড়ছেই।
ঈদের পরে এক দিনের জন্যও স্বস্তি মেলেনি বিনিয়োগকারীদের। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের কোনো উপায় খুঁজে পাচ্ছে না কেউই।
প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী তথা মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো বলছে, বিনিয়োগ করার মত সক্ষমতা এখন তাদের নেই। তাদের অনেকেই এখন লোকসানে রয়েছেন।
পুঁজিবাজারে অব্যাহত পতনে সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সামনে বিনিয়োগকারীরা অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের সরে যেতে অনুরোধ করে। এ সময় একজন বিনিয়োগকারী বলেন, “ভাই আমাদের আর কষ্ট না দিয়ে গুলি করেন, তাও অনেক ভালো।”
ডিএসই’র সভাপতি রকিবুর রহমান সোমবার সাংবাদিকদের বলেছেন, “কিছু কোম্পানি অনেক ভালো মুনাফা দিয়েছে। কিন্তু বুঝতে পারছি না, তারপরও কেন ওইসব কোম্পানির শেয়ারদর কমে যাচ্ছে।”
একটি মার্চেন্ট ব্যাংকের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ‘বাংলানিউজ’-কে জানান, “বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের সব শ্রেণীর বিনিয়োগকারীরাই তিনদিনে লাভ করতে চায়। অন্তত:পক্ষে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের এ ধরনের আচরণ থেকে সরে আসা প্রয়োজন।” তবে এ ধরনের বিনিয়োগকারী তৈরি করার জন্য ‘কর সুবিধা’ দেওয়ার কথা জানান তিনি।
তিনি বলেন, “এক বছর বা এর বেশি সময়ের জন্য যারা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করবেন তাদের জন্য কর রেয়াত সুবিধা দেওয়া হলে এর সুফল পাওয়া যেতে পারে।”
তবে হঠাৎ করেই প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা কেন বিনিয়োগ থেকে সরে গেলেন -এ প্রশ্নের জবাব দিতে পারেন নি কেউই।
পুঁজিবাজারের এহেন পরিস্থিতি মোকাবেলায় পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট সকলকে নিয়ে বৈঠক করার জন্য গত সোমবার অর্থমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ডিএসই’র সভাপতি।
বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ঈদের পর প্রথম কার্যদিবসে ডিএসই’র সাধারণ সূচক ছিল ৪ হাজার ৫৭৪ পয়েন্টে। গত ১৯ কার্যদিবসের পতনে তা কমে নেমে গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ০৫০ পয়েন্টে। আর এ সময়ে সূচক কমেছে ৫২৪ পয়েন্ট বা ১১ দশমিক ৪৬ শতাংশ।
এক হিসেবে দেখা গেছে, ঈদের পরবর্তী সময়ে ডিএসই’র বাজার মূলধন কমেছে ২২ হাজার ৯৮৯ কোটি টাকা। ঈদের আগে বাজার মূলধন ছিল ২ লাখ ৫৪ হাজার ৩৫৯ কোটি টাকা। এটা এখন ২ লাখ ৩১ হাজার ৩৭০ কোটি টাকায় নেমে এসেছে।
এদিকে বাজারের এমন অবস্থায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) যথাযথ ভূমিকা প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তারা বলছেন, বাজার পতনের নেপথ্যে কারো ‘এগ্রেসিভ সেল’ রয়েছে কি-না অথবা এর পেছনে কোনো পক্ষ জড়িত রয়েছে কি-না তা খতিয়ে দেখতে এসইসি’র প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
বাংলাদেশ সময় : ১১৪৫ ঘণ্টা, নভেম্বর ২৭, ২০১২
এইচএমএম/সোহেল রহমান : সিনিয়র নিউজরুম এডিটর