 |
ঢাকা: গ্রেফতার এড়াতে কৌশলে হরতাল পালন করতে চান ইসলামী সমমনা ১২ দলের নেতাকর্মীরা। এজন্য হরতাল সফল করতে ফজরের নামাজের পরপরই মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন পিকেটাররা।
তবে আড়ালে ইসলামী সমমনা ১২ দলের নেতাকর্মীরা জামায়াত-শিবির মাঠে থাকবে বলে নিশ্চিত হয়ে পুলিশও নাশকতা ঠেকাতে বাড়তি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ(ডিএমপি) সূত্রে জানা গেছে।
কেন্দ্রীয় শীর্ষ কয়েক নেতাকে গ্রেফতারের পর কর্মীদের মনোবলে দুর্বলতার ছাপের মধ্যে পুলিশের বাড়তি সতর্কতায় গ্রেফতার এড়াতে ভোরবেলা পিকেটিংয়ের কৌশলকে প্রাধান্য দিচ্ছেন হরতাল আহ্বানকারী দলগুলোর নেতারা।
তবে বিভিন্ন সূত্র বলছে, ইসলামী সমমনা দলের আড়ালে জামায়াত-শিবির হরতালের মাঠে থাকবে। তারা নাশকতা চালানোরও প্রস্তুতি নিচ্ছে।
মহানবী হযরত মুহাম্মদকে (সা.) কটাক্ষ করে যুক্তরাষ্ট্রে চলচ্চিত্র নির্মাণ ও ফ্রান্সের একটি ম্যাগাজিনে কার্টুন প্রকাশ এবং সংবিধান থেকে আল্লাহর নাম মুছে ফেলার প্রতিবাদ, শিক্ষনীতি ও নারীনীতির বিরোধিতাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে ইসলামী ও সমমনা ১২ দল শনিবার পল্টনে সমাবেশের ডাক দিয়েছিল।
কিন্তু ঢাকা মহানগর পুলিশ রাজধানীর পল্টন, কাকরাইল ও প্রেস ক্লাব এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করায় ইসলামী ও সমমনা ১২ দল শনিবার বেলা ১১টার দিকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশ করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। পরে তারা প্রেস ক্লাবের ভেতরের মাঠে সমাবেশ করে রোববার সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দেয়।
পরক্ষণেই নেতা-কর্মীরা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। আন্দোলনকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও একটি প্রিজন ভ্যানে আগুন ও একটি মোটর সাইকেল পুড়িয়ে দেন। ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে ভাঙচুর করা হয় আরও অন্তত ৭/৮টি গাড়ি। আহত হন পুলিশের ২৫/৩০ সদস্যসহ অর্ধশতাধিক।
দুপুর থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত পুলিশ আটক করে ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব আব্দুল লতিফ নেজামী, খেলাফত আন্দোলনের আমির শাহ আহমদউল্লাহ আশরাফ ও সহকারী সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি ফখরুল ইসলাম, জামায়াত নেতা গিয়াস উদ্দিন তালুকদারসহ ইসলামী সমমনা দলের অন্তত ৬০ নেতাকর্মীকে।
পুলিশ জানিয়েছে, ১২ দলের আড়ালে জামায়াত-শিবির এ হামলায় প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। রোববারের হরতালেও তাদের নাশকতার বিষয়টি মাথায় রেখে প্রস্তুতি নিয়েছে পুলিশ। শনিবার মধ্যরাত পর্যন্ত সম্ভাব্য নাশকতাকারীদের আটকেও পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা গ্রেফতারের পর ইসলামী সমমনা দলের কর্মীদের দৃঢ় মনোবলে ভাটা পড়ে। তারা সবাই এখন গ্রেফতার আতঙ্কে রয়েছেন। এজন্য যতোটা সম্ভব গ্রেফতার এড়িয়ে হরতাল সফল করতে চান তারা। তাই ফজরের নামাজের পর অনেকটা ফাঁকা পরিবেশ কাজে লাগিয়ে পিকেটিং করতে চান তারা।
এদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) জানিয়েছে, ধংসাত্মক ও নাশকতামূলক কাজে দায়ীদের শাস্তির জন্য একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ঢাকার আটটি ক্রাইম বিভাগে ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে থাকবেন।
ডিএমপির উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান বাংলানিউজকে জানান, রোববার ভোররাত থেকে পুরো ঢাকা মহানগরকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হবে। পুলিশের পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্টের দু’টি ডিভিশনের কয়েক হাজার ফোর্স ছাড়াও এসএফ’র ফোর্সকে হরতালের নিরাপত্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পোশাকধারী পুলিশের বাইরেও সাদা পোশাকে কয়েক শ’ পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
এছাড়া জরুরি অবস্থা মোকাবিলায় স্ট্রাইকিং ফোর্স ও গরম পানিবাহী রায়ট কার রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও ইসলামী দলের আন্দোলনের অতীত অভিজ্ঞতা থেকে জানা গেছে, সাধারণত ফজরের নামাজের পরপরই কর্মীরা মাঠে নামেন। জামায়াত-শিবিরও এমন কৌশল অবলম্বন করে।
তবে শনিবার ইসলামী সমমনা ১২ দলের পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ায় পুলিশ বাড়তি সতর্ক থাকায় হরতাল ততোটা প্রাণ পাবে না বলে মনে করছেন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। তাই দিনের বেলা তেমন সক্রিয় থাকবেন না পিকেটাররা।
ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার বেনজির আহমেদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, জনসাধারণের জানমাল রক্ষায় পুলিশ সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাবে।
বাংলাদেশ সময়: ০১২৫ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১২
এমআইএইচ/ সম্পাদনা: অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর